সাহিত্য নয়নে আপনাকে স্বাগত

"সাহিত্য নয়ন" সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত। ( প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই পত্রিকার কোন অংশ কেউ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে)

সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩

অর্চিতা ভট্টাচার্য

 আধুনিকতা

             -----অর্চিতা ভট্টাচার্য 

   

 এযাবৎ ,ভাতের ফ্যানে সুখ

উথলাতে দেখেছি বহুবার!

মা নিজের সমস্ত ক্লান্তি

দুহাত দিয়ে ঝেড়ে ফেলে

দুমুঠো ভাত হাতে নিতেই মুখে হাসি....


আমি মায়ের মুখের হাসিকে

ডাস্টার দিয়ে মুছে

কংক্রিট ও বালিতে সুখ খুঁজে 

নিয়ে আধুনিক হয়ে উঠি।

কণিকা দাস

 অর্ঘ্য 

      -----কণিকা দাস


যতবার এই পথ ধরে এগিয়ে চলি

যতবার ধসের পাশে এসে দাঁড়াই

ততবার আমার মনে জাগো তুমি নব নব রূপে।

বুকের ভেতর লাবডুব শব্দটা

তোমাকে আরো আপন করে নেওয়ার,

আরও ভালোবাসার আকুতি জানায়।

ঐ যে সাদা মেঘ ছুঁয়েছে তোমার কপোল

ঐ যে তিরতির ঝরে পড়ছে অভিমানী অশ্রু...

সেখানে ধ্যানে কাটাতে চাই কিছুটা সময়।

বিধ্বস্ত জীবনের হাহাকার পৌঁছে না কোন

সুখী মানুষের অন্তরমহলে।

ওরা তোমায় নিয়ে কাব্য করে, গান বাঁধে 

ওরা শুনতে পায়না তোমার দগ্ধ বুকের হাহাকার।

তোমার মাঝে দেখতে পাই 

আমার যন্ত্রণাঘন হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি 

তাই বারবার ছুটে আসি তোমার স্নেহছায়ায়

বারবার তোমার ছোঁয়ায় নবজন্ম লাভ করি।

কুমকুম দে

 মেঘবৃষ্টির গল্প

         -----কুমকুম দে 


কান্নাগুলো ভীষণরকম দামি,

কান্না গুলো শুধুই একা আমার,

নাগাল পাওয়ার সময় গেছে চুরি,

মন পড়ার ইচ্ছে নেইকো তোমার।


আমি এখন বৃষ্টি বৃষ্টি নদী,

সময় হলে জল ছুঁয়ে দাও যদি,

দেখবে শুধুই ধু ধু মরুর বালি,

মুহূর্তরা খরা দেবে খালি।


ক্যাকটাস আর খেজুর কাঁটার বন,

দূর প্রবাসে ছুটন্ত এক মন,

পাহাড় ডিঙিয়ে ঝড় যদি এক আসে,

মেঘ বৃষ্টি এক হয়ে তবে মেশে।

সম্রাট শীল

 চাবুকের মতো চাপরায়

                  ------সম্রাট শীল


আমার বসে থাকায়

বাবার চোখে হতাশার

চিহ্ন ভেসে উঠতে দেখি।


একবুক মেঘ

গর্জন করে উঠে

ভয়ে আতকে উঠি,

যেন বজ্রের আঘাত

সারা শরীরে চাবুকের

মতো চাপরায়!

সংহিতা চৌধুরী

 আমি সেই মেয়েটা

               ----সংহিতা চৌধুরী


কপটতা মাকরসার রাজ্য দখলে সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়

বাস্তবতা বাড়ি বদলে দ্বীপের এক কোনা বেছে নেয়, 


সম্পর্করা এক সুতোয় যন্ত্রনায় কাতর, ছিঁড়তে চায় অসামাজিক সম্পর্ক। 


পাঁকে পরে নদী ঘোলাটে হয়

অবশেষে যাত্রা শুরু এক নতুন নিয়মে। 


অভিমান, অভিযোগ দরজায় দাঁড়িয়ে, ওরা কিছু বলতে চায়। 

শকুনির সবকিছুই ব্যর্থ হয়


একদিন ধরা পড়ে, সব নষ্ট রাস্তায় চেপে যায়, 

ঘোড়ার চামড়া পিতল বর্ণের রূপ নেয়। 


আর কেউ নেই! 

বোকা, অপদস্থ আমি সেই মেয়েটা।

রূপালী দেবনাথ

 সত্ত্বা

      ----রূপালী দেবনাথ


লুকিয়ে জানার ইচ্ছায়

আয়নায় পড়েছি ধরা,

প্রতিনিয়ত ঢিল ছুঁড়েছো 

ফের, ভাঙা কাঁচে মুখ খুঁজেছি।

অনুভূতিদের বিষ খাইয়েছি,

মৃত্যু বার্তা -

আমকে যেন না পাও

হয়তো অতৃপ্ততায় মানুষ সুন্দর।

রাজকুমার ধর

 কবিতা 

    ---- রাজকুমার ধর 


কবিতা আমার সাথেই

তবু খুঁজে বেড়াই তাকে

সে আমাকে ডাকে

আমিও তাকে ডাকি

তার অনুভূতি জাগায় শিহরণ 

হৃদয়ের টানে 

তার হাত ধরে চলে যাই 

দূর থেকে দূরান্তে-

মহাসাগর থেকে মহাশূন্যে 

সাক্ষী কত যে চেনা-অচেনা দৃশ্য 

কত অণু-পরমাণু !

সুবল চক্রবর্তী

 অ আ ক খ

      -----সুবল চক্রবর্তী

      

না, ভয় নেই

এভাবে ইংরেজির তোড়ে 

ভাসিয়ে নিতে দেবো না

তোমাদের ।

শিশুর রাত ভেজা আদরের 

কাঁথার মতো তুলে রাখবো 

কাগজে কালো কালো অক্ষর।


যদিও এলোমেলো হাওয়া -

শুধু আমি নই, শত শত কবি

ঈশ্বরের খাজানা অ থেকে চন্দ্রবিন্দু

পৌঁছে দেবো প্রজন্মে

দুধদাঁত ওঠা সুবোধের কাছে।

উপমা বেগম

 খুব করে চাই

        -----উপমা বেগম


খুব করে চাই

কেউ একজন থাকুক,

হাসিতে বা কান্নায় মিশে

ভিড়ে বা জীবনের একাকিত্বে।

যাকে সবকিছু বলা যায়

হঠাৎ করে দূরে ঠেলা যায় ,আবার

কোন কারন ছাড়াই বুকে জড়িয়ে নেওয়া যায়।

খুব করে চাই

কেউ একজন থাকুক,

যাকে ভালোবাসা যায় কিংবা ঘৃণা ,

যাকে নিয়ে ঘর কুনো হওয়া যায়

অথবা হারিয়ে যাওয়া যায় দূর দূরান্তে-------

থাকবে না চিনা কেউ

শুধু থাকবে একজোড়া হাত খুব বিশ্বস্তের।

খুব করে চাই 

কেউ একজন থাকুক

যাকে কারণে-অকারণে জ্বালানো যায়,

যাকে মনে করে কেঁদে বুক ভাসানো যায়,

হঠাৎ সামনে আসলে হেসে বলা যায় ভালোবাসি।

যাকে নিয়ে একসাথে বৃদ্ধ হওয়া যায় মৃত্যু কামনায় 

অথবা চাই অমরত্ব। 

সত্যি খুব করে চাই কিন্তু কোথায় পাই।

শান্তনু মজুমদার

 কুয়াশা   

                                        ----শান্তনু মজুমদার, ত্রিপুরা


       জ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের এক শীতের ঘন কুয়াশা মাখা সকাল। জানুয়ারির ১ তারিখ। কলেজের থার্ড ইয়ারের গৌরবের পলিটিক্যাল সায়েন্স স্যারের বাড়িতে ক্লাস শুরু হয় সাতটা থেকে। কিন্তু গৌরব ঠিক সাড়ে ছয়টায় সাইকেল নিয়ে স্যারের বাড়ির রাস্তায় দাঁড়িয়ে। হাতে লাল খামে লাল টুকটুকে গোলাপ ফুলের নকশা করা লাল গ্রিটিংস কার্ড।

      গৌরব, পলাশ, রাজা, সুমিতা, মুন্নি, স্বপ্না, অপরাজিতা, জয় সব্বাই একসাথে ক্লাস নাইন থেকে একসাথে স্যারের বাড়ি পড়ছে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে এবার কলেজ লাস্ট ইয়ার। দীর্ঘ সাত বৎসর একসাথে। ঝগড়া, মান অভিমান, আবার মিল লেগেই থাকে। প্রচন্ড ভালো বন্ধুত্ব তাদের। কিন্তু এই সাত বৎসরের মধ্যে মুন্নির সাথে গৌরবের এক দিনও সামান্য কথা কাটাকাটিও হয় নি। গৌরব বরাবরই সেই প্রথম দিন থেকে মুন্নিকে ভালোবেসে ফেলেছিল। আর মুন্নিও তাকে বেশ অন্য চোখেই দেখত। এটা সবাই বেশ বুঝতে পারতো।

     এই শীতেও গৌরব ঘামছে। একই ব্যাপার শুধু ঘুরে ফিরে তার মাথায় আসছে। তাদেরই সহপাঠী অঞ্জনের বোনের বিয়ে ছিল গত মাসে। তাদের সবারই নিমন্ত্রণ ছিল। অঞ্জন ওরা বেশ বড়োলোক। কলেজে একজন স্যারের একটি বাজাজ স্কুটার ছাড়া যেখানে আর সবাইর শুধু সাইকেল, সেখানে অঞ্জন হিরো বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানেও ছিল বেশ জাঁকজমক। সেখানে সেদিন শাড়ী পরা মুন্নিকে দেখতে দুর্দান্ত লাগছিল গৌরবের। আর কেন যে কি হয়েছিল মুন্নিও সেদিন বিয়েবাড়ি থেকে বেরোনো অব্ধি গৌরবের সঙ্গ ছারে নি। সেদিনই গৌরব বুঝে গিয়েছিল যে মুন্নিও তাকে সমানতালে ভালোবাসে। পরের দিন অপরাজিতা আর স্বপ্নার কাছেও জেনেছে যে মুন্নি নিজে বলেছে, সে গৌরবকে পছন্দ করে। সেই শাড়ী পরা মুন্নির ছবিই বার বার গৌরবের চোখে আজ ভেসে উঠছে। সে যে আজ লাল গোলাপ সজ্জিত নিউ ইয়ার গ্রিটিংস দিয়ে তার ভালোবাসার কথা ফিল্মি কায়দায় মাটিতে হাটু গেড়ে মুন্নিকে জানাবে। ঠিক যেমন ছোট গাড়ির পেছনে স্টিকার লাগানো থাকে সেইভাবে।

     সাতটা বাজতে আর কিচ্ছুক্ষন বাকি। শীতের সকাল তাই সবাই একটু দেরি করেই আসে। কিন্ত মুন্নি তো ল্যান্ড লাইনে রাতেই জানিয়েছিল যে সে আজ তাড়াতাড়ি আসবে। তাহলে দেরি করছে কেন।

     একটা মোটরসাইকেলের আওয়াজ শোনা গেলো। ঘন কুয়াশা ভেদ করে একটা হেডলাইট সামনে আসছে। অঞ্জনের বাইকের পেছন থেকে শাড়ী পরা জিন্সের জেকেট গায়ে জড়ানো মুন্নি নামলো হাসি হাসি মুখ নিয়ে। বাড়িয়ে দিল গৌরবের দিকে নিউ ইয়ার ফ্রেন্ডশিপ গ্রিটিংস। যাতে লেখা, টু ডিয়ার ফ্রেন্ড গৌরব, উইথ লাভ ফ্রম অঞ্জন এন্ড মুন্নি। 

     এক ঝটকায় যেন গৌরবের সব দুশ্চিন্তা, মুখের ঘাম, হঠাৎ মন খারাপের অনুভূতি সব চলে গেলো। যেন নিজেকে প্রচন্ড হালকা, দুশ্চিন্তা মুক্ত লাগছে। ভগবান কে ধন্যবাদ জানিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেই সোজাসুজি একদম লো কলেজ। এবার জীবন গড়ার পথে মন দিতে হবে। লাভ ইস নট লাইফ, ইটস আ পার্ট অফ 

লাইফ। কুয়াশা কেটে রোদের আলো পড়ছে গৌরবের চোখে মুখে।

হেমন্ত দেবনাথ

       বেড়িয়ে পড়লাম সবুজের নেশায়

                                                                                    ------ হেমন্ত দেবনাথ


জুন ২০২৩ ইং সংখ্যা প্রকাশের পর......... 


            মায়াপুরে অবস্থানকালীন আমরা 14/04/2023 ইং সনে আমি, আমার সহধর্মিণী, কন্যা ও ছোড়দা শুধুমাত্র এই চারজন নবদ্বীপের “বলদেব জীঙ্গ”-র আশ্রমে চলে এসেছিলাম লঞ্চের মাধ্যমে। এখানে আমাদের গুরুগৃহ থেকে প্রসাদ গ্রহণ করে চৈতন্য মহাপ্রভুর নিজের বাড়ি বা জন্মস্থান, 60 উচ্চতাবিশিষ্ট চৈতন্য মহাপ্রভুর মূর্তি, বিখ্যাত বিষ্ণুপ্রিয়া মন্দির পরিদর্শন করলাম। ঐ বিষ্ণুপ্রিয়া মন্দিরে মহাপ্রভুর পাদুকা সংরক্ষিত আছে, যে পাদুকা জোড়া আজীবন বিষ্ণুপ্রিয়া কর্তৃক অর্চিত হয়েছে। শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব সংস্কৃতির ঐকান্তিক সমন্বয়ে নবদ্বীপ ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। সংস্কৃত ও ন্যায় চর্চার উপযুক্ত স্থান হিসেবে একদিন নবদ্বীপ শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। নবদ্বীপ বাংলার সেন রাজাদের শাসনকালে (সম্ভবত 1159-1206 সালে) বাংলার সেন রাজাদের রাজধানী ছিল। উল্লেখ্য, 2019 সালে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নবদ্বীপকে "Heritage Town" বলে ঘোষিত হয়েছে। যাক, নবদ্বীপ পরিক্রমা শেষে আমরা পুনরায় মায়াপুরে ফিরে এসেছিলাম ।

        পরিশেষে গত 16/04/2023 ইং তারিখে মায়াপুর থেকে রাধাগোবিন্দকে প্রণাম জানিয়ে 1 ঘন্টা 20 মিনিটে "INTERLITY Exp" ট্রেনের জার্নি করে আমরা কোলকাতার হাওড়া স্টেশনে আসি ও অদূরবর্তী দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছে যাই। মন্দির প্যালেস গেষ্ট হাউসে” রুম ভাড়া করে থাকলাম দক্ষিণেশ্বরে । এখানে আমরা 17/04/2023 ইং এবং 18/04/2023 ইং ঐ দুইদিন অবস্থান করেছিলাম ।

        উল্লেখ্য, 17/04/2023 ইং তারিখে সকালে আমরা মেট্রো ট্রেন সহযোগে চলে গিয়েছিলাম দক্ষিণ 24- পরগণা জেলার অন্তর্গত আলিপুর বুটানিক্যাল ও জুওলজিক্যাল পার্কে । 1876 সালের 1 লা জানুয়ারি ব্রিটিশ প্রিন্স অব্ ওয়েলস 7ম এডওয়ার্ড প্রায় 45 একর এলাকা আয়তনবিশিষ্ট আলিপুর চিড়িয়াখানা উদ্বোধন করেছিলেন । প্রথমেই চিড়িয়াখানার মূল প্রবেশদ্বারে ঢুকে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে কিছু জলযোগ সেরে নিয়ে আমরা পরিক্রমা শুরু করে দিলাম । এখানে আমরা প্রত্যক্ষ করেছিলাম শিম্পানি, সিংহ, বাঘ, হরিণ, হাতি, জেব্রা, বানর প্রভৃতি । নানা প্রজাতির পাখিও দেখেছিলাম, যেমন- কালিডা পাখি, Red Data List অনুসারে এরা “Least Concern" পৰ্য্যায়ভুক্ত, “Painted Stork” পাখি । এগুলো ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে পাওয়া যায়। এমু পাখি, গ্রেট গ্রীণ ম্যাকাও পাখি (এগুলো Critically Endangered পর্য্যায়ভুক্ত)।

      স্পন-বিল বা খুন্তে বক (Plantalea Leu Coradia), Rosy Pelicam, যা পাঞ্জাব, আসাম ও দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায়। আর আছে সাদা কাস্তে বক বা White Ibis [Threskiornis Aelhiopica] এগুলো নেপাল, বাংলাদেশ, মায়ানমার ও পাকিস্তানে পাওয়া যায়। আর আছে Sulpher Crested Cockatoo বা কাকাতুয়া গ্যালেরিটা - এগুলো নিউ গিনি, অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায় ।

         পরের দিন 17/04/2023 ইং তারিখে আমরা চলে এসেছিলাম কোলকাতার হাওড়া জেলার হুগলী নদী (এখানকার গঙ্গা নদী)-র পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ও পীঠস্থান সেই বিখ্যাত বেলুড় মঠ। সাংস্কৃতিক সমন্বয়বাদের একটি অনুপম নিদর্শন । শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের পবিত্র অস্থি কাঁধে করে এনে স্বামী বিবেকানন্দ এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন বলে কথিত হয় । উল্লেখ্য, 1938 সালের 10ই জানুয়ারী মন্দিরের উদ্বোধন হয় । প্রায় 40 একর জমির উপর অবস্থিত বিভিন্ন কক্ষের মধ্যে আছে :- মন্দিরের ভেতরে বেদীর উপর অধিষ্ঠিত শ্রীরামকৃষ্ণের শ্বেতমর্মর মূর্তিটি, বিশাল উপসনাকক্ষ, শ্ৰীমা সারদাদেবীর মন্দির, স্বামী ব্রক্ষ্মানন্দ মন্দির, গ্রন্থাগার, আম্রকানন, পুষ্পোদ্যান ইত্যাদি । গঙ্গার ফুরফুরে বাতাস মন্দিরের গা ঘেঁষে যায়, এতে মন এক অনাস্বাদিত অনুভূতি লাভ করে । ভ্রমণ শেষে আমরা আবার হোটেলে ফিরে এলাম ।

       পরের দিন অর্থাৎ 18/04/2023 ইং তারিখে আমরা চলে গেলাম, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ স্মৃতি বিজড়িত ও রাণী রাসমণি কর্তৃক নির্মিত কামারহাটি বিধানসভাভুক্ত উত্তর 24 পরগণা জেলাস্থিত দক্ষিণেশ্বরের সেই ভারত খ্যাত ভবতারিণী মন্দির পরিদর্শনে । দক্ষিণেশ্বরের ঐ মন্দিরটি গঙ্গা নদীর (এখানে হুগলি নামে খ্যাত) পূর্ব পাড়ে অবস্থিত । উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনকালে 1847 সালে মন্দিরের কাজ শুরু হলেও 1855 সালে মন্দিরের কাজ শেষ হয়েছিল । আমরা লঞ্চে করে সেখানে উপস্থিত হলাম । প্রতিদিন সকাল 6 টা থেকে দুপুর 12 টা এবং বিকেল 3 টা থেকে রাত 9 টা পর্যন্ত মন্দির দর্শনার্থীদের জন্যে খোলা থাকে । সকাল ৪ টায় আমরা সেখানে চলে গিয়েছিলাম । তারপর টিকিট কেটে, মোবাইল ও জুতো বাইরে নির্দিষ্ট সংরক্ষণ-কক্ষে জমা রেখে ফুল-বেলপাতা হাতে নিয়ে মূল মন্দিরে প্রবেশ করে, পুজো দিই । এখানে রয়েছে 12 টি শিব মন্দির, 1 টি রাধাগোবিন্দ মন্দির এবং 1 টি মূল কালি মন্দির । শ্রীরামকৃষ্ণ দেব ব্যবহৃত কিছু স্মৃতিচিহ্ন একটি কক্ষে সংরক্ষিত আছে । পবিত্রধাম বিচার করে অনেকেই দক্ষিণেশ্বরকে “বারাণসীর যমজ শহর” বলে অভিহিত করেছেন ।



ক্রমশ চলবে........ 


সুব্রত রায়

 এক্সপেরিমেন্ট

                                    -----সুব্রত রায়

         খারাপ খবর দ্রুত ছড়ায়। ব্যতিক্রম ঘটলো না এবারও। দলে দলে লোক এসে জড়ো হলো অহর্নিশবাবুর উঠোনে । উঠোন আসলে একটা সেকেলে শব্দ। কথাটার সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানার ভাবনা জড়িত। ফ্ল্যাটবাড়ির উঠোন সার্বজনীন। অহর্নিশবাবু এখন এখানেই শায়িত। পুরপরিষদে খবর গেছে, জবাব ভাল আসেনি। শব-গাড়ি পাওয়া যায়নি। ব্যর্থতার এই খবর জনতা লুফে নিলেন। অহর্নিশবাবু সেই আলোচনার তলায় চাপা পড়ে গেল।

       বাঁশ ,দড়ি, চাটাই, কলসী জোগাড় করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেল। উৎসবের আবহে অহর্নিশবাবু পড়ে রইলেন একপাশে।

        বহন করছে চারজন। এর মধ্যে মাত্র একজন অহর্নিশবাবুর আওলাদ। বাকিদের পেছনে অলরেডি খরচা হয়ে গেছে একরাউণ্ড। যেতে যেতে পাড়ার কাজের মাসি থেকে রাজনীতি ছুঁয়ে মহাকাশ বিজ্ঞান ,সব আলোচনাই শুনতে হল অহর্নিশবাবুকে। সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশজন হবে। কথার বৈচিত্রে আবারও একবার হারিয়ে গেলেন অহর্নিশবাবু।

      উনুনে চাপিয়ে সটকে পড়লেন প্রায় সকলে। অফিস, চেম্বার, স্কুল,কলেজ, দেরী হয়ে যাচ্ছে যে। এখন মাত্র দুজন পেইড ডোম ,আর কেউ কোথাও নেই। ওরা এইমাত্র আড়ালে চলে গেছে। উদ্দেশ্য একটু ঢুকুঢুকু। এই সুবর্ণ সুযোগ।দ্রুত উনুন থেকে নেমে চোঁ-চা দৌড় লাগালেনঅহর্নিশ বাবু । পুরপরিষদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন মনে মনে ।

রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩

মলাট


 

সম্পাদকীয়

       জুনের প্রথম দিবসে ভারতবর্ষে সাধারণত বর্ষার আগমন ঘটে। কিন্তু এবছর বর্ষারানীর আবির্ভাবে অনেক বিলম্ব। বন কেটে নগরায়ন আর যন্ত্রসভ্যতার বিষবাষ্পে আজকের বর্ষা অনেক কিছুই হারিয়েছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হয়েও এর জন্য কি আমরা দায়ী নই? এখনো সময় আছে সচেতন হওয়ার। 

     দাবদাহ গ্রীষ্মে খরতপ্ত রোদে প্রচন্ড দহন দাহনে যখন মানুষ কামনা করে শান্ত নীড়ের স্নিগ্ধতা, তখনই ধরণীর বুকে আনন্দ-ধারার মতো নেমে আসে মেঘমন্দুরা বর্ষা। বর্ষার আগমন আসলে বৃষ্টির মঙ্গলধ্বনি। বর্ষাকাল মানে ঝুমুর ঝুমুর বৃষ্টি। সবুজে সবুজে আর নীলিমায় নীল আমাদের দেশের প্রকৃতি গেয়ে উঠেছে বর্ষামঙ্গল। বর্ষার আগমনে সহসাই মন নেচে ওঠে ময়ূরের মতো করে। প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠা মন কিছুতেই ঘরে বসে থাকতে চায় না। নিজের অজান্তেই কেউ গেয়ে উঠে মেঘলা দিনের গান------"এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকেনা তো মন, কাছে যাবো কবে পাবো ওগো তোমার নিমন্ত্রণ। বর্ষা জীবনের স্বপ্ন দেখায়। বর্ষার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলা হয়ে ওঠে রূপসী। আমাদের দেশের বৈষ্ণব কবি থেকে শুরু করে আধুনিক কবি-লেখক সকলের মনকে প্রভাবিত করেছে সুন্দরী বর্ষারানী। কবি ও লেখকদের ভাবনায় বিভিন্ন রূপে ফুটে উঠেছে বর্ষার ছবি। আর তাই বর্ষার মঙ্গলময়ী রূপের কথা স্মরণ করে, বিশেষ কিছু করার ইচ্ছা থেকে প্রকাশিত হলো সাহিত্য নয়নের " বর্ষামঙ্গল উৎসব সংখ্যা ৩"। আমাদের সম্মানিত কবি-লেখকদের লেখনীর ছোঁয়ায় এবং কবি ও প্রচ্ছদশিল্পী কবিতা সরকারের অংকিত প্রচ্ছদে সংখ্যাটি পেয়েছে পূর্ণতা। আজ তবে এটুকুই থাক, বাকি কথা হবে পরে। 


                                                                                                                                                           শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধাসহ--------         

  রাজেশ ভট্টাচার্য্য

  সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন

অমল কুমার মাজি


 এবার এসো নামি

       -----অমল কুমার মাজি


ক্ষুব্ধ তপন মগ্ন আপন তেজে

রুদ্রবীণায় দীপক ঝঙ্কারিছে

ক্রন্দনরোল উঠিল বিশ্বে বেজে

ভুবন বক্ষে বিষাদ সঞ্চারিছে।



দগ্ধ বৃক্ষ,প্রাণহীন জলাশয়

তপ্ত জৈষ্ঠ্য,করুণ কঠিন ক্ষণ

দীর্ঘ দিবসে কি যেন কিসের ভয় 

কে যেন ক'রেছে ধ্বংসের মহাপণ।



হে আষাঢ় এসো শান্তির বারিধারে

মেঘমল্লারে হোক নব অভিষেক 

ডাকিছে ধরণী তোমারেই বারে বারে।

প্রাণে প্রাণে করো আনন্দ উদ্রেক। 



রমঝম তব বাজিয়ে নূপূর ধ্বনি 

শান্তির বারি বরিষ ধরণী মাঝে

এসো সুন্দর শ্যামল নয়নমনি

সাজাও পৃথিবী নব পল্লব সাজে।।

কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


 বাদল- ধরা


         -----কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


জানিনে ঠিক 

কোন সময় থেকে 

আছি বসে

তোমার পথ চেয়ে। 

এটা কী 

ঊষা না গোধূলি ছিলো 

তা-ও আজ আর 

পড়ছে না মনে।

কবে যে তুমি 

আমার সর্বাঙ্গে 

দিয়েছিলে শীতল চুম্বন 

আজ আর পারছি না 

মনে করতে। 

তোমার তো তা-তে 

কী আসে যায়? 

আমার উচাটন  

তোমার মনে আনন্দ জাগায়!

গ্রীষ্মের দহন জ্বালা 

শরীরে ফোঁটায় হূল।

বিষফোঁড়া, ঘামাচি,

চুলকানির বাড়ন্তে বাঁধে গন্ডগোল।  

আমার বুকের উপর 

নিজেকে যখন দাও 

উজার করে , 

ময়ূর নাচে রং বেরং এ-র পেখম ধরে। 

তৃষ্ণা মেটায়

তৃষিত চাতক চাতকী,

শীর্ণকায়া নদীও 

হয় রূপবতী  

যৌবনা,গর্ভবতী।

আমি ধরা! 

আমার দেহ- মনের দহন 

তোমার আগমনে হবে দমন। 

তুমি এসো, এসো আমার ই 'পরে। 

হে বাদল! 

আমি তোমারই কল্পনা, 

এসো, এসো 

দু' জনে মিলে আঁকি 

প্রেমেরই আলপনা। 


 

রচনাকাল:- ০৩/৬/২০২৩, শনিবার।

মধুমিতা ভট্টাচার্য


 পুনর্জন্ম হোক

    

      ---- মধুমিতা ভট্টাচার্য


গাছ,মাটি আর জলের বন্দনা করি,

ঘুমের মন্ত্র উচচারণে নেমে আসুক 

পুনর্জন্ম।

আমাকে পাতার দেশে নিয়ে

চলো…

বাতাস আমার অসুখ শুষে নিক,


আমি মাটির কাছে আনত হবো,

পাতার শরীরে এঁকে দেবো

চুম্বন।

   বীজ আহরণ করবো,

মন্ত্রপূত সূর্যকণা পুঁতে দেবো মৃত্তিকার

গর্ভাশয়ে।

জ্যোতির্ময় রায়


 স্পর্শের ক্যানভাসে


                ------জ্যোতির্ময় রায়


ফাগুনপাখির আমেজ নিয়ে বসন্ত আসে ফি-বছর

ফোটে ফুল 

স্তরে স্তরে জমে থাকা ধুলোর পর্দা ছিঁড়ে পথগাছে

আসে মুকুল। 

বসে যাওয়া স্বরে রব আসে শিল্পীপাখির

কুহুতানে শিস  

বসন্তঢাকির

অভ্যস্ত ছবিতে জীবনবসন্তে যৌবনই আগুন 

জ্বলে ফাগুন। 


এ যে সায়াহ্ন 

মাটির পিদিমশিখায় তৃপ্ত

ফি-বছর পলাশ-শিমূলরঙে 

আকাশ দীপ্ত


এবেলা মনরাঙায় ফেলে আসা পট

পাকাচুলে জীবন ছটফট

আছি স্পর্শের ক্যানভাসে

বসন্তবাতাসে।

বিধান চন্দ্র দে


 অবিন্যস্ত রাত

       ----- বিধান চন্দ্র দে


আজ নিদ্রাহীন রাত, 

সতর্ক প্রহরী সদা জাগ্ৰত ৷ 

অনন্ত স্বপ্নেরা উকিঝুকি দেয় 

নিরন্ন হাঁড়িতে। সাজানো কথার 

বর্ম খুলে ফেলেছে অক্ষর__

গণতন্ত্র মানে,মানুষের জন্যে 

মানুষের দ্বারা, মানুষের শাসন।


সবই আজ ছড়ানো অক্ষর। 

অবিন্যস্ত রাত,আলুলায়িত 

প্রহরীরা হেঁটে যাচ্ছে পথে 

আর লিখে রাখতে চেয়েছে 

কয়েকটি যৎসামান্য কবিতা ।

চিরশ্রী দেবনাথ


 কৈলাসহর আমার বাবার বাড়ি


                      -----চিরশ্রী দেবনাথ



কৈলাসহর আমার বাবার বাড়ি

আমি চলে আসার পর কৈলাসহরে প্রতিদিন আত্মহত্যা হয়

এসব আত্মহত্যার জন্য দমকল ছুটে আসে না

দেহ গুলোর পোস্টমর্টেম হয় না

আসলে তাদের দেহই ছিল না

ছায়া আর রোদ দিয়ে তৈরি ছেলেমানুষ শরীর

সংখ্যায় অনেক তারা, 

আমার পঁচিশ বছরের '  আনন্দদুঃখআকাশপ্রবণতা '

যেগুলো এখনো প্রত্যেকদিন আলাদা আলাদা করে মরে যায়

আমি টের পাই, খুব বুঝতে পারি হাওয়ার দিক পরিবর্তনে

দুহাত বাড়িয়ে এই চির অশরীরীদের মুঠোতে বন্দী করে, নোনা জল ঢালি

কৃত্তিকা ভট্টাচার্য

                       তুলির আঁচড়ে
 

জয়ন্ত দেবনাথ


 আমার নবার্ক

           ------জয়ন্ত দেবনাথ


কবিতাকে পাই না খুঁজে

তুমি তাকে চাও। 

ছন্দ ছাড়া লেখা-কথা, কাব্যের স্বাদ পাও। 

ছন্দ যদি বা হল, নেই কোন অর্থ, 

তবু হ'তে হবে কবি, নেই কোন শর্ত। 

ভস্মেতে ঘি ঢেলে ছাঁইতে রত্ন খোঁজ! 

যার নেই কোন বোধ, তাকেও 'বিজ্ঞ'বোঝ! 

যে ফুলে সুবাস নেই পাঁপড়ির রঙ দেখ, 

যার কোন জ্ঞান নেই, তার থেকেও কিছু শেখ! 

যে কথা হল গাঁথা নেই রস-অর্থ । 

এখানেই সার্থকতা এ আমার 'নবার্ক'।

অনুশ্রী গোস্বামী


 অনন্ত তৃষ্ণা


       -----অনুশ্রী গোস্বামী



অনন্ত সময়ের অনন্ত তৃষ্ণা

 জ্বলন্ত প্রদীপ আধারের নিশানা

তোমার শহরের খবর রাতের প্রহরী জানে

আমাকে খোঁজার আর নেই কোন মানে।