সাহিত্য নয়নে আপনাকে স্বাগত

"সাহিত্য নয়ন" সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত। ( প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই পত্রিকার কোন অংশ কেউ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে)

মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

দিলারা বেগম

 

                  জলের বসন্ত 


                                -----দিলারা বেগম 


হাজার বছর ধরে নির্ঘুম রাতের আঁধারে 

ফালি চাঁদ জেগে উঠে সঁপে দেয় অন্ধকারে, 

জল বসন্ত চলে যায় নদীও মরে যায়

কত দুঃখ রয়ে যায় ভাঙ্গা নদীর বুকে 

নিজেকে মানিয়ে নেয় নদী নিজের বিরুদ্ধে। 


শব্দহীন পাহাড় দাঁড়িয়ে থাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে 

সর্বস্ব হারায় নদী কিসের বিহনে?

দ্বিচারিণী নাম তার স্বভাবজাত দোষে 

সভ্যতা মানেনা সে নব্যতার খোঁজে। 


অদৃষ্টের সীমানার থাকেনা নির্দিষ্ট সীমারেখা 

পাহাড় ভুলে যায় তার বিশালত্বের কথা, 

ডেকে বলে ঝর্ণাকে বাঁচাও নদীকে

প্রকৃতি একে অন্যের জন্যই বেঁচে থাকে। 


নদী যখন মরে যায় ঝর্ণার অবহেলায়

পাহাড় ফেলে দীর্ঘশ্বাস অজানা আশঙ্কায়, 

ঝর্ণা জল ঢালে নদীর তপ্ত বুকে

নদী মিটিমিটি চোখ মেলে আনন্দে হেসেখেলে,

ক'জনায় পারে হাসিমুখে শত্রুকে বাঁচাতে? 


 প্রকৃতির ধর্ম দেখে নষ্ট চেতনারা জেগে উঠে 

সর্ব সুখ বুঝি নিজেকে সপে দেওয়ার মাঝে, 

বিবেক শিক্ষা নেয় মহানুভব প্রকৃতির কাছে।

মনচলি চক্রবর্তী

 

      অট্টালিকায় নেই প্রাণ 


                   ------মনচলি চক্রবর্তী 


অট্টালিকার সৌন্দর্যের মাঝে 

ছোট্ট  নদী

নদীতে শুধুই পাথর আর

নুড়ি

রয়েছে সেজেগুজে 

ছোট্ট ছোট্ট ঘর 

আছে ঘরে কৃত্রিম 

জলসাগর

কোন ঘরে সবুজ পাহাড়,গাছ,

আর  মনুষ্য সৃষ্ট  ঘাস

ঘরের মাঝের  ছোট্ট কাচের  পুকুরে

 লাল নীল হলুদ মাছেরা খেলা করে

কৃত্রিম আলোকে  জ্বলে উঠে 

বাতি রাশি রাশি 

নেই  ঘরে চাঁদের 

 উজ্জ্বল হাসি

রাতে ঘরে নেমে আসে

গভীর আঁধার 

অট্টালিকার সুসজ্জিত ঘরে

থেকেও নেই প্রকৃত আলোর ঝার

মনুষ্য জীবন  অট্টালিকায়

হাঁপিয়ে উঠে, চায়  ত্রাণ

পায়না  সাজানো জীবনের মাঝে  ওরা

সবুজ প্রকৃতি আর  প্রাণ।

ভবানী বিশ্বাস

       

          প্রকৃতি মা আমার

                

                            ------ভবানী বিশ্বাস। 


মাগো,, দীর্ঘদিন হলো তোমার সাথে 

দেখা হয় না সেরকমভাবে। 

আজ প্রকৃতি মেঘমেদুর বর্ষায় সমাদৃত। 

চারিদিকে মিষ্টি পাখির কূজন, সবুজের সমারোহ, তুমি নবসাজে সেজেছো। 

তবুও দেখছি মনটা তোমার ভারাক্রান্ত গো.. 

হবে নাই বা কেন! 

কত না অত্যাচার করেছি তোমার উপর, 

কলুষিত করেছি তোমায়। 

আগুন জ্বালিয়েছি তোমার ফুসফুসে, 

রক্তাক্ত করেছি তোমার হৃদয়। 

তাই বুঝি এতো রাগ আমাদের উপর, 

রুদ্রানী রুপ করলে তুমি ধারন! 

মাগো,, এবারের মতো ক্ষমা করে দাও। 

কথা দিচ্ছি, তোমার জন্য সময় বের করবো। 

শুনেছি,, মা মমতাময়ী! 

একটিবার সুযোগ দাও তোমার অবাধ্য সন্তানদের। 

শুধু একটিবার....

নাফিসা খান


                       সুর


                                  ------নাফিসা খান


পলাশের ওপারে দাঁড়িয়ে ভিজছে আমার বৃষ্টি

 তোমার সুরের সাথে সুর মিলিয়ে,


আবির তরঙ্গ বাঁধ ভেঙ্গেছে,মনের গায়ে মন লেগেছে,


ভিজছে আকাশ,ভিজছে নদী, ভিজছে স্রোত ,

ভিজছে আমার নোঙর খানি কৌমুদী বাহারে....


দু,চোখের নক্ষত্রে বেঁধেছে কুঠি গানের  খেয়ালে,

তোমার সুরের সাথে সুর মিলিয়ে,


আমি বৃষ্টিভেজা সকালখানি রেখেছি তোমার গানের ওপারে...


ভিজছে সকাল,ভিজছে বৃষ্টি,ভিজছে রাগ

ভিজছে নদীর অঙ্গখানি মেহুল বনের আঁচর বেয়ে..


আমার একতারা আজ মোহেরতালে ,সুরের মালায় 

সুর গেঁথেছে,


গাইছে  আমার ভুবনখানি তোমার  ভূয়ের সংসর্গে


ভিজছে সুর,ভিজছে গান,ভিজছে মন,ভিজছে আমার বৈশাখী তোমার সুরের সাথে সুর মিলিয়ে.....

রূপন মজুমদার


                  শূন্য

   

                          -----রূপন মজুমদার 


উনুনে জ্বলছে জীবনের খতিয়ান

শতাব্দীর সুখ দুঃখরা ফুটছে,

ভাতের হাঁড়িতে।।


অধিজাতিক নিশানা ধরে

ধোঁয়ার মিছিল এগিয়ে যায়। 

মানুষের মতো। 

কফিনে পেরেক মারা শবদেহ কাঁধে 

অন্তহীন শূন্যে।।

রাজীব বসাক

 

         এসো নবীন


                     ------রাজীব বসাক


আয়রে নবীন আয়রে কাঁচা,

দল বেঁধে আজ ছুটে আয়,

পাহাড় সমান বাঁধাগুলি, 

নবীন তেজে গুড়িয়ে দে ।।


আয়রে নবীন আয়রে কাঁচা ,

দলে দলে ছুটে আয় ,

মানবতার হিংসাগুলি,

চোখের চাওয়ায় ভুলিয়ে দে ।।


আয়রে নবীন আয়রে কাঁচা,

প্রাণখুলে আজ ছুটে আয়,

জাতির শত্রু সন্ত্রাস আক্রমণ,

পায়ের তলায় পিষিয়ে দে ।।


আয়রে নবীন আয়রে কাঁচা,

পায়ে পায়ে তাল মিলিয়ে ছুটে আয়,

দেশের ভার কাঁধে তুলে ,

ভবিষ্যতের খুলরে দ্বার ।।


মাথা কভু করিসনে নত ,

আসুক ফিরে ঝড় তুফান যত ,

নবীন আলোয় ঝলসিয়ে ক্ষত ,

বিজয় রথের গড়বি নতুন পথ ,

আয়রে নবীন আয়রে কাঁচা ,

দল বেঁধে আজ ছুটে আয় ।।

সেখ মনিরুদ্দিন


          বৃষ্টি এলো


                      -----সেখ মনিরুদ্দিন


আকাশ কাঁদিয়ে বৃষ্টি এলে

জানিনা তোমার ফন্দি,

ভিজিয়ে আমায় হলে যে তুমি

চোখ ক্যামেরায় বন্দি।


মন খারাপের ক্যানভাসে বুঝি

মেলেছো তোমার সীমানা,

ঝর ঝর করে মনেতে ঝরিয়ে

খুঁজছো নিজের ঠিকানা।


তোমার ছোঁয়ায় গাছেরা পেলো

সবুজ সতেজ জীবন,

নদীর জলে এনে দিলে ঢেউ

দুকূল ভরে প্লাবন।


বাতাস হয়েছে পাগল পারা

মাটি পেয়েছে প্রাণ,

সোঁদা গন্ধে মাতাল করে

অদ্ভুত এক ঘ্রাণ।


পৃথিবী বাঁচার রসদ পেয়েছে

কেবল তোমার জন্য,

তোমার তুমিতে অপরূপ হয়ে

করলে সবকে ধন্য।

সায়ন পাল

 

             একলা চলো


                                -----সায়ন পাল


গিয়েছিলাম তোমার বাড়ি পূর্ণ হৃদয়

মন যেন চড়ুই পাখি চির সুখময়।

গিয়ে দেখি দ্বারে তালা, প্রবেশ আমি করতে নারি

ধোঁয়ায় করে চক্ষু জ্বালা এই যেন পরিত্যক্ত বাড়ি।


গিয়েছিলাম পুকুরঘাটে যেথায় করে স্নান শিশুরা,

মাছরাঙ্গা মাছ ধরল, বোয়াল কই এ পুকুর ভরা।

বেলা হল শেষ ছেলে সব ঘরে ফিরলো,

মাছরাঙ্গা উড়ে গেল, বোয়াল কই ও ডুব মারলো।


গিয়েছিলাম পুজো প্রাঙ্গণে ঢাকের তালে নাচে মন,

হই হই আর পুজোর গন্ধ আলোড়িত পূজা প্রাঙ্গন।

গিয়ে দেখলাম হঠাৎ বৃষ্টি, তুফান যেন নামিল,

পুজো হল সাঙ্গ, স্বার্থে মানুষ সব ঘরে ফিরলো।


গিয়েছিলাম মহা অরণ্যে, যেথায় কোকিল ডাকে,

কুহু কুহু কলরবে অরণ্য ভরে থাকে।

গিয়ে দেখি নীরবতা নাইগো কুহু ডাক,

ক্লান্ত হল কোকিল পাখি, প্রচন্ড অবাক!!


ফিরে আসলাম মোর কুটির ঘরে, ডাকি মা মাগো

কুটীরের ধারে ছোট্ট তালা, প্রাণে তো আর সয়না গো।

এমনই এক অট্টহাসিতে আকাশ ভেঙ্গে পড়লো

বলছে এইতো জীবন, কেহ না করলে তুমি একলা করো গমন।।

গোপাল বনিক


                পরিচয়


                            -----গোপাল বনিক 


সবাই যখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ,

আমি দেখি তোমার চোখে মৃত্যুমাখা শোক।

কত লোকে কত ভাবে দেয় পরিচয়,

বিপন্ন বিব্রত মুখে তোমার  শুধু অশ্রুধারা বয়।

কত আশায় বুক বেঁধে হলে আনমনা,

ঘাত -প্রতিঘাতে সবই যে আজ বিষাদ বেদনা।

তবুও যদি খুঁজি জীবন-তরুর কিশলয়,

সেইদিন যেন পাই হে তোমার সত্য পরিচয়।।

ইএইচপি রূপক পোদ্দার

 

                     ভাবনা

           

                               ------ইএইচপি রূপক পোদ্দার

                

                   বন্ধু তুমি

        ছেড়ে গেছো বলে আজ

     আমার ছন্দ হারালো জীবন।

               এই কতটা ক্ষন, 

        না পেয়ে তোমায় আজ

       ছন্ন ছাড়া ছিলো এ'মন।।

        দেবী ছাড়া আমার এই

               মোর দেবালয়

            শূণ্য ক্ষুন্ন পরে রয়।

            দেবীর আসনে আর 

             রবে না তুমি যদি

     ভাবতেই মনের মাঝে কেমন যেন ভয় হয়।।

             কলি গুলি কি আর 

             ফুল হবেনা, ফুঁটে 

      যদি না লাগে তব পূজায়।

                   বন্ধু তুমি

           নিত্য সেবায় থেকো, 

    পূর্নতা পাবে মোর দেবালয়।।

                  তৃপ্ত পরাণ

              নব সাঁঝে মোর

       উৎসব রসে ভরপুর তব মোর মন।

               পুস্প ঝরা আজ

               শীতল সন্ধ্যায়

   উচ্ছ্বাস আনলো তব আগমন।।

              পাখী জোড়া বয়

             মিলনের গান গেয়ে

         ফিরেছে যে যার ঘরে।

                 চাঁপার মালা

              পরাবো তোমায়

      উদ্দেলিত পরান,বন্ধু ওরে।।

               শুভ্র মেঘের

               নিঠুর বেলায় 

  এ'মন খুঁজেছে তোমায় বহু গুনচে প্রহর।

               প্রসাদ সম মোর

           এলে বন্ধু তুমি আজ

দখিন হাওয়ায় পূন্য হলো আজ এ'শহর।।

পবিন্দ্র দেবনাথ

                   

                         মনের কথা
                                     
                                     -------পবিন্দ্র দেবনাথ 


চলার পথে , চেয়েছিলাম হতে , সকলের কাছে ভালো ।

দুষ্ট লোকের চক্রান্তে আজ হতাশ হতে হলো।।

একশোতে নিরানব্বই যদি আমায় ভালোবাসে ।

একশোতে এক তো বন্ধু , মরবে যে ঈর্ষাতে ।।

সকলের ভালোবাসায় বন্ধু , হতে চাই যে বড়ো ।

পিছন দিকে টেনে ধরলেও আটকাতে পারবে ? বলো--

হাজারো হাজারো মানুষের হৃদয়ে যদি নিতে পারি ঠাঁই।

দুষ্ট লোকের ষড়যন্ত্রে আমার কী আর হবে ভাই।।

উপকৃত শত জনে বেইমান দুয়েক জন ।

ভুল বুঝে তাদেরও তো করেছিলাম প্রিয়জন।।

অতি প্রিয়জনেই বন্ধু করে সর্বনাশ।

দুঃখ- ক্লেশ তবু না করি, না করি অভিলাষ।।

পরম কল্যাণময়ের কাছে করি  গো প্রার্থনা।

কুমতিকে মতি দাও , করো প্রভু মার্জনা।।

রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

মলাট (চতুর্দশ সংখ্যা)


 

সূচিপত্র (চতুর্দশ সংখ্যা)


 

সম্পাদকীয়

        জ তবে সম্পাদকই দায়ী থাক। "সাহিত্য নয়ন"- এর চতুর্দশতম সংখ্যাটি প্রকাশে এতো দেরী হওয়ার কথা তো ছিলনা। বাগিচায় ঠিক সময় মতোই ফুল ফুটে ছিল। দেবতারাও ছিলেন পূজার পুষ্প গ্রহণে প্রস্তুত। তবে কেনো পূজায় এতো বিলম্ব ? এতো অন্ধকারে কেমন করে পূজার উপকরণ সাজাই বলো? তাই অনিচ্ছাকৃত এই বিলম্বের দায় মাথায় তোলে নিলাম।  হয়তো একদিন সত্যিকারের ভোর হবে। থাকবেনা কোনো আঁধার। সুস্থ প্রভাতের আলো ছড়িয়ে পড়বে দিকে  দিকে। মুক্তভাবে মুক্ত বাতাস থেকে নিতে পারবো ভয়মুক্ত শ্বাস। যদিও আজ সময়টা বড়ো কঠিন। কিন্তু আশায় বাঁচে চাষা। তাইতো সুস্থ ভোরের আশায় আগামীর দিকে চেয়ে আছি।

            প্রিয় পাঠক, অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আপনাদের ভালোবাসার টানে আবারো হাজির হলাম "সাহিত্য নয়ন" সাহিত্য পত্রিকা চতুর্দশতম সংখ্যাটি নিয়ে। জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে যখন বদ্ধ খাঁচায় নিভৃতে বসে থাকি, তখনই আপনাদের ভালোবাসার আঘাতে বার বার জেগে উঠি। কবি কিশোর কুমার ভট্টাচার্যের ভালোবাসার কয়েকটি পংক্তি দায়বদ্ধতা আরোও বাড়িয়ে দিল। উনি লিখেছেন ------

সময়ে  অসময়ে লভিবে যন্ত্রণা 

বিরক্ত হইলেও   সহিতে হইবে

তবেই তো "তুমি  ওগো কর্ণধার!"

আনন্দ মাখা মনখানা বসুধার।  

তুমি হে  রাজার রাজা! 

হে রাজেশ! 

অসিখানা হাতছাড়া আজ 

মসি খানা সাজিয়েছ সুন্দরে বীণাপানির কৃপায়।

শাসন - শোষণ ভুলিয়া 

লভিয়াছো সেবা ব্রত 

এই কাজে তো যন্ত্রণার কাঁটা 

বিঁধিবে অনবরত।


           এবারের সংখ্যায় কবিতা - প্রবন্ধের পাশাপাশি শিশুশিল্পীদের উৎসাহ বৃদ্ধির কামনায় প্রকাশিত হয়েছে তুলির সৃষ্টিকেও। শিল্পীর তুলির আঁচড়ও কথা বলতে জানে। করতে পারে ভাব বিনিময়। অনেকক্ষণ ধরেই বক্ বক্ করে যাচ্ছি, আগামী সংখ্যায় না হয় বাকিটা পূর্ণ করে নেব। চলুন সবাই মিলে একটু দেখে নেই নয়নের পাতায় কি কি অপেক্ষা করে আছে। আপনাদের সার্বিক মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।



ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা সহ------

রাজেশ ভট্টাচার্য্য

সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন

অমল কুমার মাজি


 

                      ঝড়


                                   ------অমল  কুমার  মাজি 


ভিতরের পৃথিবীতে আচমকা ঝড় ওঠে

মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায়

শরীরের ধমনীতে  তপ্ত রক্ত ছোটে

বিবেকের দংশন যাতনা বাড়ায় !

বাতাসে দু'হাত ছুঁড়ে মিছিল এগিয়ে চলে 

নিষ্ফল চিৎকারে  হায়!

উপোসী স্নাতক শুধু দুপুর গড়িয়ে  গেলে 

এক খিলি পান কিনে মুখটা রাঙায় !!

কতশত দ্রৌপদী প্রতিদিন প্রতি পলে 

হ'য়ে যায় সংবাদ -শিরোনাম

সাজানো মঞ্চে তবু ভাষণের কারসাজি 

"থোড়-বড়ি- খাড়া" আর "খাড়া-বড়ি-থোড়" অবিরাম!!

হাইজ্যাক হ'য়ে যায় বিশ্বকবির গান

নেই কপিরাইটের বন্ধন

লুটেরার উল্লাস ছাপিয়ে শ্রবণে আসে

মাতৃভূমির চাপা ক্রন্দন !!

কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


 

         অমর ঊনিশ


                          -------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


হায়রে  ঊনিশ!  মননে

স্মরণে অস্তিত্বশীল। 

তোমার স্মৃতি রোমন্থনে

 ছুটেছে চিন্তা প্রগতিশীল। 

এপার - ওপার মিলেমিশে একাকার 

মাঝখানে সেতু  ভাষা

মানতে পারেনি রাজাকার। 

হে উনিশ তুমি আছো স্মৃতিতে 

শিলচর রেলস্টেশনে, 

আছো ইতিহাসের পাতায় 

শহীদের সম্মানে।

হেমন্ত দেবনাথ


 

                   "সত্যের পথে ভারতীয় দর্শনের অগ্রগতি"

                                                             -------হেমন্ত দেবনাথ 


(এপ্রিল মাসের সংখ্যার পর)


      কিন্তু বেদ বাহ্য দর্শন বেদবিরোধী দর্শন নয়। এদের উৎস হল---" আগম"- অর্থাৎ বেদবাহ্য দর্শন গুলোর উৎস বেদ নয়, এগুলো বিরোধীও নয়। বেদ বাহ্য দর্শন গুলো হচ্ছে শাক্ত দর্শন, বৈষ্ণব দর্শন ও শৈব দর্শন। শাক্তদের  মূল ভিত্তি হলো শাক্তাগম, বৈষ্ণব দর্শনের মূল উৎস হল বৈষ্ণবাগম এবং শৈব দর্শনের মূল উৎস হল শৈবাগম।

আস্তিক দর্শন গুলোর উৎস হলো বেদ। বেদ কথার অর্থ হল "জ্ঞান"। বেদ চার প্রকারের--- ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। প্রাচীনতম বেদ  হলো ঋগ্বেদ। প্রতিটি বেদের চারটি অংশ রয়েছে -- সংহিতা (মন্ত্র), ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, ও উপনিষদ। দেবদেবীর উদ্দেশ্যে রচিত স্তোত্র বা মন্ত্র হলো সংহিতা, বৈদিক যজ্ঞের নিয়মাবলী আছে ব্রাহ্মণ অংশে। বাণপ্রস্থের সময়ে অরণ্যে জীবনযাপনের নিয়মাবলী নিয়ে লেখা হয়েছে আরণ্যক, জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে নানা জিজ্ঞাসা বিষয়ক উচ্চতর দার্শনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে উপনিষদে।

    সংহিতা ও ব্রাহ্মণকে বলা হয় কর্মকাণ্ড। উপাসনাকান্ড বলা হয় আরণ্যককে। উপনিষদকে বলা হয় জ্ঞানকাণ্ড। "যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠান নিষ্প্রয়োজন" -- এ কথা ব্যক্ত হয়েছে শতপথ ও তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে। উপনিষদ হল জ্ঞানকান্ডের চরম পরিণতি। বেদের অন্তর্ভুক্ত নয় বেদাঙ্গগুলো । বেদের অর্থ ও অর্থ বোধের প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছিল বেদাঙ্গ। বেদাঙ্গ হল ছয়টি-- শিক্ষা, কল্প, নিরুক্ত, ছন্দ, জ্যোতিষ ও ব্যাকরণ। মীমাংসা ও বেদান্ত সরাসরি বেদ নির্ভর। সাংখ্য, যোগ, ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করে নিলেও স্বাধীন যুক্তি তর্কের মাধ্যমে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছে। কাজেই এগুলো পরোক্ষভাবে বেদ নির্ভর। বেদান্ত দর্শন ক্ষুরধার যুক্তিতর্কের মাধ্যমে এদের জ্ঞানের দিকটি অর্থাৎ ব্রহ্মের স্বরূপ, জীবাত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক ইত্যাদি দার্শনিক তত্ত্বগুলোর আলোচনা করেছে। মীমাংসা-দর্শন বেদের যাগ-যজ্ঞ ও ক্রিয়া অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। এই দুই দর্শনের পার্থক্য তুলে ধরার জন্য মীমাংসাকে পূর্ব মীমাংসা বা কর্ম মীমাংসা এবং বেদান্তকে উত্তর মীমাংসা বলা হয়েছে।

বেদ স্বতন্ত্র ও বেদবিরোধী দর্শনগুলোর  উৎস হল-- কোনোও শ্রদ্ধেয় মনীষী বা সত্যদ্রষ্টা  ব্যক্তির মত। যেমন- ঋষভদেবকে জৈন দর্শনের আদি প্রচারক তীর্থঙ্কর বলা হয়, গৌতম বুদ্ধকে বৌদ্ধ ধর্মের এবং চার্বাক ঋষি অথবা বৃহস্পতি ঋষিকে চার্বাক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।


(ধারাবাহিক চলবে)


রাজেশ ভট্টাচার্য্য


 

        দ্ব্যর্থক ভালোবাসা


                        ------রাজেশ ভট্টাচার্য্য


ভালোবাসি,

আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।

মানবিকতায় ভালোবাসি।

মনুষ্যত্ববোধে ভালোবাসি।

হ্যাঁ, তুমিও আমাকে ভালোবাসো জানি।

আমার না বলা কথা তুমি বুঝে নিতে পারো।

করতে পারো তার চুলচেরা বিশ্লেষণ।

লাগাতে পারো ভালোবাসার বিজ্ঞাপন।

তাতে না হয় ভেঙ্গেই যাক আমার দর্পণ।

তাতে তোমার কি?

তোমার জয় জয় করবে পুরো সমাজ।

আর তুমি হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ প্রেমিকা।

তবুও না হয় তোমাকে ভালোবাসলাম!

মনুষ্যত্ববোধের ভালোবাসা।

জয়ন্ত দেবনাথ


 

                 কবিতাকে চাই


                              -----জয়ন্ত দেবনাথ


সে তো আমায় ছেড়ে গেছে কোথায় তারে পাবো! 

ঠিকানাটা দেবে আমায়? আনতে তারে যাবো। 

সে ছিল যে আমার মনে পদ্ম পাতার জল,

হৃদয় সরোবরে ঢেউয়ে করত টলমল।

হৃদয় হল শুষ্ক মরু দুঃখের তাপে দহে, 

পদ্ম পাতার শিশির সে যে কি করে সে সহে! 

কবিতা সে দিল ফাঁকি মনের দুয়ার খুলে, 

বহু দূরে গেছে চলে আমায় গেছে ভুলে!

কোথায় তারে পাব আমি? তোমার তাকে চাই!

নিঃরস গদ্যের হৃদয় আকাশ কাব্যের মেঘ নাই।

বর্ণা দাস

 


       সুখপাখি


                ------বর্ণা দাস


সন্ধ্যা নামে রোজ  

পাখিরা ফিরে আসে 

শয় শয় ঘরে  ।

পথের পানে চেয়ে  

দুয়ারে আমি থাকি বসে 

কে যেন আসবে ফিরে ।

নদীর ঘাঁটে নৌকো লাগে 

যাত্রী ওঠে যাত্রী নামে 

কত মানুষের আনাগোনা। 

হাট বসে বেচা-কেনা হয় বটে 

চওড়া দামের হিসেব কষে 

যায় নাকো তাকে কেনা ।

নিত্য যাকে খুঁজে চলি 

সে এক সুখ পাখি 

কোথায় পাবে তার দেখা ।

অযথা তাকে হাতড়ে বেড়াই 

বৃথা ছুটি দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে 

সেই তো রোজনামচা আঁধার ঘনিয়ে ঘরে ফিরি  একা ।

খুঁজলে তাকে পাবে কোথায়  

যায় কী ওমনে ধরা 

সে আছে এক রূপসাগরে ।

জাগো এবার তন্দ্রা হতে

নয়ন মেলে চেয়ে দেখ 

আড়ালে সে আছে মনের ঘরে ।

তুলির আঁচড়


       অঙ্কন শিল্পী:- কৃত্তিকা ভট্টাচার্য্য

প্রানেশ পোদ্দার


 

            রং


                 ------প্রানেশ পোদ্দার 


  আজি এ বসন্তে

রং লেগেছে মনে

রাধা রং লাগাবে 

শ্যামের চরণে  ।


আয় সখীরা আয়

আবির মাখবি সারা গায়

রাঙিয়ে রাঙাবে

হোলি খেলায় ।


শ্যামের হাতে শ্যামের বাঁশি

আকাশ জুড়ে এর রাশি

পিচকারিতে রং ভরে 

শ্যামহাসে মিষ্টি হাসি ।

প্লাবন সরকার

                 

                 মৃত্যুর ডাক


                                ------প্লাবন সরকার


কি জানি কখন কবে ধেয়ে আসে ভয়ালদর্শন মৃত্যুদূত,

ডাক আসলে যেতেই হবে নিয়তির লিখনে,

সময় অল্প জানি, কাজ যে বহু, 

তবুও ডাক আসলে যেতেই হবে,

বেলা অবেলার কাজ সেরে উঠতে না উঠতেই ডাক এলো,

ডাক আসলে যেতেই হবে,

উপরওয়ালা সুবিবেচক, জানি অসীম দয়ালু, 

তারপরও তিনি বড় কাউকে কাউকে অবেলায় ডাক দেন 

উপায় নেই সে ডাক উপেক্ষা করার,

ডাক আসলে যেতেই হবে,

বিশ্বভ্রমান্ড চলে তার হাতের ইশারায়,

সে থাকে সদা স্থির,আমরাই চলনশীল,

সম্রাট জিউসের ভয়ালদর্শন বর্ম, মৃতসঞ্জীবনী তার ডাকের কাছে অর্থহীন,

রাজা মহারাজা, সাধু সন্তু, ফকির দরবেশ সবাই সমান তাঁর কাছে,

অপরিবর্তিত তাঁর আইনের শাসন,

ডাক আসলে যেতেই হবে।