সাহিত্য নয়নে আপনাকে স্বাগত
রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
সম্পাদকীয়
আজ তবে সম্পাদকই দায়ী থাক। "সাহিত্য নয়ন"- এর চতুর্দশতম সংখ্যাটি প্রকাশে এতো দেরী হওয়ার কথা তো ছিলনা। বাগিচায় ঠিক সময় মতোই ফুল ফুটে ছিল। দেবতারাও ছিলেন পূজার পুষ্প গ্রহণে প্রস্তুত। তবে কেনো পূজায় এতো বিলম্ব ? এতো অন্ধকারে কেমন করে পূজার উপকরণ সাজাই বলো? তাই অনিচ্ছাকৃত এই বিলম্বের দায় মাথায় তোলে নিলাম। হয়তো একদিন সত্যিকারের ভোর হবে। থাকবেনা কোনো আঁধার। সুস্থ প্রভাতের আলো ছড়িয়ে পড়বে দিকে দিকে। মুক্তভাবে মুক্ত বাতাস থেকে নিতে পারবো ভয়মুক্ত শ্বাস। যদিও আজ সময়টা বড়ো কঠিন। কিন্তু আশায় বাঁচে চাষা। তাইতো সুস্থ ভোরের আশায় আগামীর দিকে চেয়ে আছি।
প্রিয় পাঠক, অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আপনাদের ভালোবাসার টানে আবারো হাজির হলাম "সাহিত্য নয়ন" সাহিত্য পত্রিকা চতুর্দশতম সংখ্যাটি নিয়ে। জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে যখন বদ্ধ খাঁচায় নিভৃতে বসে থাকি, তখনই আপনাদের ভালোবাসার আঘাতে বার বার জেগে উঠি। কবি কিশোর কুমার ভট্টাচার্যের ভালোবাসার কয়েকটি পংক্তি দায়বদ্ধতা আরোও বাড়িয়ে দিল। উনি লিখেছেন ------
সময়ে অসময়ে লভিবে যন্ত্রণা
বিরক্ত হইলেও সহিতে হইবে
তবেই তো "তুমি ওগো কর্ণধার!"
আনন্দ মাখা মনখানা বসুধার।
তুমি হে রাজার রাজা!
হে রাজেশ!
অসিখানা হাতছাড়া আজ
মসি খানা সাজিয়েছ সুন্দরে বীণাপানির কৃপায়।
শাসন - শোষণ ভুলিয়া
লভিয়াছো সেবা ব্রত
এই কাজে তো যন্ত্রণার কাঁটা
বিঁধিবে অনবরত।
এবারের সংখ্যায় কবিতা - প্রবন্ধের পাশাপাশি শিশুশিল্পীদের উৎসাহ বৃদ্ধির কামনায় প্রকাশিত হয়েছে তুলির সৃষ্টিকেও। শিল্পীর তুলির আঁচড়ও কথা বলতে জানে। করতে পারে ভাব বিনিময়। অনেকক্ষণ ধরেই বক্ বক্ করে যাচ্ছি, আগামী সংখ্যায় না হয় বাকিটা পূর্ণ করে নেব। চলুন সবাই মিলে একটু দেখে নেই নয়নের পাতায় কি কি অপেক্ষা করে আছে। আপনাদের সার্বিক মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা সহ------
রাজেশ ভট্টাচার্য্য
সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন
অমল কুমার মাজি
ঝড়
------অমল কুমার মাজি
ভিতরের পৃথিবীতে আচমকা ঝড় ওঠে
মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায়
শরীরের ধমনীতে তপ্ত রক্ত ছোটে
বিবেকের দংশন যাতনা বাড়ায় !
বাতাসে দু'হাত ছুঁড়ে মিছিল এগিয়ে চলে
নিষ্ফল চিৎকারে হায়!
উপোসী স্নাতক শুধু দুপুর গড়িয়ে গেলে
এক খিলি পান কিনে মুখটা রাঙায় !!
কতশত দ্রৌপদী প্রতিদিন প্রতি পলে
হ'য়ে যায় সংবাদ -শিরোনাম
সাজানো মঞ্চে তবু ভাষণের কারসাজি
"থোড়-বড়ি- খাড়া" আর "খাড়া-বড়ি-থোড়" অবিরাম!!
হাইজ্যাক হ'য়ে যায় বিশ্বকবির গান
নেই কপিরাইটের বন্ধন
লুটেরার উল্লাস ছাপিয়ে শ্রবণে আসে
মাতৃভূমির চাপা ক্রন্দন !!
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
অমর ঊনিশ
-------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
হায়রে ঊনিশ! মননে
স্মরণে অস্তিত্বশীল।
তোমার স্মৃতি রোমন্থনে
ছুটেছে চিন্তা প্রগতিশীল।
এপার - ওপার মিলেমিশে একাকার
মাঝখানে সেতু ভাষা
মানতে পারেনি রাজাকার।
হে উনিশ তুমি আছো স্মৃতিতে
শিলচর রেলস্টেশনে,
আছো ইতিহাসের পাতায়
শহীদের সম্মানে।
হেমন্ত দেবনাথ
"সত্যের পথে ভারতীয় দর্শনের অগ্রগতি"
-------হেমন্ত দেবনাথ
(এপ্রিল মাসের সংখ্যার পর)
কিন্তু বেদ বাহ্য দর্শন বেদবিরোধী দর্শন নয়। এদের উৎস হল---" আগম"- অর্থাৎ বেদবাহ্য দর্শন গুলোর উৎস বেদ নয়, এগুলো বিরোধীও নয়। বেদ বাহ্য দর্শন গুলো হচ্ছে শাক্ত দর্শন, বৈষ্ণব দর্শন ও শৈব দর্শন। শাক্তদের মূল ভিত্তি হলো শাক্তাগম, বৈষ্ণব দর্শনের মূল উৎস হল বৈষ্ণবাগম এবং শৈব দর্শনের মূল উৎস হল শৈবাগম।
আস্তিক দর্শন গুলোর উৎস হলো বেদ। বেদ কথার অর্থ হল "জ্ঞান"। বেদ চার প্রকারের--- ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। প্রাচীনতম বেদ হলো ঋগ্বেদ। প্রতিটি বেদের চারটি অংশ রয়েছে -- সংহিতা (মন্ত্র), ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, ও উপনিষদ। দেবদেবীর উদ্দেশ্যে রচিত স্তোত্র বা মন্ত্র হলো সংহিতা, বৈদিক যজ্ঞের নিয়মাবলী আছে ব্রাহ্মণ অংশে। বাণপ্রস্থের সময়ে অরণ্যে জীবনযাপনের নিয়মাবলী নিয়ে লেখা হয়েছে আরণ্যক, জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে নানা জিজ্ঞাসা বিষয়ক উচ্চতর দার্শনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে উপনিষদে।
সংহিতা ও ব্রাহ্মণকে বলা হয় কর্মকাণ্ড। উপাসনাকান্ড বলা হয় আরণ্যককে। উপনিষদকে বলা হয় জ্ঞানকাণ্ড। "যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠান নিষ্প্রয়োজন" -- এ কথা ব্যক্ত হয়েছে শতপথ ও তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে। উপনিষদ হল জ্ঞানকান্ডের চরম পরিণতি। বেদের অন্তর্ভুক্ত নয় বেদাঙ্গগুলো । বেদের অর্থ ও অর্থ বোধের প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছিল বেদাঙ্গ। বেদাঙ্গ হল ছয়টি-- শিক্ষা, কল্প, নিরুক্ত, ছন্দ, জ্যোতিষ ও ব্যাকরণ। মীমাংসা ও বেদান্ত সরাসরি বেদ নির্ভর। সাংখ্য, যোগ, ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করে নিলেও স্বাধীন যুক্তি তর্কের মাধ্যমে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছে। কাজেই এগুলো পরোক্ষভাবে বেদ নির্ভর। বেদান্ত দর্শন ক্ষুরধার যুক্তিতর্কের মাধ্যমে এদের জ্ঞানের দিকটি অর্থাৎ ব্রহ্মের স্বরূপ, জীবাত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক ইত্যাদি দার্শনিক তত্ত্বগুলোর আলোচনা করেছে। মীমাংসা-দর্শন বেদের যাগ-যজ্ঞ ও ক্রিয়া অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। এই দুই দর্শনের পার্থক্য তুলে ধরার জন্য মীমাংসাকে পূর্ব মীমাংসা বা কর্ম মীমাংসা এবং বেদান্তকে উত্তর মীমাংসা বলা হয়েছে।
বেদ স্বতন্ত্র ও বেদবিরোধী দর্শনগুলোর উৎস হল-- কোনোও শ্রদ্ধেয় মনীষী বা সত্যদ্রষ্টা ব্যক্তির মত। যেমন- ঋষভদেবকে জৈন দর্শনের আদি প্রচারক তীর্থঙ্কর বলা হয়, গৌতম বুদ্ধকে বৌদ্ধ ধর্মের এবং চার্বাক ঋষি অথবা বৃহস্পতি ঋষিকে চার্বাক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
(ধারাবাহিক চলবে)
রাজেশ ভট্টাচার্য্য
দ্ব্যর্থক ভালোবাসা
------রাজেশ ভট্টাচার্য্য
ভালোবাসি,
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
মানবিকতায় ভালোবাসি।
মনুষ্যত্ববোধে ভালোবাসি।
হ্যাঁ, তুমিও আমাকে ভালোবাসো জানি।
আমার না বলা কথা তুমি বুঝে নিতে পারো।
করতে পারো তার চুলচেরা বিশ্লেষণ।
লাগাতে পারো ভালোবাসার বিজ্ঞাপন।
তাতে না হয় ভেঙ্গেই যাক আমার দর্পণ।
তাতে তোমার কি?
তোমার জয় জয় করবে পুরো সমাজ।
আর তুমি হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ প্রেমিকা।
তবুও না হয় তোমাকে ভালোবাসলাম!
মনুষ্যত্ববোধের ভালোবাসা।
জয়ন্ত দেবনাথ
কবিতাকে চাই
-----জয়ন্ত দেবনাথ
সে তো আমায় ছেড়ে গেছে কোথায় তারে পাবো!
ঠিকানাটা দেবে আমায়? আনতে তারে যাবো।
সে ছিল যে আমার মনে পদ্ম পাতার জল,
হৃদয় সরোবরে ঢেউয়ে করত টলমল।
হৃদয় হল শুষ্ক মরু দুঃখের তাপে দহে,
পদ্ম পাতার শিশির সে যে কি করে সে সহে!
কবিতা সে দিল ফাঁকি মনের দুয়ার খুলে,
বহু দূরে গেছে চলে আমায় গেছে ভুলে!
কোথায় তারে পাব আমি? তোমার তাকে চাই!
নিঃরস গদ্যের হৃদয় আকাশ কাব্যের মেঘ নাই।
বর্ণা দাস
সুখপাখি
------বর্ণা দাস
সন্ধ্যা নামে রোজ
পাখিরা ফিরে আসে
শয় শয় ঘরে ।
পথের পানে চেয়ে
দুয়ারে আমি থাকি বসে
কে যেন আসবে ফিরে ।
নদীর ঘাঁটে নৌকো লাগে
যাত্রী ওঠে যাত্রী নামে
কত মানুষের আনাগোনা।
হাট বসে বেচা-কেনা হয় বটে
চওড়া দামের হিসেব কষে
যায় নাকো তাকে কেনা ।
নিত্য যাকে খুঁজে চলি
সে এক সুখ পাখি
কোথায় পাবে তার দেখা ।
অযথা তাকে হাতড়ে বেড়াই
বৃথা ছুটি দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে
সেই তো রোজনামচা আঁধার ঘনিয়ে ঘরে ফিরি একা ।
খুঁজলে তাকে পাবে কোথায়
যায় কী ওমনে ধরা
সে আছে এক রূপসাগরে ।
জাগো এবার তন্দ্রা হতে
নয়ন মেলে চেয়ে দেখ
আড়ালে সে আছে মনের ঘরে ।
প্রানেশ পোদ্দার
রং
------প্রানেশ পোদ্দার
আজি এ বসন্তে
রং লেগেছে মনে
রাধা রং লাগাবে
শ্যামের চরণে ।
আয় সখীরা আয়
আবির মাখবি সারা গায়
রাঙিয়ে রাঙাবে
হোলি খেলায় ।
শ্যামের হাতে শ্যামের বাঁশি
আকাশ জুড়ে এর রাশি
পিচকারিতে রং ভরে
শ্যামহাসে মিষ্টি হাসি ।
প্লাবন সরকার
মৃত্যুর ডাক
------প্লাবন সরকার
কি জানি কখন কবে ধেয়ে আসে ভয়ালদর্শন মৃত্যুদূত,
ডাক আসলে যেতেই হবে নিয়তির লিখনে,
সময় অল্প জানি, কাজ যে বহু,
তবুও ডাক আসলে যেতেই হবে,
বেলা অবেলার কাজ সেরে উঠতে না উঠতেই ডাক এলো,
ডাক আসলে যেতেই হবে,
উপরওয়ালা সুবিবেচক, জানি অসীম দয়ালু,
তারপরও তিনি বড় কাউকে কাউকে অবেলায় ডাক দেন
উপায় নেই সে ডাক উপেক্ষা করার,
ডাক আসলে যেতেই হবে,
বিশ্বভ্রমান্ড চলে তার হাতের ইশারায়,
সে থাকে সদা স্থির,আমরাই চলনশীল,
সম্রাট জিউসের ভয়ালদর্শন বর্ম, মৃতসঞ্জীবনী তার ডাকের কাছে অর্থহীন,
রাজা মহারাজা, সাধু সন্তু, ফকির দরবেশ সবাই সমান তাঁর কাছে,
অপরিবর্তিত তাঁর আইনের শাসন,
ডাক আসলে যেতেই হবে।
কাজী নিনারা বেগম
পরোয়ানা
------কাজী নিনারা বেগম
আশ্চর্য মায়াভরা পৃথিবীতে নীরবে কাঁদি,
এই মাটির কায়া মিছে মায়া।।
দিগন্ত ব্যাপী প্রশ্ন হৃদয়ে,
আকাশে ঝম্ ঝম্ বৃষ্টি।
প্রভাতে উঠোনে এক হাটু জল,
নয়নের অশ্রু সিক্ত জলে ধরিত্রী ভিজে গেছে আজ। সেই হারানো দিনগুলোর স্বপ্ন ময় ব্যবধানে,
এসে গেছে মৃত্যুর পরোয়ানা আমার ঠিকানায়।
নির্মল মৃত্যুর আগমনীতে,
বেদনার স্মৃতি নিয়ে হৃদয়ে উঠেছে ভীতি।
ক্ষমা চাইছি সাশ্রুকন্ঠে একটি মাত্র ক্ষমা,
হাজারো ভালোবাসার জন্ম।
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
আবরণ
------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
সবাই-তো চায় সু-আবরণে আবৃত থাকতে।
কিন্তু পথের বাঁধা দারিদ্র,
তা-ই তো ষোড়শী বাসন্তী
এ বাড়ি , ও-বাড়ি থেকে মায়ের খুঁজে খুঁজে আনা
পৌশালী-ফাল্গুনীর ফেলে দেওয়া
জামা-কাপড়ে নিজেকে রাখে আবৃতা।
আর বাবা-মাকে কখনো জড়িয়ে ধরে
আদর করে বলে,একদিন দেখো---
সব কিছু ভালো হয়ে যাবে।
মা-বাবা সান্ত্বনার অশ্রুপাত করে আর
নাকের জল ছেঁড়া মলিন কাপড়ে মুছে
ষোড়শীর মাথায় হাত রাখেন।
বৈশাখী ঝড়ো বাতাসে গাছের ডাল - পালা ভেঙে পড়েছে
সেগুনবাগান - রাবার বাগানে।
বাসন্তী ভাঙা ডাল-পালা কুড়িয়ে আনতে গেলো
বাগানের পশ্চিম দিকে বেশ কিছু ভিতরে।
ষোড়শীর গায়ের গন্ধ পেয়ে
পিছু নিল রক্ত পিপাসু যৌবন।
ছেঁড়া কাপড়ে আবৃতা বাসন্তী
গুনগুন সুরে কী জানি গাইছিলো,
হঠাৎ দেখে চেয়ে ওর পেছনে
অট্টহাস্য নেকড়ে জাতীয় হিংস্র যৌবন।
চৈত্রের শেষে ধেয়ে আসা
কালবৈশাখীর মতোই ঝাঁপিয়ে পড়ে বাসন্তীর 'পর।
কালবৈশাখী তছনছ করে যায়;
তবু প্রকৃতি সৃষ্টির চেতনা ফিরে পায়,
আর রক্ত পিপাসুর তান্ডব
ছিঁড়ে খায় বাসন্তীর রক্ত-মাংস সব।
নতুন সৃষ্টি চিরতরে লুপ্ত হয়ে
লজ্জায় মুখ ঢাকে।
প্রতিকার চায় আশেপাশের সবুজ মন।
নীরব গাছ- পালার সাক্ষী
ত্রেতাযুগে মানলেও বর্তমানে
নীরব- সরব সবাই কেমন যেন একটা চুপ।
আবরণ দেবার ভাগ না থাকলেও ছিনিয়ে নিতে জানে
এ সময়,বর্তমান যুগ?
না,না,না।
এখনো রয়েছে মান-হুঁশ
তাইতো কাপড়ে সাজাও বাসন্তী,বৈশাখী শ্রাবণীকে।
বৃষ্টিধারায় ভিজে যাওয়া
ওদের দেহ পানে না তাকিয়ে ওদেরকে সবুজে ঢেকে দাও
হে মানব! সবুজে ঢেকে দাও।
হিংসার দুনিয়াকে জানাতে বিদায়
আও সবে এক শৃঙ্খলে আও।
রচনা কালঃ- ৫ই মে-২০২১ ইং,বুধবার ।
সুপর্না কর
প্রকৃতির প্রতিশোধ
------সুপর্না কর
মানব যখন নরপশুর রূপ ধারণ করে,
প্রকৃতিকে কলুষিত করতে শুরু করে,
তখনই মানবজীবন প্রকৃতির রোষে পড়ে।
যে মানবজাতি প্রকৃতিকে দিয়েছিল প্লাস্টিকে মোড়ে।
আজ সেই প্লাস্টিকই রক্ষাকবচ হয়ে
আছে মানুষের শরীর জুড়ে।।
বৃক্ষকে ধ্বংস করে মানব বানিয়েছে রাজপ্রাসাদ।
আর আজ একটু অক্সিজেনের জন্যই
চারিদিকে শুধু মানুষের আর্তনাদ।।
ধর্ম নিয়ে মানুষে মানুষে হয়েছে কত হানাহানি!
কোথায় গেল ধর্ম ? কোথায় গেল জাতপাত?
চারিদিকে শুধুই এখন মৃত্যুমিছিলের প্রতিধ্বনি।
পৃথিবীর বুকে অধার্মিক ব্যাভিচার,
মানুষেরই মানুষের উপর নৃশংস অত্যাচার,
এই দেখে চতুর্দিকে গর্জে উঠেছে প্রকৃতির হুঙ্কার।
মানবের কারণেই আজ মানবজীবনে উপচে পড়েছে প্রকৃতির ক্রোধ।
যতবারই মানবজাতি পরিণত হবে নরপিশাচে,
ততবার মহামারী রূপে ফিরে আসবে প্রকৃতির প্রতিশোধ।।
অভিজিৎ দাস
আগামীর প্রতীক্ষায়
-----অভিজিৎ দাস
বন্ধু তোমরা হও আগুয়ান, সকল বাধা ঠেলে।
নতুন রবি উঠবে দেখো, আঁধার কেটে গেলে।
সদ্য অঙ্কুরিত বৃক্ষ শিশুও, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে।
স্বপ্ন ভরা দৃষ্টি আমার, হারিয়ে গেছে পথেরবাঁকে।
নদী-পাহাড় করছে দেখো, নতুন দিনের প্রতীক্ষা।
দেশ গড়ার মহামন্ত্রে নাওগো, আবার নতুন দীক্ষা।
টিটু বনিক
ভুলের পরিণাম
------টিটু বনিক
আমার গৃহের প্রাচীর যখন ভগ্ন ছিলো
তুমি আসনি কখনো প্রেম দিতে
তুমি এসেছিলে শুধু বৃহৎকে আরও বৃহৎ করতে।
আমি সরল ছিলাম জলের মত,
আমি উপবন দেখে দৌড়ে গেলাম,
গোলাপ দেখে হাত বাড়ালাম,
আমি জানতাম না কাটা ছিলো ফুলের ছদ্মবেশে অস্ত্র ছিলো।
আমি তোমায় দেখলে বসন্ত ভাবতাম
আপন ভেবে আগলে ধরতাম
আসলে তুমি ঝড় ছিলে,আমার শহর ধ্বংস করলে।
এখন আমি অধঃপতন এখন আমি ডুবন্ত নৌকা।
এখন আমি যাযাবর পাখি এক আপন হারা।
বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
সম্পাদকীয়
হঠাৎ মনে পড়ে গেল এক বছর আগের কথা। সেই বসন্তের শেষ রজনীর বিদায় লগ্নে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে যখন শুয়ে ছিলাম এক নতুন সূর্যের অপেক্ষায়, তখন কর্ণযুগল তৃপ্ত হয়েছিল স্বপ্নে শুনতে পাওয়া এক বুড়োর কন্ঠে বেজে ওঠা গানে ---- "এসো হে বৈশাখ এসো এসো"। তাই প্রথমেই নিবেদিলাম শতকোটি প্রণতি এই মহামানবের চরণে।
১৪২৭ বঙ্গাব্দ ১লা বৈশাখ মঙ্গলবার, আমাদের বাস গ্রহে চলছিল এক মহা বিপর্যয়। এক মারণব্যাধির হাত থেকে রক্ষা পেতে আমরা নিজেদেরকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলাম। সেই গৃহবন্দি জীবনের অবসর সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ১৮ জন কবি-লেখক- প্রাবন্ধিকের লেখনীর স্পর্শে যত্ন নির্মিত "সাহিত্য নয়ন" নামক এই তরীখানি আমরা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম মহাসমুদ্রের দিকে।
প্রিয় পাঠক প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশের পর আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা এবং উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা অভিভূত। আর তাই হয়তো আপনাদের ভালোবাসার টানেই আবারো হাজির হতে পেরেছি অনেক আশা ও স্বপ্ন জড়িত "সাহিত্য নয়ন" - এর "নববর্ষ" নামক ত্রয়োদশতম সংখ্যা নিয়ে। আপনাদের নিরন্তর সাহচর্যে সমৃদ্ধ "সাহিত্য নয়ন"-এর এই পথ মসৃণ ও সুগম হোক। শুভকামনা রইল নতুন বছরের শুভারম্ভে।
ধন্যবাদ শ্রদ্ধাসহ-----
রাজেশ ভট্টাচার্য্য
সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন
প্রাপ্তি(শুভেচ্ছা বার্তা)
প্রাপ্তি(শুভেচ্ছা বার্তা)
প্রথম সংখ্যা প্রকাশের পর
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন----
এখনি পত্রিকা দেখতে পেয়েছি। সম্পাদকের এই প্রয়াসকে অভিনন্দন। এটি হবে একটা দর্পণ, যা সমাজ থেকে গ্লানি দূরীকরণের সহায়ক । এর সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
মধুমঙ্গল সিনহা লিখেছেন-----
খুব ভালো লাগলো।আসুন সবাই মিলে এগিয়ে চলি।অসংখ্য ধন্যবাদ....
দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের পর
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য লিখেছেন-----
উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব ও প্রকাশক- সম্পাদক সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি৷ এপ্রয়াস আগামীর দিকে এগিয়ে চলুক৷ এউদ্যোগের জন্যপ্রয়োজনীয় অর্থের যোগান কিভাবে হচ্ছে৷ এব্যাপারে আমাদের কিছু করণীয় থাকলে বলবেন৷
তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশের পর
বাংলাদেশ থেকে সাগর পাল লিখেছেন-----
সাহিত্য নয়ন একদিন সমাজকে সঠিক পথ দেখাবে আমার বিশ্বাস। পত্রিকার সম্পাদককে এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সাধুবাদ জানাই। সার্থক হোক এই প্রচেষ্টা।
চতুর্থতম সংখ্যা প্রকাশের পর
পশ্চিমবঙ্গ থেকে লিখেছেন কবি অমল কুমার মাজি -----
সু-প্রভাত ! একরাশ অনিশ্চয়তার বোঝা মাথায় নিয়েই শুরু হ'চ্ছে প্রতিটি সকাল !তবু আমরা সাহিত্য নয়ন পরিবার দিশা খুঁজব এক সুস্থ সংস্কৃতির।আমরা কবিতা লিখব,-গান গাইব। সুখের গান তো অনেক হ'য়েছে,এখন না হয় দুঃখের গানই গাইব,দুঃখের কবিতাই লিখব।যতদিন স্পন্দন থাকবে দেহে ততদিন থামব না আমরা।এই মাত্র প'ড়ে ফেললাম পত্রিকা। খুব সুন্দর সাজানো অলঙ্করণ ! সব লেখার সুর যেন একটি তারেই বাঁধা।কিছু সংশয়,কিছু প্রতিশ্রুতি,-"যদি ফিরে আসি,সূর্য হ'ব আমি,দগ্ধ ক'রে পুরাতনের কালিমা নব সোনালীর অবনী গ'ড়ব ! "সংশয় "আছে।"যদি"আছে কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ও তো আছে। "ধরিত্রী মাতার ললাটে চিন্তার ভাঁজ দেখেছেন কবি হেমন্ত দেবনাথ!ঠিকই! কবি কিশোর কুমার ভট্টাচার্য্য নীলযমুনার জলকে কালো পঙ্কিল দেখেছেন কিন্তু 'বিশুদ্ধতায় ফেরার আর্তি'আশা জাগায়!সম্পাদকীয়তে সকলকে সাথে নিয়ে চলার ঐক্যতান রণিত হ'য়েছে,-'আমরা সবাই মিলে ছোট্ট তরী খানি ভাসিয়ে দিয়েছি সাহিত্যের মহাসমুদ্রের দিকে।' অনবদ্য অভিব্যক্তি, 'মহাসমুদ্রই' তো !এমন একনিষ্ঠ কর্ণধার যখন আছেন তখন তরী আমাদের চ'লবেই !সাথে আছি।ভগ্ন হৃদয়। ক্ষুদ্র সামর্থ।তবু আছি পাশে।অনেক অনেক শুভকামনা সম্পাদক এবং অবশ্যই সমস্ত'কুশীলব'দের জন্য।
পঞ্চম সংখ্যা প্রকাশের পর
অভিজিৎ চৌধুরী লিখেছেন-------
এক অসাধারণ উদ্যোগ। আমি সাহিত্য নয়ন সাহিত্য পত্রিকার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।
ষষ্ঠতম সংখ্যা প্রকাশের পর
বর্ধমান থেকে অমল কুমার মাজি লিখেছেন ----
অনেক অভিনন্দন।পত্রিকা পেলাম।এবং অত্যন্ত আনন্দিত হ'লাম।সময় নিয়েই প'ড়ব।অনেক নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফসল।তাই নিষ্ঠার সঙ্গেই প'ড়তে হবে। "ব্যর্থ চিঠি" প'ড়ে ফেললাম,কিন্তু এই সাতসকালে না প'ড়লেইভাল ক'রতাম বোধ হয়!সকাল বেলায় কাঁদতে হ'ত না এমন ক'রে! অনেক অনেক ভালোবাসা।
সপ্তম সংখ্যা প্রকাশের পর
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন-----
" সাহিত্য নয়ন" সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে, তার জন্য সন্তোষ ব্যক্ত করছি। এজন্যে প্রচ্ছদ- শিল্পী, অক্ষরবিন্যাকারী, কবি-লেখক, মুদ্রণকারী, প্রকাশক, সম্পাদক,সত্বাধিকারী, পরামর্শদাতা--- এককথায় যে যেভাবে দূর বা অদূর থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সত্যি এ-রকম একটা উদ্যোগ বজায় রাখা চারটে খানা কথা নয়।
বিষয়- নির্বাচন অভিনন্দনযোগ্য। প্রত্যেকের লেখার মধ্যে একটা ভিন্নস্বাদের বৈচিত্র্য রয়েছে। শব্দচয়নও সাবলীল হয়েছে।
আমি এই সাহিত্য-পত্রিকার উৎকর্ষতা কামনা করি।
শুভ কামনায়-----
হেমন্ত দেবনাথ।
দিনাঙ্কঃ-29/10/2020.
অষ্টমতম সংখ্যা প্রকাশের পর
দেবিকা ভট্টাচার্য লিখেছেন-----
খুব সুন্দর হয়েছে। প্রতিটি লেখা অসাধারণ। অনেক অনেক শুভকামনা রইল। সাহিত্য নয়ন সাহিত্য পত্রিকা রামধনুর রং এর মত আরো রঙিন হয়ে উঠুক।
নবমতম সংখ্যা প্রকাশের পর
চন্দ্রলাল নাথ লিখেছেন----
I personally congrats to Shittya Nayan as it has been raises a great
scoops to the new & old writer of North Tripura (as well as Tripura) in the
Literacy field. --- I convey my heart fail gratitude to the organizing
body's all members art.
দশমতম সংখ্যা প্রকাশের পর
চন্দ্র লাল নাথ লিখেছেন -----
"Sahitya nayan" is an excellent attempts to focus the articles of different
writers. I cordially congrats to the Aditor & the all executive members of
the committee for theirs hard labour. I wish every success the E-paper of
the Sahitya Nayan.
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন-----
সম্পাদকীয় সুষমামন্ডিত হয়েছে। এছাড়া বাকি লেখাগুলো স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। সর্বোপরি, স্বল্প আয়োজন হলেও গভীরতার স্পর্শে কোনো অংশেই কম নয়। আমি অনলাইন সাহিত্যপত্র"সাহিত্য নয়ন"-এর সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করি।
ধন্যবাদান্তে---
হেমন্ত দেবনাথ।
একাদশতম সংখ্যা প্রকাশের পর
অমল কুমার মাজি লিখেছেন----
সাহিত্য নয়নের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং মূল্যবান একুশে ফেব্রুয়ারির একাদশ সংখ্যাটি পেলাম।অনেক অনেক অভিনন্দন সম্পাদক তথা কুশীলবদের।যাঁরা প্রত্যেকে মূল্যবান লেখা দিয়ে "সাহিত্য নয়নের"পাতা সমৃদ্ধ ক'রেছেন।তরুণ সম্পাদকের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ না জানালে সত্যের অপলাপ হয়।চরৈবেতি।
দ্বাদশতম সংখ্যা প্রকাশের পর
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন------
সদ্যপ্রকাশিত " সাহিত্য নয়ন"-এর 'বসন্ত সংখ্যা' টি পাঠ করে বড়োই প্রীত হলাম। অনবদ্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উদ্ভসিত প্রতিটি লেখা। মনটাতে দাগ কেটে যায় লেখাগুলো। একটি পড়ার পরই আরেকটি পড়ার ইচ্ছে আমার জেগেছিল এবং এটা হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। সবশেষে বলি, সম্পাদকীয়টা হয়েছিল খুবই সময়োচিত ও প্রাসঙ্গিক , মাধুর্যপূর্ণ ।
কবিতার সাথে দু' একটি আর্টিকেল/ স্বল্প কলেবরযুক্ত নিবন্ধ বা ছোটগল্প থাকলে সাহিত্যপত্রিকাটি আরোও বৈচিত্র্যে ভরপুর হয়ে উঠতো।
অবশ্য তার মানে এ নয় যে এখানে কোনো কিছুর খামতি ঘটেছে। বরং লেখাগুলো যেন হয়েছে বসন্তের রঙের নেশায় এক মায়াবী স্বপ্ন নিকেতন।
আমি " সাহিত্য নয়ন"-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
ধন্যবাদান্তে----
হেমন্ত দেবনাথ।
দিনাঙ্ক:-29/03/2021.
গৌরী দেবনাথ লিখেছেন----
সাহিত্য নয়নের প্রতিটি লেখা যেমন রসপূর্ণ হয়েছে, তেমনি মাধুর্যপূর্ণ হয়েছে। এই জন্য সাহিত্য নয়নের সম্পাদককেও ধন্যবাদ জানাই। আমি সাহিত্য নয়নের অগ্রগতি কামনা করি।
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
তান্ডবশ্রী
------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
সকলের মানসপটে
সুপ্ত কামনা,বাসনা--
হে তান্ডব!
তোমার আগমনে ঘুচবে
মার্তণ্ডের তীব্র জ্বালা -যন্ত্রণা।
ধরিত্রী সবুজে সবুজে
হবে কুসুমিতা ললনা।
মর্ত্যবাসীর আহ্বানে দিলে সাড়া,
মাঝরাতে শুরু গুরু গুরু
নড়াচড়া।
অবশেষে আলতো ছোঁয়ায় ভেজালে ফুলকলির মুখ,
তাতেই উলুধ্বনি-সকলে খুশ।
রাত পোহাতে নতুন প্রভাত--
এলো নতুন দিন- বছর
সবদিকেই সাজ সাজ রব।
মাঝ আকাশের সূয্যিমামা
গেলো হঠাৎ ঢেকে,
দুপুরে যেন মাঝ রাত্তির
নামলো ধরার বুকে।
হে রুদ্র!
বাজলো তোমার পায়ের ঘুঙুর
ভীষণ বজ্র নাদে --
ঘূর্ণনে ঘূর্ণনে মুচড়ে পড়ে
মর্ত্যবাসী তোমায় স্মরে তীব্র আর্তনাদে।
তান্ডবলীলা থামলে তোমার
নিঃশ্বাস ফেলে বৃক্ষ- লতা নব কিশলয়ে।
কুহু- কেকা- কাকলিতে
ধরা উঠলো মেতে
ওঁ শান্তি ওঁ
স্বস্তি উচ্চারিল মানব
স্নাত-সিক্ত পরিশুদ্ধ
ধরিত্রীতে।
রচনাকাল:-১৬-৪-২০২০
বৃহস্পতিবার
হেমন্ত দেবনাথ
"সত্যের পথে ভারতীয় দর্শনের অগ্রগতি"
-----হেমন্ত দেবনাথ
"দর্শন" শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত 'দৃশ' ধাতু থেকে। 'দৃশ' ধাতুর শেষে অনট্ প্রত্যয় যুক্ত করে দর্শন শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। ব্যুৎপত্তি অর্থে 'দর্শন' কথাটির অর্থ দেখা বা সাক্ষাৎ করা। ভারতীয় মতে 'দর্শন' বলতে বুঝায় আত্মদর্শন। এখানে দর্শন হলো সত্যের সাক্ষাৎ উপলব্ধি। শ্রী অরবিন্দ বলেছেন-- "ভারতে দর্শন শাস্ত্রের জন্ম হয়েছে বৈদিক ঋষিদের জিজ্ঞাসা থেকে।" মনীষি Max Muller বলেছেন --- "একমাত্র জ্ঞান লাভের জন্য, এ জীবনে সর্বোচ্চ আদর্শের উপলব্ধির উদ্দেশ্যেই ভারতে দর্শন চর্চা শুরু হয়েছে।" ভারতীয় দর্শনের উৎপত্তির পেছনে আছে (i) Spiritual disquent ও (ii) Practical necessity, দর্শনে উদ্দেশ্য এখানে " Philosophy is not a way of thought, but a way of life."
ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়গুলোকে আস্তিক ও নাস্তিক - দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। "আস্তিক বলতে বোঝায় সেইসব দার্শনিক মতবাদকে, যা বেদ বিশ্বাস করে এবং বেদের সিদ্ধান্তকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে। এই ছয়টি আস্তিক দর্শন হলো --- সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈদেশিক, মীমাংসা ও বেদান্ত। এদেরকে ষড়দর্শনও বলা হয়। নাস্তিক দর্শন বলতে বোঝায় সেইসব দার্শনিক মতবাদকে, যা বেদ বিশ্বাস করে না এবং বেদের সিদ্ধান্তকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে না। চার্বাক দর্শন, জৈন দর্শন ও বৌদ্ধ দর্শন হলো নাস্তিক দর্শন। এদের মধ্যে চার্বাক হল চরমপন্থী নাস্তিক দর্শন আর জৈন দর্শন ও বৌদ্ধ দর্শন হলো নরমপন্থী নাস্তিক দর্শন। ভারতীয় মতে কোন দর্শন যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করেও বেদের প্রামাণ্য মেনে নেয়, তবে তাকে আস্তিক দর্শন বলা হবে। যেমন--- ভারতীয় দর্শন চিন্তায় সাংখ্য দর্শন ও মীমাংসা-দর্শন ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিশ্বাস না করেও বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করেনি বলে এদেরকে আস্তিক দর্শন বলা হয়।
আবার অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতীয় দর্শনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ---- (১)বৈদিক (২)অবৈদিক ও (৩) বেদ-বাহ্য। আস্তিক দর্শন হলো বৈদিক দর্শন এবং নাস্তিক দর্শন হলো অবৈদিক দর্শন। অবৈদিক দর্শন হলো বেদ বিরোধী দর্শন।
(ধারাবাহিক চলবে)


















