সাহিত্য নয়নে আপনাকে স্বাগত
শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩
সম্পাদকীয়
একটি ভালো বই সত্যিকারের ভালো বন্ধু। একটি ভালো বই একজন মূর্খ অন্ধকারাচ্ছন্ন বর্বরকেও একজন আদর্শ মানুষে রূপান্তরিত করতে পারে। আজকাল লেখক -কবির সংখ্যা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে কিন্তু পাঠকের সংখ্যা কমছে দিন দিন। বই মেলাতেও পাঠক এবং ক্রেতা আজ সংখ্যালঘু। ছবি তুলতে আর ঘুরতে যারা যান তারাই আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ।
নন্টে ফন্টে, চাঁদ মামা, ঠাকুমার ঝুলি, গোপাল ভাঁড় থেকে শুরু করে, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথ আরো আরো বই যেন নেশার মতো টেনে নিয়ে যেত আগেরকার দিনে। আজ সবই স্মৃতি।
এখন এটাই প্রশ্ন------ কেন এমন হল? কেন হারিয়ে যাচ্ছেন পাঠক? বই পড়ার আগ্রহ প্রতিনিয়ত কমছে কেন?
এখনো সময় আছে; এর মূল কারণ খুঁজে বের করে বই এবং মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করার। এর জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রত্যেক সচেতন মানুষের এগিয়ে আসা।
প্রিয় পাঠক প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশের পর আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা এবং উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা অভিভূত। আর তাই হয়তো আপনাদের ভালোবাসার টানেই আবারো হাজির হতে পেরেছি অনেক আশা ও স্বপ্ন জড়িত "সাহিত্য নয়ন" - এর "নববর্ষ সংখ্যা ৩" নামক বিশেষ সংখ্যা নিয়ে। আপনাদের নিরন্তর সাহচর্যে সমৃদ্ধ "সাহিত্য নয়ন"-এর এই পথ মসৃণ ও সুগম হোক। শুভকামনা রইল নতুন বছরের শুভারম্ভে।
ধন্যবাদ শ্রদ্ধাসহ-----
রাজেশ ভট্টাচার্য্য
সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন
অমল কুমার মাজি
শ্রীচরণেষু মা
-----অমল কুমার মাজি
দুষ্ট যখন দেশটাকে আজ
ক'রছে শ্মশান-ভূমি
দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়েও
চুপ কেন মা তুমি?
বল মাগো তুই নীরব কেন
নারীর লাঞ্ছনাতে
দানব গুলোর মুন্ড কেটে
ফেল না অস্ত্রাঘাতে।।
সকাল-সন্ধ্যে বারুদ-বোমার
গন্ধে বাতাস ভারী
সৃষ্টি কি আজ ধ্বংস হবে?
আভাস দেখি তারই।।
স্বাধীণ হ'য়েও নতুন ক'রে
মানুষ পরাধীন
বিদ্বজনের নেই প্রতিবাদ
এমন অর্বাচীন।।
নেতার মুখে ফাঁকা বুলি
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি
সুযোগ নিতে মোসাহেবরা
ক'রছে স্তব ও স্তুতি।।
উত্তর থেকে দক্ষিণে আজ
ব'ইছে রক্তধারা
নেই প্রতিকার,প্রতিটি দিন
কাঁদছে স্বজন হারা।।
একটা মহিষাসুর মেরেই
কেন মা তুই চুপ
কৃপাণ হাতে ধর না মাগো
চামুন্ডারই রূপ।।
মহাকালের কোল ছেড়ে আয়
এবার মহাকালী
ভয়ঙ্করী রূপ দেখা তোর
আবার মুন্ডমালী।।
ছদ্মবেশী দানব গুলোয়
শেষ ক'রে দে আজ
শান্তি ফিরুক দেশের বুকে
পালাক গুন্ডারাজ।।
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
চক্রব্যূহ
------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
কত প্রতিভা হয় শিকার অহরহ মিথ্যা
বিচার বিবেচনার চাপে ।
অঙ্কুরেই ঘাস নাশের ঔষধ ছড়িয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়
এখন আর ডাকবি কাকে?
ভেবেছিলিস হবি
বিটপ কিংবা মহীরুহ ;
অঙ্কুরেই তো দেখেছিস
এতো সহজ নয় ভেদ করা
প্রতিভা নাশের চক্রব্যূহ।
প্রতিভার বীজে ঐ দিন
অনেকেই দেখেছিল ;---
ভালো,ভালো আরো ভালো
বিশাল স্বপ্ন।
কিন্তু মিথ্যা স্তাবকতার
নিষ্ঠুর আঘাতে ---
বিশাল স্বপ্ন আজ চূর্ণ বিচূর্ণ
ঘূর্ণির দুঃস্বপ্ন।
তবুও ;
সূর্যের আলোর পরশ,
আগামী বর্ষার ছোঁয়ায় হয়তোবা
আবারও হতে পারে
প্রতিভার অঙ্কুরোদ্গম ;-
এ স্বপ্ন নিয়েই চলছে
আশার প্রদীপের জ্বলন।
১৬/০৩/২০২৩, বৃহস্পতিবার।
হেমন্ত দেবনাথ
গোলাপ যায় মুছ্ড়ে
-----হেমন্ত দেবনাথ
চরম আঁধারে আতরের গন্ধ যায় উবে।
গভীর প্রণয়ের গোলাপ কখনও
যায় মুছড়ে -
জীবনপথ-রেখাটি যায় দুমড়ে।
ওদের জন্যে বুকে বড়ো বাজে।
'নিরুপমারা' আজো আছে ।
লালসার ভাবনাই খালি--
প্রণয়ের গুড়ে বালি।
অর্থলোভীদের লালসা যায় না
পরিণয়ের মধুময় সম্পর্ক তো থাকে না।
দর কষাকষি-----
'পাওনা' পেলে বেজায় খুশি ।
নইলে 'প্রণয়ের মানুষ'টা হয় খুনী
নিরুপমারা যতই হোক গুণী।
পাওনা নেই নিরুপমাদের জীবন ভার যাবে--
প্রণয়-পক্ষের কুমন্ত্রণায় --
অপমানে-গঞ্জনায় আর--
মৃত্যু-লাঞ্ছনায়।
সুব্রত রায়
সমীক্ষা
---- সুব্রত রায়
সেটা ছিল আরেক বসন্ত-বিকেল। এখানে ওখানে সবুজ রঙ করা কয়েকটা কাঠের বেঞ্চ। দশতলার উপর ষ্টিলের ফ্রেমে আটকানো 'মরমী হাউজিং কমপ্লেক্স' লেখাটা দিনের বেলা দেখা যায় না। তবে রাত হলে গ্লো সাইন জ্বলজ্বল করে বহুদূর থেকে।
চারপাশে সুউচ্চ সার দেওয়া অসংখ্য ফ্ল্যাট-বাড়ি। সব মিলিয়ে কত লোক থাকে অতনুবাবু জানেন না। কমপ্লেক্সের সামনের দিকে খোলা এই পার্কটা ভাল লেগেছিল সবচেয়ে বেশি। চাকরির শেষ বছর বুক করেছিলেন। কোয়ার্টার ছেড়ে সোজা মরমীতে।
সময় ভালই কেটে যায় এখন। সবমিলিয়ে বুড়োদের সংখ্যাটা একেবারে কম নয়। গল্পগুজবে কী করে সন্ধ্যা নামে বুঝা যায় না। সূর্য ডুবতে না ডুবতে ফা ফা করে খুটির মাথায় জ্বলে উঠে সারি সারি সোডিয়াম ভ্যাপার ল্যাম্প। সন্ধ্যা আর রাতের মিশে যাওয়াটা আর দেখা হয় না। আকাশ তারাহীন, কেমন ঘোলাটে একটা আস্তরণ ঝুলে আছে মনে হয়।
এসব আপাত অপ্রাপ্তিকে ভুলে যাওয়াই ভাল। নিজেদের অতীত জীবনের হাজারো গল্পে নিজেকে উজ্জীবিত করে রাখা বরং বুদ্ধিমানের কাজ। রক্তচাপ আর ব্লাড সুগারের রিপোর্ট পরীক্ষা করতে করতে ডাক্তাররা আজকাল নষ্টালজিক হতে বারণ করেন।
এসব ভাবনার ফাঁকে কখন যে শ্রীমন্তবাবু এসে গেছেন, খেয়াল ছিল না।
-আরে মেজর, অমন ঝিম মেরে আছেন কেন? আমি আসতে আসতে একটু হেঁটে নিলেই তো পারতেন। অতনুবাবু ইন্ডিয়ান আর্মিতে ছিলেন। শ্রীমন্তবাবু মজা না করে কোনো কথা বলেন না। প্রাক্তন কলেজ শিক্ষক শ্রীমন্তবাবুকে এজন্যেই বড্ড ভাল লাগে।
-আর কত হাঁটবো বলুন? ফ্ল্যাট থেকে এখানে পৌঁছতে পাক্কা আধা ঘন্টা। এখন বসতেই ভাল লাগছে। বসুন এখানে। বলুন, আজকে যেন কী শুনাবেন বলেছিলেন।
-হ্যাঁ হ্যাঁ। টেনশন একদম করবেন না। এই ধরুন, একটা পান মুখে দিন। বলছি। বাংলার প্রফেসর শ্রীমন্তবাবু দারুণ গল্প বলতে পারেন। কল্পনা আর বাস্তবতার অদ্ভুত মিশেল তার বলায়। তবে শেষ দিকে একটা ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় শেষ হয় সে গল্প। শ্রোতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে দারুণ আমুদ পান তিনি।
নিজের মুখের গোটা খিলি গালে চালান করে দিয়ে গল্প শুরু করেন শ্রীমন্ত বাবু।
তখন আমরা কলেজে পড়ি। বাংলা বিভাগের ছাত্র। যৌবনে কোন বাঙালি কবিতা না লিখে থাকে। ঠিক হ'ল কবিতা লিখতে হবে, তবে গতানুগতিক মোটেও না। প্রথমে ফিল্ড সার্ভে হবে। নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলার পর কবিতা লেখা হবে। সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা হবে কবিতার মূল বিষয়।
তা, খাতা কলম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম একদিন। গ্রাম থেকে আধা শহর, বাদ গেল না কিছুই। দেখলাম, কৃষক ধান কাটছে। তাকে বললাম, "কিছু বলুন, একটা কবিতা লিখতে চাই।" সে কোনো উত্তরই দিল না। মুচকি হেসে ধান কাটতে লাগলো ঘ্যাজঘ্যাজ করে।
এরপর একজন কর্মকার। একই অনুরোধ তার কাছেও করা হ'ল। "দাদা, একটু বলবেন, এ্যাই একটা কবিতা লিখবো আর
কী।" তিনি জ্বলন্ত চুল্লী থকে ডগডগে লাল লোহার টুকরো বের করে এনে দুমদাম পেটাতে লাগলেন একমনে। উত্তর কিছুই পাওয়া গেল না। এরপর, রজক, ক্ষৌরকর্মি, মৃৎশিল্পী এদের কাছেও যাওয়া হল। ফলাফল এক, সবাই নিজের কাজে মহাব্যস্ত, উত্তর নেই।
সে যা-ই হোক। কবিতা তো লিখতেই হবে। লেখাও হয়ে গেল। শর্ত ছিল যাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কবিতা লেখা হবে, সেই কবিতা তাদেরকেই শোনাতে হবে। জানতে হবে তাদের প্রতিক্রিয়া। অনেক সাধ্যসাধনার পর অবশ্য আনা গিয়েছিল তাদের। ওঁদের বসানো হ'ল। চা মিষ্টিরও ব্যবস্থা ছিল। তা, গালে হাত দিয়ে মনযোগ সহ শুনলোও ওঁরা আমার লেখা কবিতা।
সবশেষে প্রতিক্রিয়ার পালা। -আচ্ছা বলুন তো, কবিতাটা শুনে কী বুঝলেন আপনারা? কিছুক্ষণ একদম চুপচাপ। আবারও অনুরোধ করা গেল। ওঁরা প্রথমে পরস্পর এ ওর মুখের দিকে তাকায়, কিচ্ছু বলে না। অনেক পীড়াপীড়ির পর শেষমেশ, সেলুনের সেই লোকটা উঠে দাঁড়ালেন। - বাবু, একটা কথা, কবিতাটার গভ্ভে মস্ত বড় বড় সব কথা বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমরা একমত। তবে আমরা কেউ কিছুই বুঝিনি।
বিধানচন্দ্র দে
জীবন সন্দর্ভে
----- বিধানচন্দ্র দে
জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি
ক্রমাগত সংঘর্ষ আর
সমঝোতার উপাখ্যান----
জীবন মানে জিগিষা,
জীবন মানে জীবিকা
জীবনের জন্যে জিঘাংসা
জীবন থেকেই জিজ্ঞাসা ---
উৎস থেকে মোহনা, আর
তট চর জলে ভেসে নদ নদী ।
এ আকাশ বাতাস মাটি
স্পর্শ করে কিয়ৎকাল
অবগাহনের নাম যদি হয়
জীবন
তাহলে জন্ম জন্মান্তরের
জীবন জীবনের খেলা
এক মস্ত প্রতারণা
স্বপ্নীল ধোঁকা ।
মিতালি দে
হায় হেন রণঝংকারে
------ মিতালি দে
সমুদ্র নীলের স্বপ্নীল জগতে
ছোপ ছোপ সবুজে
ধূসর কালো বাদামি ছোট বড় অজস্র পথ ধরে
আমজনতা ছুটে চলে
শতাব্দীর পর শতাব্দী
শান্তির কোটর ছেড়ে অনির্দিষ্টের পথে
উদবাস্তু সময়ে আকুল অসহায়তায়,
পেছনে হায়েনার দল
ভারি বুটের শব্দ
প্রবল গোলাবর্ষণে
হিংস্র উন্মত্ততায়
বাতাসে হিসহিস শব্দে
গ্রাম গঞ্জ শহর তুলোট কাগজে ।
যারা সাম্রাজ্য ধরে রাখে
যারা মুষ্টিমেয়
রূপার কাঠি বদলে
যারা সোনার কাঠি রাখে
যারা মানচিত্র পালটায় ইচ্ছে য মতো
ক'জনার খেয়াল খুশি
গনদেবতার ভাগ্য নিয়ন্তা,
তারা হারায় কালের অতলান্ত কালো গভীরে,
আমজনতা ছুটতে থাকে
পদচিহ্ন আঁকে আগামীর পথে
নদী এসে মেশে যাটির সাথে
মাটি মিশে যায় মানুষের সাথে
মানুষ আকাশ একাকার হয়ে যায়।
চিরশ্রী দেবনাথ
দাহ গান
-----চিরশ্রী দেবনাথ
হঠাৎ মনে হলো আমার কোনো
লেখাই আসল নয়, আগুন থেকে
জন্ম নিয়ে আসেনি সেই ঢেউ,
জ্যোৎস্না থেকে চুরি করেছি আলো
জোনাকি থেকে গোপন আলোর
অভিসার, পল্লবিত গাছ থেকে
ছায়ার নরম কৃষ্ণ ইতিহাস
রৌদ্র দগ্ধ দুপুরের হলকা
মুখে মেখে যাকে চলে যেতে
দেখেছি অভিমানে, তার মুখ থেকে
কুড়িয়ে এনেছি দু একটি অঙ্গার
গরিব হয়েছি আজ, হৃদয়ে ধারণ
করেছি গৈরিক, নির্বাণের স্তুতি
দীর্ঘ রাস্তা একা যাবো, স্বর্ণচোরা
ঘাসে ঢাকা, শস্যের খেতের পাশে,
ঝড়ের আকাশের নিচে যেদিন মাটি
গেয়ে উঠবে দাহ গান, বল্কল
খুলে দেখবো অস্তিত্ব বলতে ছিল
খানিকটা বর্ণমালা, শঙ্খমুখের পাতা।
ভবানী বিশ্বাস
অভ্যাস
------ভবানী বিশ্বাস
আগে অমাবস্যা রাইতে পাহাড় থেইক্যা
নির্দ্বিধায় কেমন ঝর্ণা আনতাম,
ডর কারে কয় চিনতাম না।
মাটি কাইট্যা বানাইতাম পুকুর।
সারাদিন পরিশ্রম করলেও
দিনশেষে কেমন নিশ্চিন্তে ঘুমাইয়া পড়তাম!
প্রেশার স্যুগার বাড়লেও এত চিন্তা হইতো না।
তুমি আইয়নের পর নিজের লেইগ্যা খুব চিন্তা হয়।
মনটা কেবল কু-গায়, কু-কয়।
ভাবি, এইভাবে যে
আমি তোমার অভ্যাস হইয়া গেলাম
আমি চইলা গেলে তোমার কী হইব!
গৌরব নাথ
শুধু আমাকেই শুনা যাচ্ছে
---- গৌরব নাথ
বাথরুমে গিয়ে পায়রা হয়ে বাকুম-বুকুম করি
কত কিনা বলি?
একটা শেষ হয় না আরেকটা কিছু বলে ফেলি
যেন কেউ মন দিয়ে আমাকে শুনছে
পৃথিবীর অন্য শব্দগুলো একান্তে মরে গেছে
শুধু আমাকেই শুনা যাচ্ছে
মধুমিতা ভট্টাচার্য
প্রলাপ
------মধুমিতা ভট্টাচার্য
মন পাগলের ধুম জ্বরে
নকসী কাঁথার তাপ জড়িয়ে
বেহুশ বাউল প্রলাপ বকে
তিন প্রহরের তেপান্তরে,
চাতক তৃষ্ণা বুক ফাটিয়ে
চৈত্র আকাশ ছেদ করে,
বাউল আকাশ বাউল বাতাস
অকাল হেমন্তে ঝড় তোলে,
হাঘরে বাউল তবু
আষাঢ়ে সুখের সাধ করে,
মন পোড়া তাপ শরীরে
ভোর শিশিরের খোঁজ করে,
ধুম জ্বরেতে ঘুম ঘরেতে
গুম হয়ে যায় মনের বাউল,
বালিশ চাপা আকাশ মাপা
এক ফালি মেঘ
টুকরো হয়ে বরফ জমে
রোজ নিয়মের রোদ মাখে।
লোপা চক্রবর্তী
সাধের খেলাঘর
-----লোপা চক্রবর্তী
ব্যস্ত পৃথিবীতে মনের খোঁজ কেউ রাখে না,
দুঃখেরা আসে বিনা নিমন্ত্রনে।
স্বপ্নের অপমৃত্যু এখানে স্বাভাবিক ঘটনা,
তবুও মন আশায় দিন গোনে।
কল্পনার জগৎ সুন্দর হলেও,
দিন শেষে মেনে নিতে হয় বাস্তবতা।
অলস দুপুরে একটু হাসির খোঁজে,
কেউ কেউ বোনে অলীক রূপকথা।
এই পৃথিবীর সকলেই আত্মমগ্ন,
স্বার্থের খেলায় মাতে প্রিয়জন।
ততোদিনই দাম থাকে তোমার,
যতদিন তোমার প্রয়োজন।
তবুও আমরা সাধের খেলাঘর গড়ি,
খুঁজে ফিরি মন ভোলানো খেলনা।
দিনের শেষে ধরা পড়ে যায় জারিজুরি,
হাসি দিয়ে লোকানো গভীর কান্না।
রাজেশ ভট্টাচার্য্য
স্বীকারোক্তি
----- রাজেশ ভট্টাচার্য্য
ময়নাতদন্ত হোক।
সামনে আসুক কঙ্কাল যত
কবর দিয়েছিলে তুমি।
সরে যাক কালো মেঘের ছায়া।
পরিষ্কার হোক এখনই....
আমার প্রথম মৃত্যুরহস্য।
স্বর্ণপদকের দাবি জানাবো।
পরিয়ে দেবো তোমার গলায়।
আমার দ্বিতীয়-তৃতীয় মরণ বার্তা...
তোমার তুমিকে না চেনালে।
রচনাকাল:- ১৬/০৩/২০২৩ ইং
শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২
সম্পাদকীয়
কথা রেখেছে সবাই,
রাখিনি শুধু আমি।
ক্ষমা করে দিও আমায়,
তোমাদের ভালোবাসায় বাঁচি আমি।
কথা ছিল নতুন বছরের প্রথম দিনেই ভাসিয়ে দেবো সোনার তরী মহাসমুদ্রের দিকে। কিন্তু পারিনি। জীবন প্রতিকূলতায় চলতে চলতে আজ ষোড়শতম দিনে এসে পৌছালাম।
প্রিয় পাঠক প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশের পর আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা এবং উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা অভিভূত। আর তাই হয়তো আপনাদের ভালোবাসার টানেই আবারো হাজির হতে পেরেছি অনেক আশা ও স্বপ্ন জড়িত "সাহিত্য নয়ন" - এর "নববর্ষ সংখ্যা ২" নামক ২০ তম সংখ্যা নিয়ে। আপনাদের নিরন্তর সাহচর্যে সমৃদ্ধ "সাহিত্য নয়ন"-এর এই পথ মসৃণ ও সুগম হোক। নতুন বছরের অনেক অনেক শুভকামনা রইল ।
ধন্যবাদ শ্রদ্ধাসহ-----
রাজেশ ভট্টাচার্য্য
সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন
প্রাপ্তি (শুভেচ্ছা বার্তা)
প্রাপ্তি(শুভেচ্ছা বার্তা)
প্রথম সংখ্যা প্রকাশের পর
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন----
এখনি পত্রিকা দেখতে পেয়েছি। সম্পাদকের এই প্রয়াসকে অভিনন্দন। এটি হবে একটা দর্পণ, যা সমাজ থেকে গ্লানি দূরীকরণের সহায়ক । এর সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
মধুমঙ্গল সিনহা লিখেছেন-----
খুব ভালো লাগলো।আসুন সবাই মিলে এগিয়ে চলি।অসংখ্য ধন্যবাদ....
দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের পর
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য লিখেছেন-----
উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব ও প্রকাশক- সম্পাদক সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি৷ এপ্রয়াস আগামীর দিকে এগিয়ে চলুক৷ এউদ্যোগের জন্যপ্রয়োজনীয় অর্থের যোগান কিভাবে হচ্ছে৷ এব্যাপারে আমাদের কিছু করণীয় থাকলে বলবেন৷
তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশের পর
বাংলাদেশ থেকে সাগর পাল লিখেছেন-----
সাহিত্য নয়ন একদিন সমাজকে সঠিক পথ দেখাবে আমার বিশ্বাস। পত্রিকার সম্পাদককে এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সাধুবাদ জানাই। সার্থক হোক এই প্রচেষ্টা।
চতুর্থতম সংখ্যা প্রকাশের পর
পশ্চিমবঙ্গ থেকে লিখেছেন কবি অমল কুমার মাজি -----
সু-প্রভাত ! একরাশ অনিশ্চয়তার বোঝা মাথায় নিয়েই শুরু হ'চ্ছে প্রতিটি সকাল !তবু আমরা সাহিত্য নয়ন পরিবার দিশা খুঁজব এক সুস্থ সংস্কৃতির।আমরা কবিতা লিখব,-গান গাইব। সুখের গান তো অনেক হ'য়েছে,এখন না হয় দুঃখের গানই গাইব,দুঃখের কবিতাই লিখব।যতদিন স্পন্দন থাকবে দেহে ততদিন থামব না আমরা।এই মাত্র প'ড়ে ফেললাম পত্রিকা। খুব সুন্দর সাজানো অলঙ্করণ ! সব লেখার সুর যেন একটি তারেই বাঁধা।কিছু সংশয়,কিছু প্রতিশ্রুতি,-"যদি ফিরে আসি,সূর্য হ'ব আমি,দগ্ধ ক'রে পুরাতনের কালিমা নব সোনালীর অবনী গ'ড়ব ! "সংশয় "আছে।"যদি"আছে কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ও তো আছে। "ধরিত্রী মাতার ললাটে চিন্তার ভাঁজ দেখেছেন কবি হেমন্ত দেবনাথ!ঠিকই! কবি কিশোর কুমার ভট্টাচার্য্য নীলযমুনার জলকে কালো পঙ্কিল দেখেছেন কিন্তু 'বিশুদ্ধতায় ফেরার আর্তি'আশা জাগায়!সম্পাদকীয়তে সকলকে সাথে নিয়ে চলার ঐক্যতান রণিত হ'য়েছে,-'আমরা সবাই মিলে ছোট্ট তরী খানি ভাসিয়ে দিয়েছি সাহিত্যের মহাসমুদ্রের দিকে।' অনবদ্য অভিব্যক্তি, 'মহাসমুদ্রই' তো !এমন একনিষ্ঠ কর্ণধার যখন আছেন তখন তরী আমাদের চ'লবেই !সাথে আছি।ভগ্ন হৃদয়। ক্ষুদ্র সামর্থ।তবু আছি পাশে।অনেক অনেক শুভকামনা সম্পাদক এবং অবশ্যই সমস্ত'কুশীলব'দের জন্য।
পঞ্চম সংখ্যা প্রকাশের পর
অভিজিৎ চৌধুরী লিখেছেন-------
এক অসাধারণ উদ্যোগ। আমি সাহিত্য নয়ন সাহিত্য পত্রিকার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।
ষষ্ঠতম সংখ্যা প্রকাশের পর
বর্ধমান থেকে অমল কুমার মাজি লিখেছেন ----
অনেক অভিনন্দন।পত্রিকা পেলাম।এবং অত্যন্ত আনন্দিত হ'লাম।সময় নিয়েই প'ড়ব।অনেক নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফসল।তাই নিষ্ঠার সঙ্গেই প'ড়তে হবে। "ব্যর্থ চিঠি" প'ড়ে ফেললাম,কিন্তু এই সাতসকালে না প'ড়লেইভাল ক'রতাম বোধ হয়!সকাল বেলায় কাঁদতে হ'ত না এমন ক'রে! অনেক অনেক ভালোবাসা।
সপ্তম সংখ্যা প্রকাশের পর
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন-----
" সাহিত্য নয়ন" সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে, তার জন্য সন্তোষ ব্যক্ত করছি। এজন্যে প্রচ্ছদ- শিল্পী, অক্ষরবিন্যাকারী, কবি-লেখক, মুদ্রণকারী, প্রকাশক, সম্পাদক,সত্বাধিকারী, পরামর্শদাতা--- এককথায় যে যেভাবে দূর বা অদূর থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সত্যি এ-রকম একটা উদ্যোগ বজায় রাখা চারটে খানা কথা নয়।
বিষয়- নির্বাচন অভিনন্দনযোগ্য। প্রত্যেকের লেখার মধ্যে একটা ভিন্নস্বাদের বৈচিত্র্য রয়েছে। শব্দচয়নও সাবলীল হয়েছে। আমি এই সাহিত্য-পত্রিকার উৎকর্ষতা কামনা করি।
শুভ কামনায়-----
হেমন্ত দেবনাথ।
দিনাঙ্কঃ-29/10/2020.
অষ্টমতম সংখ্যা প্রকাশের পর
দেবিকা ভট্টাচার্য লিখেছেন-----
খুব সুন্দর হয়েছে। প্রতিটি লেখা অসাধারণ। অনেক অনেক শুভকামনা রইল। সাহিত্য নয়ন সাহিত্য পত্রিকা রামধনুর রং এর মত আরো রঙিন হয়ে উঠুক।
নবমতম সংখ্যা প্রকাশের পর
চন্দ্রলাল নাথ লিখেছেন----
I personally congrats to Shittya Nayan as it has been raises a great scoops to the new & old writer of North Tripura (as well as Tripura) in the Literacy field. --- I convey my heart fail gratitude to the organizing body's all members art.
দশমতম সংখ্যা প্রকাশের পর
চন্দ্র লাল নাথ লিখেছেন -----
"Sahitya nayan" is an excellent attempts to focus the articles of different writers. I cordially congrats to the Aditor & the all executive members of the committee for theirs hard labour. I wish every success the E-paper of the Sahitya Nayan.
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন-----
সম্পাদকীয় সুষমামন্ডিত হয়েছে। এছাড়া বাকি লেখাগুলো স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। সর্বোপরি, স্বল্প আয়োজন হলেও গভীরতার স্পর্শে কোনো অংশেই কম নয়। আমি অনলাইন সাহিত্যপত্র"সাহিত্য নয়ন"-এর সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করি।
ধন্যবাদান্তে---
হেমন্ত দেবনাথ।
একাদশতম সংখ্যা প্রকাশের পর
অমল কুমার মাজি লিখেছেন----
সাহিত্য নয়নের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং মূল্যবান একুশে ফেব্রুয়ারির একাদশ সংখ্যাটি পেলাম।অনেক অনেক অভিনন্দন সম্পাদক তথা কুশীলবদের।যাঁরা প্রত্যেকে মূল্যবান লেখা দিয়ে "সাহিত্য নয়নের"পাতা সমৃদ্ধ ক'রেছেন।তরুণ সম্পাদকের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ না জানালে সত্যের অপলাপ হয়।চরৈবেতি।
দ্বাদশতম সংখ্যা প্রকাশের পর
হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন------
সদ্যপ্রকাশিত " সাহিত্য নয়ন"-এর 'বসন্ত সংখ্যা' টি পাঠ করে বড়োই প্রীত হলাম। অনবদ্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উদ্ভসিত প্রতিটি লেখা। মনটাতে দাগ কেটে যায় লেখাগুলো। একটি পড়ার পরই আরেকটি পড়ার ইচ্ছে আমার জেগেছিল এবং এটা হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। সবশেষে বলি, সম্পাদকীয়টা হয়েছিল খুবই সময়োচিত ও প্রাসঙ্গিক , মাধুর্যপূর্ণ ।
কবিতার সাথে দু' একটি আর্টিকেল/ স্বল্প কলেবরযুক্ত নিবন্ধ বা ছোটগল্প থাকলে সাহিত্যপত্রিকাটি আরোও বৈচিত্র্যে ভরপুর হয়ে উঠতো। অবশ্য তার মানে এ নয় যে এখানে কোনো কিছুর খামতি ঘটেছে। বরং লেখাগুলো যেন হয়েছে বসন্তের রঙের নেশায় এক মায়াবী স্বপ্ন নিকেতন। আমি " সাহিত্য নয়ন"-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
ধন্যবাদান্তে----
হেমন্ত দেবনাথ।
দিনাঙ্ক:-29/03/2021.
গৌরী দেবনাথ লিখেছেন----
সাহিত্য নয়নের প্রতিটি লেখা যেমন রসপূর্ণ হয়েছে, তেমনি মাধুর্যপূর্ণ হয়েছে। এই জন্য সাহিত্য নয়নের সম্পাদককেও ধন্যবাদ জানাই। আমি সাহিত্য নয়নের অগ্রগতি কামনা করি।
১৫ তম এবং ১৬ তম সংখ্যা প্রকাশের পর সম্মানিত পাঠক কর্তৃক কিছু প্রাপ্তি :-
ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগর থেকে হেমন্ত দেবনাথ মহাশয় লিখেছেন------
"সাহিত্য নয়ন"-এর ষোলতম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এতে আমরা গর্বিত। খুব ভালো লাগছে প্রচ্ছদ দেখে, সম্পাদকীয় লেখাটা শৈল্পিক দ্যোতনা লাভ করেছে। এজন্য সম্পাদককে ব্যক্তিগত ভাবে স্বাগত জানাই।
প্রতিটি লেখাই আমার হৃদয়কে নাড়া দিতে পেরেছে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। যাদের ঐকান্তিক প্রয়াসেই সফলতা এসেছে, তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি। আমি সাহিত্যপত্রটির অগ্রগমন কামনা করছি।
সশ্রদ্ধ অভিনন্দন সহ----
হেমন্ত দেবনাথ।
তারিখ :-01/08/2021.
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে অমল কুমার মাজি মহাশয় লিখেছেন-------
আমার প্রিয় "সাহিত্য নয়ন পত্রিকার জুলাই 2021 সংখ্যা পেলাম।অজস্র ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা পত্রিকার কর্ণধার ভ্রাতৃপ্রতিম রাজেশ ভট্টাচার্যকে।তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এমন একটি সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়ে চলেছে নিয়মিত।শুভেচ্ছা র'ইল সমস্ত কলাকুশলীদের।যাঁদের সুচিন্তিত লেখনীর আঁচড়ে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে পত্রিকা।আমি কণামাত্র অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। অনেক অনেক শুভকামনা।
ত্রিপুরার ধর্মনগর থেকে জয়ত্রী চক্রবর্তীর মহোদয়া লিখেছেন-----
বাহ্...সম্পাদক মহাশয়... খাসা হয়েছে সম্পাদকীয় খানা...বড় ভালো লাগলো ভাই...
বাংলাদেশ থেকে দিলারা বেগম লিখেছেন-------
সাহিত্য নয়ন সমাজের দর্পণ। সম্পাদক মহাশয়ের এই প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। সকল কবিদের প্রতি রইল শুভকামনা। সাহিত্য নয়ন এগিয়ে যাক।
ধর্মনগর থেকে হেমন্ত দেবনাথ মহোদয় লিখেছেন-------
" সাহিত্য নয়ন"-এর পঞ্চদশতম সংখ্যা ( বর্ষামঙ্গল বিষয়ক সংখ্যা--2) প্রকাশ করার জন্য সম্পাদকসহ সংস্থার সকলকে জানাই হার্দিক ভালোবাসা ও আন্তরিক অভিনন্দন। লেখাগুলো মনোমুগ্ধকর ও সুখপাঠ্য হয়েছে।
আমি জোর গলায় বলবো যে, পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতির বেলাল্লাপনার বিরুদ্ধে ও ঐক্যস্থাপনের পক্ষে " সাহিত্য-নয়ন" আজকের দিনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে ও মনকে পরিশীলিত করার ব্যাপারে লেখাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। আমি সাহিত্য পত্রিকাটির অগ্রগতি কামনা করি।
শুভকামনায়--
হেমন্ত দেবনাথ।
ধর্মনগর থেকে গৌরী দেবনাথ মহোদয়া লিখেছেন-----
সম্পাদককে ধন্যবাদ জনাই পত্রিকা প্রকাশের জন্য।প্রতিটি লেখা পড়ে মন ভরে গেল।
বাংলাদেশ থেকে বিমল বিশ্বাস মহোদয় লিখেছেন-----
আজকের সমাজে সাহিত্য নয়নের বড়ো প্রয়োজন। আমি সাহিত্য নয়নের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
১৭ থেকে ১৯ তম সংখ্যা প্রকাশের পর
ধর্মনগর থেকে হেমন্ত দেবনাথ মহোদয় লিখেছেন------
অনাবিল আনন্দ লাভ করেছি "সাহিত্য নয়ন"-এর সতেরতম সংখ্যা পাঠ করে। লেখাগুলো অনবদ্য। সম্পাদকীয় চমৎকার হয়েছে। যাঁদের লেখনী স্পর্শে সাহিত্যপত্রিকাটি পূর্ণতা লাভ করেছে, তাঁদের জানাই ধন্যবাদ।
"সাহিত্য-নয়ন"-এর জয় হোক্।
দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে মিঠু মল্লিক বৈদ্য লিখেছেন----
আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা। এগিয়ে চলুক সাহিত্য নয়ন।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে অমল কুমার মাজি লিখেছেন-----
অনেক অনেক অভিনন্দন নির্দিষ্ট দিনে পত্রিকা প্রকাশের জন্য।অনেক ভালোবাসা।শুধুমাত্র সম্পাদকীয়টি প'ড়লাম। অসাধারণ এবং প্রাসঙ্গিক সম্পাদকীয় প্রশংসার দাবী রাখে এ কথা বলাই বাহুল্য।
খোয়াই ত্রিপুরা থেকে শিল্পী আচার্য লিখেছেন------
শুভকামনা রইল এগিয়ে যাক সাহিত্য নয়ন
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে অমল কুমার মাজি লিখেছেন----
আমার প্রিয় "সাহিত্য নয়ন পত্রিকা "পরিবারের সকল লেখক -লেখিকা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই হার্দিক অভিনন্দন।আর পত্রিকাটিকে যিনি দীর্ঘদিন নিরলস ভাবে পরিচালনা ও সুচারু সম্পাদনায় মহিমাণ্বিত ক'রে চলেছেন সেই ভ্রাতৃপ্রতিম রাজেশের জন্য র'ইল অন্তহীন ভালবাসা।
ধর্মনগর থেকে হেমন্ত দেবনাথ লিখেছেন-----
"সাহিত্য নয়ন" সমস্ত প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে তার বিজয়-পতাকা উড্ডীন রেখেছিল,রাখছে এবং রাখবেও। এটা আমার প্রত্যাশা। তাই তো দেরী করে হলেও পত্রিকার এ সংখ্যাটা সগৌরবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ জন্যে আমি সম্পাদকসহ সাহিত্যনয়ন পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
এ সংখ্যার প্রতিটি লেখা সাহিত্য-গুণে ভরপুর ও আকর্ষণীয়। কিছু কবি,লেখকের পরিচিতির সংযোজন পত্রিকাটিকে ভিন্নমাত্রা প্রদান করেছে।
আমি "সাহিত্য-নয়ন" -এর সর্বতোভাবে মঙ্গল কামনা করছি।
বাংলাদেশ থেকে বিল্লাল হোসেন লিখেছেন-----
প্রতিটা লেখা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। আমি আপনাদের পত্রিকার নিয়মিত পাঠক বলতে পারেন। সাহিত্য নয়নের সফলতা কামনা করছি।
চিরশ্রী দেবনাথ
নববর্ষ
-----চিরশ্রী দেবনাথ
এসো নববর্ষ অর্ণবমেঘে, এই পৃথিবীতে আবার
যারা চলে গেছে, অকালে অঝোরে ঋতুচিহ্ন নিয়ে
সকল নৃশংসতা... বিষ ও আগুনের মতো হৃদয়ে ধারন করে
ক্ষমা করো তোমরা এই পৃথিবীরে, সদ্যজাত বঙ্গাব্দকে
আসতে হয় ক্ষীণ ধর্মবোধ আর শ্বেতপ্রদাহ নিয়ে নিয়ম করে
তাই আসা, তাই আসা, উন্মাদ কালবৈশাখীর সঙ্গে
মধ্যরাতে পিচ ঢালা রাস্তায় নীলাভ হিমকর ধরাচ্ছে নেশা
দুপাশের বাড়ি থেকে কাচের জানালয় আলো পড়ছে ভেঙেচুরে বুঁদ হয়ে
জল ছিটকে চলে যাচ্ছে গাড়ি, নির্জনতা পছন্দ করেনি সে
তরুণ ড্রাইভার বন্দিশের ঠিকানা বদলাচ্ছে বার বার
তাই দেখে ফ্রক পরা কিশোরী পুনর্বার নেমেছে বর্ষবরণে
দুহাতের খই ভরা ডালায় তার বারোটি মাস রাখা সুঘ্রাণে
কাঁচা কাঁঠালের আসক্তি কষ লেগে যাচ্ছে হাতে ও স্পর্শে
মথুরা শহর যেমন করে পারে না ভুলতে দূর বৃন্দগ্রামকে
আজকাল নির্বাচনী প্রচারের পর যুবকের দল ফিরে যায়
সঙ্গে কী থাকে, কী লাভ , কী হয় আসলে, তবুও অমোঘ নেশা,
সমুদ্র দ্বীপ যেমন করে দার্ঢ্য থাকে ঢেউয়ের নরম রিরংসায়,
অশ্রু ও রক্ত ভুলে গনতন্ত্র ধরতে চায় কেবল এক প্রত্যয়ী হাত ;
স্লোগান মিথ্যা হয়, প্রতিশ্রুতিও, তবুও দেশ বলে
জাগিয়ে রাখো ; জেগে থাকো ; হাজার অন্ধকার আলোরই মতন অবশেষে,
পথ শেষে তাই এই নববর্ষ মায়াময়, রোদময় ;
বৈশাখে জন্ম নেওয়া পাখি শিস দিতে শিখেছে আজই, খিস্তিও ;
তার শিশুকাল নিস্তব্ধতা শেখেনি, অচিরেই আছড়ে পড়েছে যৌবন ;
প্লাবন তাই সমকালে, আগামীতে উর্বরা পলি, স্বতন্ত্র শস্যক্ষেত্র।
কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
চলো যাই
------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য
চলো, চলো যাই
হেমন্ত নিবাসে,
টাকা চাই না, পয়সা চাইনা,
চলো যাই
একটুখানি শান্তির আশে।
হে কিশোর!
প্রৌঢ় হেমন্ত
এখনো দেখো কেমন
যৌবনের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত।
পাতা গুলো ঝিরিঝিরি স্বরে
পড়ছে ঝড়ে
এক একটি দিন করে।
সময় যাবে চলে
বসন্ত শেষে গ্রীষ্ম এসে যাবে ;
রবির পরশে নতুন বরষে সাজবে বৈশাখ।
চলো যাই বৈশাখী পূর্ণিমায়
রবির সাজানো আঙ্গিনায়,
বসে সময় কাটাই
কিছু কথায়;
হাসি ঠাট্টায়,
রবি-চন্দ্রের
আশিস্ পাবার আশায়।
রচনা কাল:- ২১/৪/২০২২, বৃহস্পতিবার।
হেমন্ত দেবনাথ
সাম্যের কবি
------হেমন্ত দেবনাথ
যার লেখায় ছিল, বিদ্রোহের ছোঁয়া
স্বভাব ছিল না তাঁর কারো কাছে মাথা নোয়া।
শোষণের বেদীমূলে ঢেলে দিয়ে ঘৃণা
বাজালেন তিনি বিদ্রোহের “অগ্নিবীণা”।
লিখলেন তিনি “কান্ডারী হুঁশিয়ার” আর “বিদ্রোহী”
রক্তক্ষরা তাঁর লেখায় চমকে গেল মহী।
লিখলেন তিনি বাউল, শ্যামা, ভজন, কীর্তন আর গজল,
অফুরন্ত সুর-বৈভব এবং বাণীর অপর ঐশ্বর্যে মুগ্ধ সকল ।
লেখনী তাঁর গর্জে উঠেছে দুর্বলের শোষণ নীতির বিরুদ্ধে,
সৃজনগাথার পংক্তিতে বিধৃত সবলের সাথে দুর্বলের যুদ্ধে।
বললেন তিনি “বাজাও শঙ্খ, দাও আজান।”
তাঁর হৃদয় থেকে বাঙ্ময় হল ঐক্যের জয়গান।
নজরুলের সৃষ্টিগাথায় আমরা পাই যে বাঁচার আশা,
‘টর্ণেডো’-র মতো আঘাত আসুক যতই সর্বনাশা।
অমল কুমার মাজি
মন বলে
-----অমল কুমার মাজি
নাইবা গেলাম এক্ষুণি সব ছেড়ে
আর কিছুকাল থাকলে কিসের ক্ষতি
জানি গো সব নেবেই তুমি কেড়ে
তবুও দাও সামান্য সম্মতি।।
কখনো বা মন বলে যাই-যাই
একটু পরেই তাকাই ফিরে -ফিরে
স্বজন-মায়ায় বাঁচারই গান গাই
সময় তুমি একটু চলো ধীরে।।
ফুরিয়ে যাওয়ার রৌদ্র -ছায়া খেলা
চ'লতে থাকে শুধুই নিরন্তর
একটু সোহাগ একটু অবহেলা
এসব নিয়েই চ'লছি জীবন 'ভর।।
এমনি ক'রেই যায় যদি দিন যাক
আর ক'টা দিন গাইতে যে চায় মন
দিনের আলো আর কিছুক্ষণ থাক
জীবন ক'রি একটু রোমন্থন।।
মিঠু মল্লিক বৈদ্য
সন্নিবদ্ধতার উপসংহারে
-----মিঠু মল্লিক বৈদ্য
আগুণ পাখির চরম উদ্যামতায়,
অংশুমালীর সারল্যতায় যাদের ভয়,
তাদের সমুখে হও হিমালয়।
অবিশ্বাস, কূটনীতি আর
হীনমন্যতা যাদের হাতিয়ার
তাদের সমুখে ছড়াও রক্তিম ভালোবাসা।
ভালোবাসায় যারা বাণিজ্য দেখে,
সৌহার্দ্যে খোঁজে সৌজন্যতা
তাদের সমুখে হও বহমান শৈবলিনী।
শিষ্টতায় যারা কপটতা খোঁজে
মিষ্টি হাসির আড়ালে লুকায় ছলনা
তাদের সমুখে হও দিলদরিয়া।
যারা সামনে নয়
পেছনে রচে কপটতার খেলাঘর
তাদের লাগি সাজ উন্মাদ কালবৈশাখী।
নৈতিকতায় যাদের প্রশ্নচিহ্ন,
অন্যের ছায়াতলে খোঁজে নিজের অস্তিত্ব,
তারা কখনো হয়না কারোর আপন।
যাদের ভালোবাসার ঋণে হয়েছ ঋণী
ঋণ শোধের ডাকে হও আগুসারী
দাবানলের মতো জ্বালিয়ে দাও সকল বিদ্বেষ নীতি।
সকল সন্নিবদ্ধতার উপসংহারে
আগুন পাখিরা উড়ুক নিজ মহিমায়
অংশুমালী ছড়াক আলো আপন গরিমায়।



















