সাহিত্য নয়নে আপনাকে স্বাগত

"সাহিত্য নয়ন" সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত। ( প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই পত্রিকার কোন অংশ কেউ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে)

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

রাজেশ ভট্টাচার্য্য


 

                  অশ্রু


                           ------রাজেশ ভট্টাচার্য্য


তুমি আমাকে আঘাত না করলে

হয়তো এতো সুর খুঁজে পেতাম না।

উলঙ্গ আকাশের নীচে যেদিন

আঘাত করেছিলে অকৃপণ হয়ে,

সেদিন বৃষ্টি নামেনি ভুলেও।

নীলিমা আজও কালো।

ব্যাথা যে বরফ হয়ে আছে।

হয়তো বৃষ্টি হয়ে নামবে,

তোমার ভালোবাসার উষ্ণপরশে

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য


 

                এসো বৈশাখ


                           ------মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য


চৈতীর চিলতে চাঁদ, স্তব্ধ নিশিথিনী

মিষ্টি আবেগ;নির্মল হাসিতে,নতুনের উঁকি।

মনোরম প্রাতে সুললিত রবি আভায়

বৈশাখের সমাগম,চৌদিকে আশার স্বণ।


এসো নূতন; এসো আমার ঘরে এসো।

সুখ কারিগর সেজে; দৈন‍্যতা ঘুচায়ে;

হীনতা মুছায়ে; এসো তুমি প্রতি দ্বারে,

শূন‍্য প্রাণে পূর্ণতা দিয়ে সাজ নবসাজে।


বিহগ কূজনে,ঝরাপাতার বহতা স্রোতে

ভাসছে বিষাদের নির্মমতা,ক্ষুধাতুর মনে

বুভুক্ষার  জলন্ত  অনল ;তপ্ত দাবানল

মুখোশে আবৃত মানবিক বদান‍্যতা।


এসো বৈশাখ,এসো নব সাজে

দীপ্ত রবির স্নিগ্ধ আলোর পথ বেয়ে।

মিটায়ে ঔদাস‍্যতা ;শুচি করো ধরা

পশ্চাৎ জীর্ণতার নি:শব্দ উদ্ভাসনে।

শান্তশ্রী মজুমদার


 

উদাসী বসন্ত 


       -----------শান্তশ্রী মজুমদার 


     শীতবুড়ি সাদা কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন লাঠি হাতে ঠক্ ঠক্ করতে করতে হিমালয়ের দিকে পা বাড়ায় তখন ই কোন এক ভোরে ঘাসের বন থেকে উঁকি দেয় হলুদ, বেগুনী বুনো ফুলেরা। মনু নদীর পাড়ে পাড়ে, শুকিয়ে যাওয়া ঝোপ ঝাড়ে থোকা থোকা নয়নাভিরাম ঘেঁটু ফুলেরা হাসতে শুরু করে। নতুন পাতায় সেজে ওঠা আমগাছের ডালে ডালে প্রস্ফুটিত হয় আম্রমুকুল। আর হঠাৎ করেই প্রকৃতি মুখরিত হয়ে ওঠে কোকিলের কুঁহু ডাকে। 


জানিনা বসন্তের কোকিলা এতোদিন কোথায় ঊনকোটির কোন জঙ্গলে অপেক্ষা করছিলো ঋতুরাজের। বসন্তের আগমনের বার্তা নিয়ে সুরেলা কন্ঠে গান গাইতে গাইতে হাজির হয়ে যায় আমার উঠান পাড়ের আমগাছের মগডালে। কখনো সে নীমগাছের ডালে, কখনো কৃষ্ণচূড়ার পাতার আড়ালে, কখনো বা ঝাঁকড়া দেবদারুর সরু ডালে বসে আপন মনে ডাকতে থাকে তার বসন্তের সাথীকে। 


আশ্চর্য লাগে, এতো কোকিল থাকে আমাদের কৈলাসহরে! না কি একটি কোকিলা ই পূবের ঊনকোটি থেকে উড়ে বেড়ায় পশ্চিমের কাঁটাতারের বেড়া পর্যন্ত। 

চিরহরিৎ অপরূপা জগন্নাথপুর চা বাগিচার ছায়াবৃক্ষের ডালে ডালে যে কোকিলাকে ডাকতে দেখেছি, তাকেই আবার দেখেছি মনুভ্যালীর হালাইছড়ার গহন বাঁশের ঝাড়ে। 


আমার ভাবুক মন কোকিলাকে জিজ্ঞেস করে ----

--বনে বনে দেখিস যখন পরের বাসা, ও পাখি /

একটি বারও পরানটা তোর উদাস হয়ে যায় না কি? 


মধ্যরাত থেকেই আমগাছের মগডালে বসে কোকিলার সুরেলা মদির ডাক শুরু হয়। সারাটি রাত ধরে সে অবিশ্রান্ত ভাবে ডাকতে থাকে। আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে বিরহী কোকিলা তার  প্রেমিক কোকিলকে আহ্বান করতে থাকে। ভোরের সূর্য পূব আকাশে আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে তবুও কোকিলার প্রেমিক মেলে না।আমার মননে তখন একটাই সুর বাজতে থাকে ----

ভালোবাসা দেখলি শুধু, ভালোবাসা বুঝলি না। 

বুকের মাঝে হারায় যে মন, সে মনটারে খুঁজলি না। 


----মনে হয় একটি কোকিলারই সাথী হারিয়ে যায় প্রতি বসন্তে! না কি প্রতি বসন্তে নতুন নতুন সাথী চাই কোকিলার! তাই বোধহয় কুঁহু সুরে উদাত্ত আহ্বান জানাতে থাকে। তার মদির আহ্বান কি পৌঁছায় না সংযমী কোকিলের কানে! 

----কি সাধ আজো গোপন আছে, দিব্যি করে বল না আমায় ভাই রে.....। 


ফাল্গুন চলে যায়,চৈত্রও চলে যায়..... বৈশাখ এসে যায়। কিন্তু কোকিলার সাথী খোঁজার পালা,ঘর বাঁধার আশা হারিয়ে যায় না। কালবৈশাখীর ঝড় জলের দুপুরেও বৃষ্টিস্নাত সুউচ্চ গাছের মগডালে বসে, পাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে কোকিলা ডেকে চলে আপন মনে। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ভেঙে গুড়িয়ে ছত্রখান হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে ঘুঘু, শালিকের বাসা। কোকিলার আপন বাসা নেই, তাইতো সে ভবঘুরে। 

------সবারই তো ঘর রয়েছে, কেন রে তোর বাসা কোথাও নাই রে, /কখনো কি মন বলেনা, এমনি বাসা একটি আমি চাই রে /ও কোকিলা তোরে শুধাই রে....। 


কৈলাসহরের অঙ্গনে বসন্তকাল, ফুল আর কোকিল যেন প্রকৃতির অপরূপ দান। ছয়টি ঋতুই এখানে নিজের নিজের সৌন্দর্যের ডালা সাজিয়ে হাজির হয়ে যায় নির্দিষ্ট সময়ে। আমাদের মনুর তীরে বসন্তে লাল পলাশের পদচারণা ঘটে না সত্যি,কিন্তু বনে জঙ্গলে অনাদরে ফুটে থাকা ঘেঁটু ফুলেরা সুমিষ্ট সুবাস ছড়িয়ে অপেক্ষা করে পথিকের। হলুদ বরণ কলকি ফুলেরা বসন্ত উত্সব করে গাছে গাছে বাসন্তী হলুদের রঙ মেখে। 


ঊনকোটির ছায়ায় বিস্তৃত এই জনপদে বসন্তের রাতে ঝড়ো হাওয়া আর শিলাবৃষ্টি গাজনের নৃত্য শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরে গেলে, ভোরের নরম আলোয় যে শীতল হাওয়া বইতে থাকে তাকেই বলে বোধহয় বসন্ত সমীরণ। 

এই আদুরে শীতল হাওয়া মনে করিয়ে দেয় হারিয়ে যাওয়া  মায়ের মমতার স্পর্শ কে। ঝিরিঝিরি হাওয়ায় বাগানের লাল জবা গুলো দুলতে থাকে আর বর্ষা স্নাত মাধবীলতারা লাল গোলাপী আভা ছড়াতে থাকে ভোরের সূর্যের কমলা রঙ গায়ে মেখে। দূরের কোন এক গাছে বসে কোকিলার সুরেলা উদাসী ডাক কানে আসলেই মন  উদাস হয়ে যায় অজানা শূন্যতায়। 


বসন্ত আসে, কোকিল ডাকে, প্রকৃতি সেজে ওঠে ----এই সবকিছুই মনোজগতের চিন্তন মননকে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।কোন জনমের ভালোবাসার অপ্রাপ্তি মথিত করে তোলে বিরহী মনকে। 

----------------------------11/04/2021

প্লাবন সরকার

                আমি গাঁজাখোর


                                 ------প্লাবন সরকার


মদে আর নেশা নাইরে, পাই না আফিমে,

ভোলে বাবার নামে একটু গাঁজা এনে দে।

শেখ সিগারেট নাই শেখের,কিনেছে জাপান,

নতুন শেখ টানলে মনে হয় টানছি পচা পান।

নেভি তো হেভি লাগে হোক না বাড়তি দাম,ু

বেনসন ও টানছি মাঝে খেয়ে বন্ধুর পাম।

গোল্ডলিফটা টানছি বেশি ডার্বিতে নাই স্বাদ,

এলডি সোনালি গ্রামীন টেনে দিলাম সব বাদ

ম্যারিস রেলি ম্যাড়মেড়ে তাই ব্লাক টানে মেয়ে

গোপাল বিড়ি আজিজ বিড়ি টানি শুধু চেয়ে।

নেশা আমার পেশা নয় রে আমি রোমান্টিক,

গাঁজার ধোয়ায় নেশা হয় না হয় শুধু গ্যাস্ট্রিক

ডিম মাংস ছুই না আমি চাই একটুখানি গাঁজা

বন্ধু আমায় দে না একটু কষ্ট করে তুই সাজা।

কাজী নিনারা বেগম


 

        বেদনার নীল আকাশ

              

                            ------কাজী নিনারা বেগম

  

আমি জানি তুমি কেন চাওনা ফিরে,

ঘর ছেরে এসেছ দেবতার মন্দিরে।।

পুতূল খেলার সাথি তুমি,

খেলেছি তোমাকে নিয়ে।।

মনের অনুভূতিতে চোখে চোখ রেখে 

চেয়ে আছি আজো তোমার পানে।।

আমি জানি তুমি কেন চাওনা ফিরে,

তুমি ছাড়া ছিল না কেউ অন্তরে ।

কাজল শিক্ত অশ্রু ছিল চোখের কোনায়, 

জানি না তুমি কেন ফিরেতে চাওনা ।

সেদিন পদ চিহ্ন ছিল ছলনা ভরা ,

বন পথে লতা তোমার যে পায়ে পরা ।

গোলাপ ফুলের কাটা লেগেছে হাতে,

গেথেছি মালা শুকিয়েছে হৃদয়,

কেন জানি না মন কাঁদে সর্বক্ষন ।নির্সংগতার ফেলে আসা স্মৃতি 

পেছনে ডাকে আমায়,

যেকথা শুনতে মনে ছিল আশায়।

মাটির দেবীকে  পড়িয়েছে আবরন,

সব ছেড়ে নেমেছ মনের মন্দিরে,

অথৈ সমু্দ্রে আছি একা,  

অভাগিনী নারী বোঝবো কেমন করে সে কথা ।

জগন্নাথ বনিক


 

               প্রাপ্তি 


                             -----জগন্নাথ বনিক 


মানবজীবন বড়ই সুন্দর জীবন,

জন্মেছি ধরাধামে।

প্রাপ্তি এসেছে জীবনে মোর,

বাবা মায়ের কল‍্যানে।।


বাল‍্য, কৈশোর, যৌবন, বার্ধক‍্য,

চারটি কালের জীবন।

সুখের প্রাপ্তি, দুঃখের প্রাপ্তি থাকবে জীবনে,

ধরাধামে জনম জনম।।


সুখের প্রাপ্তি পাই যে মোরা,

মানব সেবা করে।

মাবব সেবা যে ঈশ্বর সেবা, 

জনম জনম ধরে।।


সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত,

যতই কর্ম করি।

প্রাপ্তি আসবে মোদের জীবনে, 

মানবজীবন কে ধন‍্য করি।।


রক্ত ঝড়েছে হাজারো বাঙালির,

লড়াই করেছেন বিপ্লবীনেতা।

প্রাপ্তি পেয়েছি মাতৃভূমির বুকে,

পেয়েছি দেশের স্বাধীনতা।।

শুভময় রায়


 

                              অস্পৃশ্য


                                         -----শুভময় রায়


     পবিত্র গঙ্গা নদীর ধারে একটি মনোরোম গ্রাম।সেই গ্রামে এক সাধু এসে বাস করতে থাকেন।সারাদিন তিনি ঈশ্বর চিন্তা নিয়ে থাকেন, পূজাপাঠ করেন।গ্রামের মানুষেরা শ্রদ্ধা, ভক্তি করে তাঁর জন্য একটি ছোট্ট কুটির বানিয়ে দিয়েছে।তারাও মাঝে মাঝে এসে সাধুর কাছে এসে নানা ধর্ম কথা শোনে।সাধু মহারাজও বোঝেন গ্রামের মানুষদের ওপর তিনি ভালোই প্রভাব বিস্তার করেছেন।

একদিন সকালবেলায়, সেই সন্ন্যাসী নিত্যদিনের মতো গঙ্গায় স্নান করে, তীরেই বসে ধ্যান করছিলেন।হঠাৎ তাঁর কানে আসে নদীর জলে প্রবল দাপাদাপির শব্দ, তার সাথে আনন্দের সাথে চিৎকার। রাগে, বিরক্ত হয়ে চোখ মেলে দেখেন, একটি দশ-এগারো বছরের ছেলে আনন্দের সাথে নদীতে সাঁতার কাটছে, তার সাথে খুব চিৎকার করছে। সেই জলের ছিটে সন্ন্যাসীর গায়েও এসে লাগে। ভয়ানক রেগে গিয়ে সাধু চিৎকার করে,

"অসভ্য বালক!দেখতে পাচ্ছ না আমি ধ্যান করছি!তুমি নদীর জল এইভাবে নোংরা করছ? তোমার চিৎকারে আমার ধ্যান ভেঙে গেছে।তোমার স্নানের জল আমার গায়ে এসে লাগছে!অসভ্য!বন্ধ করো তোমার স্নান!"

         সাধুর চিৎকার শুনে একজন গ্রামবাসী যুবক ছুটে আসে। সে হাতজোড় করে বলে," স্বামীজি ক্ষমা করুন। ও আমার শ্যালক, পাশের গ্রাম থেকে বেড়াতে এসেছে। ও জানে না আপনাকে, আর নদীতে স্নান করতে ভালোবাসে তাই চলে এসেছে।আপনি ক্ষমা করে দিন।"

তারপর সে ছেলেটিকে বলে,"উঠে এসো তাড়াতাড়ি, ক্ষমা চাও স্বামীজীর কাছে।"

ছেলেটি উঠে আসতেই রাগে অন্ধ হয়ে সাধু ছেলেটির গালে এক চড় মেরে বলেন, "শয়তান কোথাকার!"

যুবকটি আবার বলে, "এমনটি আর হবে না কোনোদিন হবে না প্রভু।"

কিন্তু সন্ন্যাসীর খেয়াল হয় ছেলেটিকে চড় মারার ফলে

তাকে তো স্পর্শ করেছে সে। গ্রামের ওই যুবকটিকে তিনি জানেন, সে নীচু জাতের, তার শ্যালক ছেলেটি।তাই সন্ন্যাসী আবার স্নান করে আসে।

তা দেখে ছেলেটিও  আবার নদীতে নেমে স্নান করে আসে।

যুবকটি ছেলেটিকে বলে, "তুমি আবার স্নান করলে কেন?"

ছেলেটি বলে"ওই সন্ন্যাসী ও কেন আবার স্নান করলেন?"

যুবকটি বলে," তুমি কি ভুলে গেছ আমরা ছোটো জাতের? তোমায় ছোঁয়ার জন্য গঙ্গায় না স্নান তো করতেই হবে!আমরা যে অস্পৃশ্য!"

তখন ছেলেটি বলে," উনিও তো আমায় শয়তান বলেছেন।শয়তানও  তো অস্পৃশ্য, তাই আমিও আবার স্নান করলাম।"

একজন বালকের মুখে এই কথা শুনে চমকে ওঠেন সন্ন্যাসী।মনে হয় তার মুখে কেউ যেন থাপ্পড় মারলো।তার অনুভব হল রাগে অন্ধ হয়ে তিনি তো ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি সন্ন্যাসী, যার কাছে জাতপাত, স্পৃশ্য-অস্পৃশ্যতা সব কিছু তুচ্ছ।অথচ তিনি তা ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অহংকারে!

সন্ন্যাসী এগিয়ে গিয়ে ছেলেটিকে বলেন,"তুমি আমার মনের অন্ধকারকে মুছে দিলে।" বলতে বলতে তিনি ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

শ্যামল রায়



           চোখে ধরা পড়ে


                              -------শ্যামল রায়

 

উত্তরের হাওয়ায় জানালার পর্দাটা

সরালে দেখা যায়

নানান ধরনের গাছপালার ফাঁকে

গজিয়ে ওঠা নতুন পাতাদের

জোসনা রাতে ভারি মজা লাগে।

আর চারপাশে একাধিক কয়েক তালার বাড়ি

কাছাকাছি ছাদে হঠাৎ দেখা হয়েছিল

সদ্য বিবাহিত নারীকে

দু চোখে ধরা পড়েছিল তার মুখ।

নতুন । ভিতরে আতঙ্ক কাজ করছিল

অথচ দেখতে পেয়েছিলুম তার ইশারা

আমাকে ভাবিয়েছিলো, ঘুম আসেনি 

একদিকে যমুনা ছিল অন্যদিকে গঙ্গা ভাগিরথী

দুয়ের মাঝে ঢেউ খেলেছিল সারাটি রাত

দু চোখে ধরা পড়েছিল তার মুখ।

হঠাৎ মুখোমুখি

নতুন কিছু করার নতুন কিছু বলার থাকে

এসব উধাও। সময় নেই বিবাহিত স্বামীর

সময় কাটে না, ভিতরে যন্ত্রনা

এ যেনো ঘন একটা অন্ধকারের জালে জড়িয়ে পড়া 

শুধুই আলোর পথ খুজছিলাম

তুমি যদি আলো হও আমি হব দিশা।

আমার বেড়ানো ছাদ হয়ে উঠুক

বৃষ্টিতে ভেজা নীল শাড়ির আঁচল

তুমি থেকো সারাক্ষন চোখে চোখ রেখে

শুধুই আমার জন্য।


টিটু বনিক


 

              অদ্বিতীয়


                                   -----টিটু বনিক


ব্ন্ধ চোখে আমি তোমায় দেখি।

নির্বাক হয়ে ধ্বনি উঠে,

শূণ্য আকাশে তারারা যেভাবে চাঁদকে সন্ধান করে, 

আমি তোমার ছবি নিয়ে জগতে অনুরূপ খুঁজি। 

বিভ্রান্তিকর কিছু শব্দ আমায় ডাকে।

আমি দিশেহারা হয়ে তার সন্ধানে উন্মাদ থাকি। 

চারিদিকে অস্পষ্ট পথে ঘেরাও 

কালো কালো প্রাচীর ভেদ করে

 যা ক্ষণিকের জন‍্য হাত বাড়াই

আবার ক্ষণিকে উদাও।

আমি সর্বপ্রান্ত তোমায় দেখি।

আমি তোমার সদৃশ‍্য খুঁজি।

অভিজিৎ দাস


 

"বসন্ত তুমি আমার নও"


                            ------অভিজিৎ দাস


বসন্ত মানেই কি মাধবীলতা, 

বসন্ত মানেই কি প্রেমের গান? 

আমিতো দেখেছি কিছু ঝরা ফুলের, 

নীরব অভিমান। 

ওই দেখো চেয়ে কিশোরীর গাল, 

রাঙিয়ে দিল কারা। 

আমাকে দেখো এই অচিনদেশে, 

একলা পাগলপাড়া। 

বসন্ত তুমি আমার নও, 

তুমি চলে যাও কোনো আলোর নীড়ে। 

আমি বন্ধ ঘরে ভালোই আছি, 

তীব্র অন্ধকারে।

মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

মলাট( দ্বাদশ সংখ্যা)


 

সূচিপত্র (দ্বাদশ সংখ্যা)


 

সম্পাদকীয়

     কটি নয়, দুটি বছর ধরে প্রতীক্ষায় আছি। স্বপ্ন দিয়ে বানিয়েছি এক অপরূপ রংমহল। গেছে বছর তুমি এসেছিলে, তাতে তোমার কোনো দোষ নেই। তোমার আগমনে  ফুটেছিল কত রাঙা পলাশ-কৃষ্ণচূড়া, ছিল আগুন ভরা কত শিমুলের মেলা। সবই ছিল। কিন্তু রাঙানো হলো না প্রিয়জনদের। কেউ রাঙিয়ে দিল না আমাকেও। এমনি করেই অতৃপ্ত অভিলাষ রেখে  তোমাকে বিদায় জানিয়ে ছিলাম আগামীর আশা নিয়ে। এবারও তোমার আগমনে প্রকৃতি রানী সেজেছে অপরূপ সাজে। গাছে গাছে কত রাঙা শিমুল, কত পলাশ, চারিদিক মুখরিত কোকিলের কুহু কুহু গানে। কৃষ্ণচূড়া যেন অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত। ঋতুরাজ বসন্ত যেন প্রকৃতির মুখ দিয়েই জানান দিচ্ছে তার আগমন বার্তা। আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে কবিগুরুর সুরে---"ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল লাগলো যে দোল"। বসন্তের আগমনে প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মনও হয়ে উঠে রঙিন। মনে দোল খায় এক সুন্দর অনুভূতি। স্বপ্নের এই রংমহলে এবছর তৃপ্ত হব প্রিয়জনদের রঙিন ভালোবাসায়।

          প্রিয় পাঠক, আপনাদের ভালোবাসা এবং প্রেরণাকে সাথী করে সাফল্যের যাত্রাপথে আমরা আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। এবারে প্রকাশিত হলো "সাহিত্য নয়ন"-এর "বসন্ত উৎসব" নামক দ্বাদশতম সংখ্যা। সম্মানিত কবিদের লেখনীতে যেন লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। স্বকীয়তা, মাধুর্য, গভীরতা সবকিছু মিলিয়ে নয়নের পাতাকে কবি-লেখনী দিয়ে সাজিয়েছেন অপরূপ সাজে। চলুন আমরা সবাই মিলে উনাদের সাজানো পাতা থেকে রস আস্বাদন করি। আপনাদের সার্বিক মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। আবারো দেখা হবে আগামী বাংলা নববর্ষের কোনো একদিনে।


ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধাসহ---

রাজেশ ভট্টাচার্য্য

সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন 

কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


 

            বসন্ত


                          ------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


বসন্তের প্রথম আলো 

দেখেছিলেম নব কিশলয়ে, 

 মাঘের শেষে মুষলধারা 

গ্রাম্যগৃহিনীর উলুধ্বনি

বরণ করে নিল বসন্তের প্রথম প্রভাতের অরুণোদয়। 

বসন্ত এলো ধরার বুকে

অঙ্কুরের বার্তা নিয়ে। 

বসন্ত আনে মানব মনে 

নব নব সৃষ্টির চেতনা। 

রুটির তাগিদ, রুজির তাগিদ 

তা তো থাকবেই!  

তা বলেতো কুহুতান 

বন্ধ হবেনা। 

বিহঙ্গ - বিহঙ্গীর প্রেম সুধা 

দেখে মনে মনে হাসে বসুধা।

  গাজনের দল কখন আসবে উঠানে -- বৃদ্ধ কর্তা বাবুর এ প্রশ্নে ভারি বিরক্ত 

 মুঠোফোনে স্থির চক্ষু  

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

কী হবে গাজনের নাচনে

এসব কিছুই তো আছে ইউটিউব  আর ফেসবুকে। 

বৃদ্ধ  ফেলেন দীর্ঘ শ্বাস

হায়রে বসন্ত! 

তোকে নিয়ে কতই না ছিলো আনন্দ  

দোলের রং ও আজ অপছন্দের তালিকায় 

হায়! হায়! 

তবু   ---বসন্ত! 

তুই আসিস বারংবার , 

তুই বিনা নব নব সৃষ্টি 

স্থবির -- আঁধার। 



   

রচনাকাল :-২৭ শে  ফাল্গুন ১৪২৭ বাংলা,শুক্রবার।

হেমন্ত দেবনাথ


 

             বসন্ত


                   -----হেমন্ত দেবনাথ


বসন্ত মানে অনিন্দ্যসুন্দর যৌবন--

বসন্ত মানে কৃষ্ণচূড়ার আগুন।

বসন্ত মানে রূপ-রস-গন্ধ পরশে

অপূর্ব মোহনীয় আবেশ।

বসন্ত মানে দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তরপূর্ণ--

বিকশিত কুসুম-সুবাস,

বসন্ত মানে প্রকৃতির ঘুমভাঙা চোখে

নবকিশলয়ের ঘনশ্যাম রূপের অঞ্জন।

বসন্ত মানে সুমিষ্ট কোকিলের কুহুতান--।

বসন্ত মানে দক্ষিণের সমীরণ।

বসন্ত মানে দেহে-প্রাণ অভূতপূর্ব শিহরণ।

রঙের নেশা প্রগল্ভতায় মত্ত মাতাল বসন্ত।

ফাগুনের পরশে বসন্ত হয় জীবন্ত।

বসন্ত মানে একগুচ্ছ লাল শিমুল আর পলাশ।

বসন্ত করে না কাউকে নিরাশ।

বসন্ত জ্বালিয়ে দেয় দেশপ্রেমের শুচিশুভ্র অগ্নিশিখা।

হিংসায় মত্ত পৃথ্বীর বুকে বসন্তে অভিষিক্ত হয়

অনির্বাণ শিখা।

বসন্ত মানে উদার নীল আকাশের স্বচ্ছতা---

বসন্ত মানে সম্প্রীতি আর ঐদার্যৈর বারতা।

বসন্তের ফাগুনের রঙ দূর করে তমিস্রা,

বসন্ত মানে জ্যোতির্ময় ধ্রুবতারা।




রচনাকাল:- ০১/০৩/২০২১ ইং

অমল কুমার মাজি


 

             মাতাল চাঁদের আলো


                             ------অমল কুমার মাজি


কে জানে কার খেয়ালখুশির উন্মাদনা

কবিকে আজ সারাটা রাত জাগিয়ে রাখে

গোপন ঘরে লুকিয়ে থাকা  কোন বাসনা 

কবির সাথে কাঙাল-চোখে তাকিয়ে থাকে।।

কেউ জানো কি ঘরছাড়া কোন বাউল কেন 

আজকে হঠাৎ একতারাটার তার ছিঁড়েছে

তাকিয়ে দেখো বসন্ত-রাত আজকে যেন

মাতাল-চাঁদের আলোতে কার ঘুম কেড়েছে !!

কোন কবিতা কেমন ক'রে কাঁদায় কাকে

কোন রাগিনীর বিবাদি স্বর আজকে রাতে

কেমন ক'রে হারালো কে পথের বাঁকে

আর তো এসব জানার সময় নেই গো হাতে।।

প্রশ্নরা আজ বুকের মাঝেই উঠুক ঘেমে

এসব কথার জবাব তুমি নাই যদি পাও

দুঃখ কিসের হঠাৎ আঁধার আসলে নেমে

আপন ভুলে বিশ্ব পানে এবার তাকাও!!

কবিতা সরকার


 

              বিজয়ী বসন্ত 


                             ------কবিতা সরকার 




দীর্ঘ সময় পরে আসিয়াছে বসন্তরাজী

আপনার ঘরে, 

দক্ষিণা পবন বহে রাজটীকা

উত্তরে তাই পড়েছে যবনিকা।


ক্ষণে ক্ষণে বায়ু উঠছে গেয়ে

নতুনের সুরে বৈশাখী রাগে,

শীত তাই নিয়েছে বিদায়

ভারাক্রান্ত হৃদয়ে।


পাতা ঝড়ার শেষে উদাসী কাননে

মঞ্জুরী উঠেছে ভরে নব কিশলয়ে, 

প্রত্যুষে রবির কিরনে

কোকিলাও নিয়েছে শকল কাকলি সভাতে। 


প্রতিক্ষা শেষে ঋতু অবসানে

বসন্ত.............. 

করিছে বিজয় ঘোষণা

তার অব্যক্ত ভাষণে।

রাজেশ ভট্টাচার্য্য


 

        অপেক্ষা


             ----- রাজেশ ভট্টাচার্য্য


কেমন আছো ?

মনে পড়ে আমার কথা ?

মনে পড়ে সেই রঙিন দিনগুলোকে ?

কতো বসন্ত কাটিয়েছি দুজনে।

চার-চোখ ভরে দেখেছি কত স্বপ্ন।

আজ সবই পড়ে আছে,

যত্ন নির্মিত স্মৃতির পাতায়।

মনে পড়ে বৃষ্টি ভেজা দিনগুলোর কথা ?

হঠাৎ মনে পড়ে গেলো

সেই বসন্তের কথা।

হলুদ শাড়ী পড়া তোমার দেবী রূপকে

আমি রাঙিয়ে দিয়েছিলাম।

তোমার শুভ্র ললাটের স্পর্শ

আজও অনুভব করতে পারি।

আজ সবই ঢেকে আছে

অভিশপ্ত কুয়াশার চাদরের তলায়।

আমি একা বসে আছি,

আগামী বসন্তে তোমার 

ফিরে আসার অপেক্ষায়।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য


 

               বারণ


                      ------মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য


তুমি সৃষ্টি,প্রণয়ী,প্রলয়ংকরী

প্রকৃতি,শত রূপে মনমোহিনী।

সৃজনের ধারয়িতা,ধ্বংসের রুদ্রানী

তোমার গর্ভে জন্ম পুরুষ জাতি।


স্রষ্টার যাকিছু অর্ধে সমঅধিকার,

তবুও মুখবুঝে সও শত অনাচার।

পুরুষের অনুপ্রেরণা নারী,যোগায় শক্তি 

অথচ মুখলুকিয়ে কাঁদে নারীই।


যুগে যুগে অতীত সাক্ষী,

সীতা,অহল‍্যা,মন্দোদরী,দ্রোপদী

সমাজ তোমাদেরই বানিয়েছিল দোষী

আজও একই পথের পথিক তুমি।


একবিংশ শতকের মুক্ত গগনে

দগ্ধিত নারীর কালো ধোঁয়া ভাসে

ভুবন কাঁপে সম্ভ্রম হীনতার আর্তনাদে 

লাঞ্চনা বঞ্চনা অবিরত চলে।


দিনের নির্জনতায়,রাতের আঁধারে

একলা চলা আজও বারণ আছে।

অথচ জলে,স্থলে অন্তরীক্ষে

তোমার প্রদীপ্ততায় আলো জ্বলে।


সময়ের দাবীতে অধিকার আদায়ে

অবক্ষিত সমাজে মানবতা রক্ষিতে

হে নারী,উঠ তুমি জেগে

পুরুষ -নারীতে সমতা;জানাও সমাজেরে।

মনচলি চক্রবর্তী


 

           বসন্ত এসেছে 


                           -----মনচলি চক্রবর্তী 


বসন্ত এসেছে, ফাগুন এসেছে 

ঋতুরাজ বসন্ত  হেসেছে 

দখিনা পাগল হাওয়া 

পলাশের সুগন্ধে মেতেছে 

ঝড়া পাতার গাছের ডালিতে এসেছে

নতুন কুঁড়ি

আমের মুকুলেরা  বসন্তে 

দেয় উঁকি 

কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙখানি 

অন্তরে দেয় আনন্দের হাতছানি।

কত সুন্দর ফুল ফুটেছে বনে বনে

শিমূল পলাশের ডালে 

কোকিলরা ডাকে মধুর সুরে।

বসন্তের গোধূলিতে

চোখে চোখ রেখে হাতে হাত রেখে 

কত হৃদয়ের দেওয়া নেওয়া চলে।

 প্রকৃতিতে বসন্তের আবির্ভাব সবার

 জীবনে হৃদয়ে

নতুন প্রেমের বার্তা নিয়ে আসে

ফাগুনে মনে প্রেমের আগুন  লাগে

অন্তরে স্বপন দোলে ছন্দে তালে

বসন্তের  দোল উৎসবে মেতে

অন্তরে লাগে ভালবাসার পরশ

 জাগে শিহরণ বুকেতে।

বর্ণা দাস


 

           আর কত ???


                          -----বর্ণা দাস


যে শহরে রোজ ঝড়ে যায়  ,

হাজার হাজার কলি ,

বাতাসে প্রবল দুর্গন্ধ ,

সে শহরে বসন্ত নাই বা এল। 

যে শহরে নেই কোনো স্বাধীনতা ,

ফুল ফোঁটা বারণ , 

সে শহর আমার বেরঙিন থাক ।

সে শহর আমার বড়োই কঠিন 

পাষাণ হৃদয় , ছিনিয়ে নেয় ফুলের কুঁড়ি আভরণ ;

নেই কোনো বিচার শাসন বারণ। 

আলোয় মোড়া রঙিন শহর ,

লাসেদের ছাই উড়ে রোজ  ,

চাই সে শহরে ভেঙে পড়ুক আকাশ ,

নামুক খুব জোর বৃষ্টি ,

ভেসে যাক সৃষ্টি ।

ভেসে যাক রাজার দেশ ,

ধুয়ে যাক সব ম্লান ,

মুছে যাক ফুলেদের ক্ষতচিহ্ন রেশ।

চাই সে শহরে আবার হোক নতুনের শুরু ,

ফুলে ফুলে হোক রঙিন , 

আমি কত দেখেছি মরা ডালে পাতাদের ঝড়ে পড়া দিন।

চোখে দুর্বিষহ যন্ত্রণা আছে জমে,

আর কত! আর কত সইবো? 

এবার বদলাতে হবে দিন ।

কাজী নিনারা বেগম


 

         আর্শি


                  ------ কাজী নিনারা বেগম


কে আমি? 

আমি তো আমি নই! 

দীর্ঘ চল্লিশ টি বসন্ত ধরে দেখছি। 

ললাটের উপর পরিপক্ক চুলগুলো ....

 আজ যেন যুবতী হয়ে যাওয়ার অভিনয় করে।

আরশি হয়তো আমাকে দেখলে লজ্জিত বোধ করে!

তখন নিজেকে দেখলে বড্ড অচেনা লাগে।

দিন দিন নিজেকে পাল্টে যেতে দেখে স্তম্বিত হই। 

মুখ ফিরিয়ে নিলাম অজানা আতঙ্কে।

আরশি জানতে চায় ......

পালিয়ে যাবে কোথায় ?

ঠিকই তো যাবো আর কোথায় ...

যেখানে ঠিক শুরু হয়েছিল...

ঠিক সেখানেই পৌঁছে গেছি।

সান্ত্বনা দিলাম ....

সব মিথ্যা অভিযোগ,

পালাবো কেন?

আজ যেন সব চুপচাপ শত আওয়াজে ও সাড়া নেই।

খানিক বিরক্ত হলাম আমি

আহ্ কেন জানি এসেছি 

এই ভবের বাজারে,এই স্বার্থপর জগতে 

মিথ্যা ভাল থাকার অভিনয় করে 

রঙ্গিন পর্দা টেনে যাচ্ছি।

শিশির অধিকারী


 

       প্রতিদিন চাই


                   -----শিশির অধিকারী


প্রতিদিন খুজি প্রেম,

প্রতিদিন খুঁজি ভালোবাসা,

প্রতিদিন খুজি বেঁচে 

থাকার আশায়,

কিন্তু আটকে যাই প্রতিবিম্বে।