সাহিত্য নয়নে আপনাকে স্বাগত

"সাহিত্য নয়ন" সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত। ( প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই পত্রিকার কোন অংশ কেউ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে)

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

অমল কুমার মাজি

               সুখী


                     -----অমল কুমার মাজি


প্রতিমার চোখে শ্রাবণের ধারা 

বানভাসি সারা দেশ জুড়ে       

সর্বস্বান্ত শারদ-সকালে               

ভৈরবী বাজে বে-সুরে!         

তোমার আলোর বেণু বাজে তবু

ওদের ভুবন মাতলো কই     

চালাঘর সাথে সবই গেছে ভেসে

ভিটে টুকু জলে থই থই

আদরের ধন বায়না ধ'রেছে

নতুন পোষাকে সাজবে সে

মা হবে রাণী,সে রাজকুমারী 

বাবাকে সাজাবে রাজবেশে!               

বিষাদে ব্যথায় ব্যর্থ জননী    

দু'চোখে কান্না দোলে       

কত কিছু ব'লে বোঝাতে যে চায়

অবুঝ শিশু না ভোলে 

বেজে ওঠে ঢাক,আরতি ঘন্টা

ঘুমিয়ে প'ড়েছে খুকি

ক্ষণিকের তরে স্বান্তনা তবু

মাতা যে নিমেষ-সুখী !!

কিশোর কুমার ভট্টাচার্য

             কুহেলিকা


                    ------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


জ্ঞানের ভান্ডার --লুক্কায়িত

কৌতূহল সদা জাগ্রত,

জটিল তত্ত্ব --তথ‍্যের বিপাক 

সাধনায় দুর্গমতার পাক।

গুপ্তধন!--সে যে ছড়ানো সর্বত্র;

সামনে থেকেও পাই না খুঁজে --

সে যে কী!

জীবনটা হয়ে পড়ে ব‍্যর্থ।

গুপ্তধন হাতে পেতে কতো দিবানিশি

জলে-জঙ্গলে,পাহাড়ে-রত্নাকরে 

বেড়াই ঘুরে,

গুপ্তধন!সামনে ছুটে--

তারে ধরতে দৌড়াই পেছনে  পেছনে।

দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত পথিক

দেখি সবই -মরীচীকা।

তরুতলে বিরামকালে ভাবি

কামনা,লালসা--সবই কুহেলিকা।



রচনাকাল:- ১০-০৪-২০২০ ইং শুক্রবার

রাজেশ ভট্টাচার্য্য

                দীনের হরি

                  

                           ---- রাজেশ ভট্টাচার্য্য


'খ'-এর পানে চেয়ে আছি একা।

নভতে পাইনা কেনো তোমার দেখা?

লোকে বলে তুমি আছো আকাশেতে।

তাইতো আমি তোমায় খুঁজি গগনেতে।

কোনো এক নিশিতে চেয়ে আছি অন্তরীক্ষে,

দেখলাম শুধু আসমানের তারা।

জিজ্ঞাসিলাম আমি শূন্যের তারারে--

পাইনা কেনো দেখতে অম্বরে  হরিরে?

মিটমিটিয়ে বলল নীলিমার সকল তারা--

দীন-দরিদ্রের মাঝেই দ্যুলোকের হরি ধরা।

বর্ণা দাস

                            মায়ের আগমনী 


                                                  -----বর্ণা দাস


মায়ের আগমনী হোক যেন সন্তানদের রক্ষাকবচ রূপে ,

যত দুঃখ কষ্ট গ্লানি আছে তা সব দিলাম তোমায় সপে।


ছিল সাহস  যত সঞ্চয় ধীরে ধীরে হল ক্ষয় ,

কেটে যাক এবার ধরার প্রাণে জমানো সব ভয়।


থেমে যাক মৃত্যুমিছিল কেটে যাক মহামারী ,

গাঁথা হবে নতুন ছন্দে জীবন তুমি দিলে পাড়ি।


ফুটুক হাসি ওই সরল প্রাণে ,

যে পথশিশুটা চেয়ে থাকে তোমার পানে।


পথের ধারে ক্ষুধার টানে যারা রোজ হাত পাতায় ,

দিনের শেষে ওরা যেন  পেটপুরে দু'মুঠো খেতে পায়।


মাগো দু'হাত ভরে ভরসা দিয়ো শক্তি দিয়ো মনে সবার ,

দুঃখীর ঘরে সুখের কড়া নড়ে উঠুক বারবার।


স্বপ্ন যাদের অপূর্ণ ছিল তারা মধ্যবিত্ত বলে ,

গল্প ওদের নতুন লেখা হোক সাফল্যের দেওয়ালে।


ক্লান্ত শহর সেরে উঠুক কাটিয়ে জড়া ব্যাধির রেশ ,

মাগো তোমার আগমনীতে হোক এই মহামারীর শেষ।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

               অকাল বোধন


                            ------মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য


"ওঁ ঐং রাবনস্য বধার্থায় রামস্যানুগ্রহায়চ

অকালে ব্রহ্মনা বোধো দেব্যস্তয়ি কৃতঃপুরা।"


দিকে দিকে বিপন্নতা, কাতরকন্ঠে আর্তনাদ

ক্রুরতার বক্রহাস্য, তবুও বাঁচার সংগ্রাম।

অহমের এাস,দগ্ধ সকল জ্ঞানের পরিভাষ,

স্বীয় আচার ভুলে রাজন করেছিল সেদিন জানকী হরণ।


চৈত্রের তিথি; দেবীর বোধন ছিলো বিধি,

সময়ের সংকুলান,অধর্মের পরাজয়ে

শরৎ সময়ে অকাল বোধনে 

হয়েছিল নিয়োজিত স্রষ্টা স্বয়ং।


শিউলীর শুভ্রমাখা সৌরভ,কাশের দোলন

রৌদ্র ছায়ার চমত্কারী খেলায় সাদা মেঘের নলিনী,

দেবীর কৈলাশ ছেড়ে পিত্রালয়ে সমাগম

মনসুখে হারিয়ে যাওয়া মাটির ঘ্রানে।


অধর্মের অভিভবে অকালপক্ক বোধনের কল্পারম্ভ,

পরিতুষ্ট দেবী; নাশিতেপাপ দিলেন প্রতিশ্রুতি।

আজও ঋতুচক্রের বর্নিল দোলায় শরৎ সমাগত,

কাশের খেলা, নভোমাঝে জলমুকের স্পষ্ট আমোদ।


অথচ অনাচার,অধর্মে মলিন মহী,

দিকে দিকে চরম দুঃসময়, অবক্ষয় মানবতার।

নিদারুন অসময়ে মানুষ  করছে রুদ্রানীর  বোধন,

কইছে জোড়হাতে "হও জাগ্রত; ভৈরবী তুমি,

অবক্ষয়, কল্মষ যত তোমার কটাক্ষে হোক দমন।"

শুক্লা রানী দাস

          আগমনী


            -----শুক্লা রানী দাস


আগমনীর আগমনে,মাগো

শরৎ এলো,কাশের গুচ্ছ লয়ে 

শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাসে

বাতাস উঠল ভরে।

মেঘ মুক্ত আকাশ এলো

সাদা ভেলায় চড়ে।

তুমি আমার প্রানের উমা

মনের সহচরী

তোমাকে সাদরে বরন করি।

তোমার আগমনে ধরাতল

হোক বিপদ মুক্ত।

তুমি প্রগাঢ়,অসীম অনন্ত।

তুমি মুক্তি ও শক্তি 

তুমি শান্তির প্রতিরূপ

তুমি মমতার জীবন্ত স্বরুপ।

পায়েল মজুমদার

              এসো মা দুর্গা


                           ------পায়েল মজুমদার


অপেক্ষায় ছিলাম এক বছর ধরে,

তুমি মা কবে আবার আসবে ফিরে।

যখন হিমের পরশ লাগল গায়ে,

বুঝেছি আসছে শরৎ নেচে-গেয়ে।

সকালের ঘাসে শিশিরে ভেজা,

আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় ভাসা। 

বুঝেছি এবার সময় হল মায়ের আসার। 

নাচে গানে মাতবে সবার মন আবার। 

কিন্তু যে মা আগের মতো নেইকো কিছু,

সকলের মনের আনন্দ যে আজ নিভু নিভু ।

সকল মানুষ ভাসছে কেমন মৃত্যুর ভেলায়,

মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুর দরজায়। 

জানি মাগো তুমি দয়াময়ী,

তোমার দয়ার দানে রক্ষা কর এই মানব জাতি।

সুখের ভেলায় নিয়ে আসো জীবনদানের ঔষধী। 

সবার মনের দুঃখ কর দূর,

সকলে হয়ে উঠুক আনন্দে ভরপুর।।

দেবোপম সেন

           কংক্রিটের শহর


                           ------দেবোপম সেন


আকাশটা ইস্পাত ঢাকা,

এদিক ওদিক অজস্র মুখোশ,চোখ গুলি ফ্যাকাশে,

দূরবীনের ডাকনাম দূরত্বে মিশে গেছে,চুপ থাকো জানোয়ার,,

এই কালো ঘরে চিৎকার করো,শুধু কৃত্রিম রং এর হাহাকার।।

রেখা গুলি রোজ  সুখের খোঁজে শোক খোঁজে রেখে দেয়।

রাত পোহালেই অন্ধকার,আমার হাত  ধরে  বিদায় নেয়,

এই বুঝি আমার শেষ দিন,রেখে গেছি প্রান্ত শেষ প্রান্তে,

এই বুঝি কিছু  ভেঙে গেছে,আমার গল্পের খুব অজান্তে।।

শ্যামল রায়

 শুধুই প্রত্যাশা নিয়ে


                   -----শ্যামল রায়


বুক ভরা আশা নিয়ে

স্বপ্নের ফসল যখন খুঁজি

আধার এসে জড়ো হয় চারদিক।

তবুও স্বপ্নরা জেগে উঠে বলে

জল কাদা একাকার হলেও

সলতে দাও

বুকের উষ্ণ উত্তাপে

জ্বলে উঠুক আলো।

আলোয় ভরা পাখির ডানা

উড়িয়ে দেবো

মুছে যাবে ঘন কালো অন্ধকার

নতুন রঙে নতুন শব্দে

শাড়ির নকশায় দেখতে পাবো

শুধুই তোমাকে, শুধুই তোমাকে আর একটা

আর একটা সকাল বেলা।

গোপাল বনিক

             সাম্যবাদী


                     ------গোপাল বনিক


প্রতিদিন কতো ফুল ঝরে পড়ে,

আমরা শুনতে পাই তাদের আর্তনাদ।

আমি কি তোমার হাতের পুতুল?

তোমার ইচ্ছা অনিচ্ছার ক্রীতদাস!


গৃহবধূর তকমা দিয়ে আটকে রাখো ঘরে,

মনে হয় যেন গৃহপালিত-

পায়ে পায়ে বেঁধে দাও বিধিনিষেধের গন্ডী,

অথছ ভুলে যাও আমারও প্রাণ আছে প্রেম আছে।


আমরা সেই পায়ে লাগানো বেরী গুলি খুলে দিতে চাই।

শোনো নারী, বজ্রাঙ্গনা তুমি,

তোমার ভালেই শোভিত সৃষ্টির শ্রেষ্ট উপহার,

তুমিই তো জন্ম দাও পৃথিবীর শ্রেষ্ট সম্পদ।


এখন তোমার হাতে তুলে নাও শানিত কৃপাণ।

শ্মশান ভস্ম গায়ে মেখে গর্জে উঠো,

তোমার রক্ত চক্ষুর ঝলসানিতে এফোঁড় ওফোঁড় হউক-

শত্রুর কুৎসিত কদাকার মুখচ্ছবি।

তারপর আলোর পতাকা উর্দ্ধে তুলে ঘোষণা করো সাম্যবাদ।।

সুকমল গুপ্ত

         তুমি আসবে বলে


                         ------সুকমল গুপ্ত 


      

শরতের স্নিগ্ধ সকালখানি,  

তোমার পায়ে নূপুর , হাতে ফুলসাজি

কোমল দূর্বা মারিয়ে চলা,

স্নিগ্ধ আলোয় চিকচিক করা শিশির বিন্দু

ঝিলমিল করছে কচি পাতার সুচাগ্র ভাগে,

শুধু তুমি আসবে বলেই,


তুমি আসবে বলেই,, শিউলি ফোঁটা,

কাশবনে দোলে উঠে ঘন কাশফুল

সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়,

অনন্ত নীল আকাশে,

শুধু তুমি আসবে বলেই,


তুমি আসবে বলেই জানি,

প্রাণের স্পন্দন যেন নির্জীবেও ঘটে,

শান্ত স্নিগ্ধ , সজীবতার নির্যাস 

চারিদিক মুখরিত হয়, শিউলি সুবাসে

শুধু তুমি আসবে বলে,


আমি আজো খুঁজে পাই সেই 

পূজো পূজো গন্ধ,

এক মূহুর্তেই হারিয়ে যাই ছেলেবেলায়

খুঁজে নিই অতৃপ্ত আত্মার রসদ

অতীতের স্মৃতিপটে,

শুধু তুমি আসবে বলে,


শুধু তুমি আসবে বলেই,,

রোজ অপেক্ষার প্রহর গোনা,

থমকে যাওয়া সময়টাকে,একটু গতি দেওয়া

আনন্দ আর সৌহার্দ্যের মিশ্রনে,

শুধু তুমি আসবে বলে,


শুধু তুমি আসবে বলে,

পাড়ার মন্ডপে আগমনীর সুর

বেজে উঠে শুভ্র শঙ্খ ধ্বনি,

ভেসে আসে দূর থেকে

"শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে ,

ভোরের আগমনী"


ভরে উঠে মন সবার 

হয়ে আনন্দে একাকার,

দুখ যত বিলীন হয়, মুখে ফুটে হাসি

শুধু তুমি আসবে বলেই,


শুধু তুমি আসবে বলেই

পসরা সাজায় দোকানি

ভরসা তুমি , হতভাগ্য দের 

হয়তো বা পারবে খেতে মুঠো দু-খানি।


তুমি আসবে বলেই,

আজো পথ চেয়ে থাকা,

ফিরে আসে শরৎ বারংবার,

তোমার স্পর্শে খুঁজে পাই জীবন,

তাই শুধু চাই ,আসো বারবার

জীবনে সবার।

লিটন শব্দকর

             অভিমানী শৈশব


                            ------লিটন শব্দকর


মনু নদী হাতছানি দিয়ে ডেকে বলে 

ফিরে আয় শৈশবে;

এখনো অনেক খেলা বাকি পড়ে আছে,

মাঝখানে এক চিরন্তনী বেড়া

অভিমান ধুয়ে যায় খোয়াই জলের কাছে।

প্রাক শরতের কাঁকড়ি নদী

চিঠি ফুরোনো কাশের দোলা

দেখা না হওয়ার প্রজাপতিলিখন

বারোয়ারি গোধুলিতলা।

নয়ন রায়

         লাল ধর্ম


                  -------নয়ন রায়


বারুদ মেশানো বায়ু

      ধর্ম মেশানো খাবার,

দুই মিলে রাজ গোটা পৃথিবী___

       মানুষ কে কার ?


হিংসার হজম বাড়ছে প্রতিরোজ

      কমছে ভালোবাসা,

মিষ্টি কথায় চিঁড়ে ভিজেনা__

       রক্ত চাই তাজা।


ভোরের কূজনে পাখি ডাকে না

      আর্তনাদে ভরা!

রাম-রহিমের যুদ্ধ চলছে__

     গোটা বিশ্বজোড়া।


কার কথা আর কেই'বা ভাবে,

       নোটের গন্ধ সবার নাকে।

ধর্ম আজ বাজার-হাটে__

        করছে ব‍্যবসা।


লাখের পিছনে লাখি হাটে,

       টাকায় কার নজর ?

পথের পারে ভিখারির স্তূপ,

      ওরা সব অধর্মের কবর।


ধর্ম বলে যা'ছিল বিক্রি সব

       কিনছে ধনী জনে;

রাম-রহিমের গোষ্ঠীরা সব___

    আজ তাদেরি ঘর কোণে।


গরীবের আওয়াজ শোনে না তাঁরা

        টাকার ক্রীতদাস,

ইট-পাথরের মোটা প্রাচীরে____

       বন্দি বারো মাস।

রাজেশ পাল

             আমার দূর্গা 


                          ------রাজেশ পাল

   

আমার দূর্গা বিদ‍্যা রূপে বুদ্ধি

আমার দূর্গা স্ত্রী রূপে লক্ষ্মী,

আমার দূর্গা শক্তি রূপে শিবানী,

আমার দূর্গা মাতৃ রূপে জননী।


আমার দূর্গা স্কুলে যায়

আমার দূর্গা কলেজ পড়ায়,

আমার দূর্গা স্বপ্ন বুনতে জানে

আমার দূর্গা স্বপ্ন পূরণ করতে জানে।


আমার দূর্গা শিক্ষিত

আমার দূর্গা সমাজে প্রতিষ্ঠিত,

আমার দূর্গা প্রান বাচাঁতে জানে

অন্যের জন্য নিজের জীবন দিতে জানে।


আমার দূর্গা সংসার চালাতে জানে

বট বৃক্ষ ন‍্যায় সবাইকে আগলে রাখতে জানে,

নিজে দুঃখে থেকেও অপরকে খুশি রাখতে জানে

আমার দূর্গা ত‍্যাগ করতে জানে।


আমার দূর্গা অস্ত্র হাতে নিতে জানে

আমার দূর্গা স্বর্গ এবং মর্ত‍্যকে রক্ষা করতে জানে,

আমার দূর্গা তেজী , আমার দূর্গা জেদি

আমার দূর্গা সমাজে পরিবর্তন আনতে জানে,

সে পাপ এবং পাপির নাশ করতে জানে।


আমার দূর্গা প্রতিবাদ করতে জানে

অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে সে আওয়াজ তুলতে জানে।

আমার দূর্গা অত‍্যাচারের বিরুদ্ধে খড়গ হাতে নিতে জানে,

সে নিজের সম্মান বাচাঁতে জানে,

আমার দূর্গা কলম ধরতে জানে

সে অবহেলিতদের পাশে দাঁড়াতে জানে।


আমার দূর্গা শাস্ত্র পড়তে জানে

কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানে,

আমার দূর্গা নয় অবলা

আমার দূর্গা অভয়া

আমার দূর্গা নিজের শর্তে বাচঁতে জানে

আমার দূর্গা নিজের শর্তে বাচঁতে জানে।।

গোপাল দে

      এসো ত্রিনয়নী


                 -----গোপাল দে


বছর ঘুরে আসছে আবার

মোদের শারদীয়া।

কি ধন দিয়ে করবো বরণ

ভাবলে কাঁপে হিয়া।।

ফাঁকা মোদের লক্ষীভাঁড় আজ

বন্ধ উপার্জন।

করোনা নামক মহামারী

খেলো জমানো ধন।।

এবার একটু কষ্ট করো

ঘরে নেই কিছু।

জানিনা কবে করোনা ব‍্যাধি

ছাড়বে মোদের পিছু।।

মহিষাসুর বধ করে যাও

প্রতি বছর বছর।

ধ্বংস করো করোনাসুর

গুনছি মোরা প্রহর।।

আসার সময় ত্রিনয়নী

খাবার কিছু এনো।

গরীব সন্তান অভুক্ত আজ

ভালো নেই জেনো।।

আসছে বছর ধুমধাম করে

করবো আবাহন।

একটা বছর কষ্ট করো

এই নিবেদন।।

চারদিকেতেই করোনা ত্রাস

ঘরে বাইরে খরা।

ত্রিনয়নের আগমনে

ধন‍্য হোক এই ধরা।।

শ্রীমান দাস

 ফাইলবন্দী


                  ------শ্রীমান দাস  


 প্রশংসায় আজ আর ভরেনা মন 

 উদ্যম ফেরেনা পুষ্পস্তবকে ,

 সুদের টাকা মুকুব হয়না

 ফাইলবন্দী শংসাপত্র দেখালে। 

 কিংবা , ধৌতজলেও হয়না উদরপূরণ,

 ভাতের থালায় যেতেই হয় কলমধরা হাত । 


  বাঁচতে হলে দু’মুঠো খেতে চাই  । 

  কাঁধে চাপে খাওয়ানোর দায় 

  চেপে ধরে আবদার , বায়না  কত কি !

  কলমধারী হাতে তখন কোদালের একনায়কতন্ত্র । 

  শংসাপত্র তখন শুধুই  ফাইলবন্দী নিস্ফলা কাগজ । 


  কোদাল চালানো ফোসকা পড়া হাতে 

  কলম ধরা বড়োই যন্ত্রনার । 

  গলার উত্তরীয় হয় ফাঁসির  উপাদান । ।

নীলাব্জা রায়

 এই সময়

               ------নীলাব্জা রায়


পোয়াল পোড়ায়        চাষী  ভাই

           সাথে পুড়ি মুই

বাতাস ভর্তি                কালো নেশা

           আকাশ ছুঁই ছুঁই।

মাংস ছেঁড়া               লোলুপ গ্রাসে

         অকাল বোধন, কাল নাচে

        মহাপ্রলয় আসবে চুপে

             হুঁশ ফিরল কই?

সুজন দেবনাথ

 শরৎ


-----সুজন দেবনাথ


শরৎ মানে মেঘ রোদ্দুর 

লুকোচুরির খেলা,

শরৎ মানে উঠুন জুড়ে 

শিউলি ফুলের মেলা।

শরৎ মানে শিশির ধোঁয়া 

কাশের বনে দোল,

শরৎ মানে ঢাকে কাঠি

আগমনীর বোল।

শরৎ মানে নতুন জামা

আনন্দ উৎসব, 

শরৎ মানে হইচই আর

খুশির কলরব।

শরৎ মানে ভোরে উঠে 

ফুল কুরনোর খেলা,

শরৎ মানে সারাটা দিন 

জমজমাটি মেলা।

শরৎ মানে চারি দিকটা

সাজো সাজো রব,

শরৎ মানে দোকানী দের

পশরা সাজানো পরব।

শরৎ মানে মন্ডপেতে

ঠাকুর দেখার পালা,

শরৎ মানে প্রতিযোগীর

দারুণ দারুণ খেলা।

শরৎ মানে পূজোর আড্ডায় 

মেতে উঠে মন,

শরৎ মানে খাওয়া দাওয়া 

দিব্যি কাটছে ক্ষন।

শরৎ মানে বিজয়াতে

সিঁদুর মাখামাখি,

শরৎ মানেই মায়ের ভাসান 

সবার বিসাদের মুখ দেখি।

কোথায় গেল সেই শরৎ 

আজ কেমন যেন দিন,

সাদা কালো লাগছে শরৎ

লাগছে না আর রঙিন। 

নেই যেন সেই কোলাহল 

আর পূজো পূজো রব,

চারিদিকটা স্তব্ধ যেন

লাগছে আজ নীরব।

কোথা হতে করোনা নামে

রাক্ষসী এক এল, 

হঠাৎ যেন সব আনন্দ 

মাটি করে দিল।

মা-গো

প্রতিবার তো অশুর বিনাশ 

করেছ ধরায় এসে,

এইবার তুমি এসো মাগো

করোনা বিনাশে। 

জা- গো- ও- ও, তুমি জা- আ- আ- আ গো।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মলাট (ষষ্ঠ সংখ্যা)


 

সূচিপত্র


 

সম্পাদকীয়

          প্রিয় পাঠক, আজ মনটা বড্ড ভারাক্রান্ত। কখনো প্রিয় জনের অকাল চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়া  কখনো বা প্রিয়জনের প্রিয়জনকে হারানোর আঘাত সইতে সইতে আজ বড্ড ক্লান্ত। সম্পাদকীয় লিখতে বসেছি দু-দুবার, কিন্তু লেখনী কথা বলতে চাইছে না। হঠাৎ চোখে পড়ল প্রিয় কবি কিশোর কুমার ভট্টাচার্যের বার্তা -------- "মেঘহীন শারদ আকাশের পূর্ব দিগন্তে বিকেলের পড়ন্ত বেলায় রামধনু দর্শন সত্যি অভাবনীয়। প্রকৃতির লীলাভূমিতে এখনো মেঘবালিকারা ছুটছে তাই তো তাদেরকে সাত রং-এ সাজাতে প্রয়াস ব্যর্থ হবে না"। মনে পড়ল প্রিয় কবি অমল কুমার মাজির কিছু কথা--------"আমার প্রাণের সাহিত্য নয়ন, আমার ভালোবাসার সাহিত্য নয়ন"। চোখে পড়ল রামধনু সংখ্যার পূর্ণতা লাভের পক্ষে যথার্থ কবি ও প্রচ্ছদ শিল্পী কবিতা সরকারের অংকিত প্রচ্ছদ খানি। চোখের সামনে ভেসে উঠলো সাহিত্য নয়নকে সাজাতে সম্মানিত কবি-লেখকদের রঙিন সৃষ্টি। তাতেই শক্তির যোগান পেল ক্লান্ত মন। সকলের সার্বিক সহযোগিতা এবং উষ্ণ অভ্যর্থনায় অভিভূত হয়ে আপনাদের ভালোবাসার টানে অনেক আশা এবং স্বপ্ন জড়িত আরও একটি নতুন সংখ্যা নিয়ে হাজির হলাম। সাহিত্য-সমুদ্রে যাত্রাপথে ষড়ঋতুর তিনটি ঋতুকে স্পর্শ করে এবারে প্রকাশিত হলো "সাহিত্য নয়ন"-এর "রামধনু" নামক ষষ্ঠতম সংখ্যা।  সূর্যের রশ্মি থেকে রামধনুর সাতটি রং আমাদের পরিবেশ ও মনকে প্রভাবিত করে। সূর্যের আলোয় মিশে থাকা সমস্ত রঙে নানা গাছ-পালা,  জীবসকল বেঁচে থাকে এবং সকল রঙের সমন্বয় মানুষকে সুস্থ, সবল, যশস্বী ও গৌরবান্বিত করে। এই সাত রঙের আলোকে আমাদের বাসগ্রহ থেকে কালো যবনিকা হোক ছিন্ন। চলুন আমরা সকলে মিলে তরী ভাসাই সাহিত্যের মহাসমুদ্রে। বাকি কথা হবে আগামী সুস্থ প্রভাতে।


 ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা সহ------- 

রাজেশ ভট্টাচার্য্য 

সম্পাদক, সাহিত্য নয়ন

কবিতা সরকার


 

    সত্যি কিংবা কল্পনাতে 

                      ----- কবিতা সরকার



যেতে চাই অনেক দূরে 

সত্যি কিংবা কল্পনাতে 

কোনো এক সুদূর দেশে বরফ ঢাকা পাহাড় পরে 

যেথায় রাঙা সূর্য ওঠে সকল প্রাতে খিলখিলিয়ে । 

ঢেউ হয়ে ফিরবো আমি, অফুরান সেই নদীর বুকে

কিংবা কোনো শীতের ভোরে 

যখন হিমেল হাওয়া লাগবে গায়ে

সেথায় আমি থাকবো জেনো 

ইচ্ছে করেই চুপটি করে । 



যেতে চাই অনেক দূরে 

সত্যি কিংবা কল্পনাতে 

তেপান্তরের মাঠের পরে 

যেথায় মেঘ মিশেছে মাটির সাথে, 

মরিচীকার আলিঙ্গনে । 

থাকবো আমি দিনের শেষে 

নিকেল হওয়া সন্ধ্যা রঙে, 

কিংবা সেই তালের গাছে 

যে বাবুইটা বাঁধছে বাসা 

আনন্দেতে দিনে - রাতে 

সেথায় আমি থাকবো জেনো 

তারই ঠোঁটে ব্যস্ত ভারী কর্মী হয়ে ।



যেতে চাই অনেক দূরে 

সত্যি কিংবা কল্পনাতে 

সব ছাড়িয়ে সেই আকাশ পরে

যেথায় মেঘ ভাসছে নৌকা হয়ে, 

থাকবো আমি চাঁদের দেশে 

চরকা কাটা সেই বুড়ির পাশে, 

কিংবা কভু জ্যোৎস্না রূপে 

পরবো ঝরে আঁধার রাতে 

সেথায় আমি থাকবো জেনো 

শুধুই তোমায় আলো দিতে । 



থাকবো আমি রামধনুর সেই 

রঙ ছড়ানো সাতটি রঙে, 

থাকবো আমি বৃষ্টি ফোঁটায় 

ঝড়বে যা মুক্তো হয়ে, 

থাকবো আমি সেই আলোতে 

যা পথ দেখাবে অন্ধকারে, 

থাকবো আমি শুষ্ক পাতায় 

যা পড়বে ঝড়ে মাটির বুকে, 

থাকবো আমি সুপ্ত বীজে 

যেথায় বৃক্ষ শিশু ঘুমিয়ে থাকে, 

থাকবো আমি লক্ষ-কোটি - যোজন দূরে 

টিমটিম সেই তারা হয়ে ।

কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


 

        ফেরিওয়ালা

                    -------কিশোর কুমার ভট্টাচার্য


হরেকমাল দু' টাকা ----

হাঁকে না আজ কোনো ফেরিওয়ালা ; আগে

তো মাথায় ছিলো বিরাট  বোঝা

চলার পথটি ছিল না সোজা।

পথ ছিল পায়ে হাঁটা

মেঠো পথে বিঁধতো কাঁটা। 

এখন কেউ জোরে  হাঁকে না

শুধু বলে,  হ্যালো! 

আপনার একটা পার্সেল 

বেশ! এ পর্যন্তই কথা

নির্দিষ্ট ঠিকানায় চলে আসে পার্সেল 

ওর পিঠে  বিরাট বোঝা 

বাহন মোটর সাইকেল

সে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করে----

সময়ের বিবর্তনে ঐ দিনের ফেরিওয়ালা 

আজ গাঁয়ের পথে পথে হাঁকে না,

সে বিলুপ্তপ্রায় হলেও 

সংসার নাট্যশালায় 

মোদের ফেরি---

বোঝা বয়ে চলা --- চিরজীবী। 


রচনাকাল:- ০৯-০৬--২০২০, মঙ্গলবার।